Advertisement
জেলে বসেই 'খলনায়ক: রিটার্নস'-এর ভাবনা, ৪ হাজার কয়েদিকে জড়ো করে কী কাণ্ড ঘটান সঞ্জুবাবা?
মুম্বই বিস্ফোরণ মামলায় সঞ্জুবাবা তখন জেলে। সেসময়ে 'খলনায়ক' সিক্যুয়েলের ভাবনা কীভাবে উঁকি দেয় অভিনেতার মনে?
নয়ের দশকের পর্দায় পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের ফ্রেমে ঝড় তুলেছিলেন 'অ্যাংরি ইয়ং ম্যান' সঞ্জয় দত্ত। যার 'খলনায়ক' অবতারে আজও কাঁপন ধরে দর্শকমনে! তিন দশক পেরিয়ে এবার ব্লকবাস্টার সেই ছবির সিক্যুয়েল আনতে চলেছেন সঞ্জয় দত্ত। সেই চেনা হাসি, কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুল আর রাফ অ্যান্ড টাফ অ্যাটিটিউড, 'খলনায়ক: রিটার্নস'-এর পোস্টারেই উন্মাদনার পারদ চড়ালেন সঞ্জুবাবা।
'নায়ক নহি খলনায়ক হুঁ ম্যায়...', ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার গান কয়েক দশক পেরিয়ে আজও দর্শক-শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে। সেই নস্টালজিয়া উসকেই সপ্তাহান্তে নয়া খলনায়ক অবতারে শোরগোল ফেললেন সঞ্জয় দত্ত। এদিকে 'বল্লু রাম বলরামে'র দুর্ধর্ষ প্রত্যাবর্তনের খবরে ভক্তমহলের উন্মাদনা তুঙ্গে।
সুভাষ ঘাই সৃষ্ট 'বল্লু' বলিউডের অন্যতম কাল্ট ক্লাসিক চরিত্র। এবার মুম্বইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে 'খলনায়ক: রিটার্নস'-এর ২টি লুক প্রকাশ্যে আনলেন সঞ্জয় দত্ত। যেগুলোর একটিতে সঞ্জয়কে দেখা যাচ্ছে গম্ভীর মুখে ধূমপান করতে। আর অন্যটিতে তাঁর সেই চিরচেনা রহস্যময় হাসি!
ক্যাপশনে উল্লেখ, 'সব কাহিনির একটা সময় থাকে, আর সেই সময়টা এবার চলে এসেছে।' আদতেই তাই, কিছু কাহিনি শেষ হয়েও যেন রেশ ছেড়ে যায়। আর 'খলনায়ক' তার মধ্যে অন্যতম। তবে জানেন কি, জেলে বসেই এই খলনায়ক সিক্যুয়েলের ভাবনা সঞ্জুবাবার মনে উঁকি দিয়েছিল। কীভাবে?
অভিনেতা নিজেই সেই কাহিনি ভাগ করে নিলেন। সঞ্জয় জানান, "১৯৯৩ সালের মুম্বই বিস্ফোরণ মামলায় আমি তখন কারাবাস। জেলে আমি প্রায় ৪,০০০ বন্দিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ,তাঁরা খলনায়ক-এর সিক্যুয়েল দেখতে চান কিনা?" আর ঠিক সেসময়েই তাঁর সহবন্দিরা যে প্রতিক্রিয়া দেন, তাতে তিনি নিজেই হতবাক হয়ে যান!
সঞ্জুবাবা বলেন, "সকলেই প্রায় একবাক্যে রাজি হয়েছিলেন। আমি তাঁদের প্রত্যেককে একপৃষ্ঠা করে গল্প লিখতে বলি। সেই ৪,০০০ পৃষ্ঠা পড়ে শেষ করতে আমার বেশ কিছুটা সময় লেগেছিল বটে, কিন্তু সবক'টা পড়ার পর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে সুভাষজিকে দেখিয়েছিলাম, তখনই তিনি বলেন যে, সিক্যুয়েল তৈরির সিদ্ধান্তে সায় দেন।"
আর ২৪ এপ্রিল 'খলনায়ক: রিটার্নস'-এর ঘোষণা করে তিন দশক আগের সেই স্বপ্নকেই বাস্তবায়িত করলেন সঞ্জুবাবা। সঞ্জয় দত্ত জানান, সুভাষ ঘাই ছাড়া 'খলনায়ক'-এর সফর অকল্পনীয়। পাশাপাশি পরিচালককে 'জীবন্ত কিংবদন্তি' বলেও সম্বোধন করেন অভিনেতা। আর যে পরিচালকের হাত ধরে বলিউড এহেন কাল্ট ক্লাসিক চরিত্র উপহার পেয়েছিল, তাঁর কী মত?
সিক্যুয়েলের ভাবনায় উচ্ছ্বসিত সুভাষ ঘাই বলছেন, "এটা সঞ্জয় এবং মান্যতার আন্তরিক ইচ্ছা ও আবেগের ফল। আমি নিশ্চিত, আরও ভালো কিছু হতে চলেছে। আমি সবসময় সাহায্যের জন্য প্রস্তুত।" সদ্য 'ধুরন্ধর'-এ এসপি চৌধুরীর চরিত্রে তাক লাগিয়েছেন সঞ্জুবাবা। এবার ৩৩ বছর বাদে 'খলনায়ক' সিক্যুয়েলে কেমন চমক দেন? কৌতূহলী ভক্তরা।
১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'খলনায়ক'-এ সঞ্জয় দত্তের 'অ্যান্টি-হিরো' ইমেজ যেমন দর্শকমনে ঝড় তুলেছিল, তেমনই জ্যাকি শ্রফ, মাধুরী দীক্ষিতের অভিনয়ও বহুল প্রশংসিত হয়েছিল। তবে 'খলনায়ক: রিটার্নস'-এ দুই বলিউড তারকাকে পাওয়া যাবে কিনা কিংবা পুরনো গল্পের রেশ ধরেই সিক্যুয়েল শুরু হবে কিনা, সেটা স্পষ্ট করেননি সঞ্জয় দত্ত।
খবর, আপাতত চিত্রনাট্যের খসড়া তৈরি হচ্ছে। সুভাষ ঘাইয়ের 'মুক্তা আর্টস'-এর থেকে ছবিটির সিক্যুয়েলের জন্য যৌথভাবে স্বত্ব কিনে নিয়েছে সঞ্জয় দত্তের প্রযোজনা সংস্থা 'থ্রি ডাইমেনশন মোশন পিকচার্স'এবং 'অ্যাসপেক্ট এন্টারটেইনমেন্ট'। তবে উল্লেখ্য, সিক্যুয়েলের লুকে কিন্তু বলিউডের 'আলফা মেল' ট্রেন্ডের আভাস দিয়েছেন সঞ্জয় দত্ত। (ছবি- সংগৃহীত)
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 05:29 PM Apr 25, 2026Updated: 05:29 PM Apr 25, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
