Advertisement
হিটওয়েভে নাজেহাল শরীর, হার্টের সুরক্ষায় ডায়েটে রাখুন এই ৮ 'কুলিং' সুপারফুড
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে শুধু শরীরই ক্লান্ত হয়ে পড়ে না, বাড়তি চাপ পড়ে হৃদ্যন্ত্রের উপরও। তাপমাত্রা বাড়লে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে হৃদ্যন্ত্রকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করতে হয়। ফলে ডিহাইড্রেশন, রক্তচাপের ওঠানামা, দুর্বলতা এবং হৃদ্রোগীদের ক্ষেত্রে নানা জটিলতার আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, গরমের সময়ে পর্যাপ্ত জলপান যেমন জরুরি, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ সঠিক খাবার বেছে নেওয়া। এমন কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলি শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি হৃদ্স্বাস্থ্যেরও যত্ন নেয়। জলীয় উপাদান, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় খনিজে ভরপুর এই খাবারগুলি গরমে হৃদ্যন্ত্রকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
তরমুজ: গরমের সঙ্গে তরমুজের সম্পর্ক যেন অবিচ্ছেদ্য। প্রায় ৯২ শতাংশ জলসমৃদ্ধ এই ফল শরীরকে দ্রুত হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। তরমুজে থাকা লাইকোপেন নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর ভূমিকা নেয়। পাশাপাশি পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
শসা: গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে শসার জুড়ি মেলা ভার। জলসমৃদ্ধ এই ফলে ক্যালরি কম, কিন্তু পুষ্টিগুণ যথেষ্ট। শসা শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি, হজমেও সাহায্য করে। নিয়মিত শসা খেলে গরমের ক্লান্তি অনেকটাই কমতে পারে।
ডাবের জল: প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট পানীয় হিসেবে ডাবের জল অত্যন্ত উপকারী। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও অন্যান্য খনিজের ঘাটতি পূরণে এটি সাহায্য করে। হৃদ্যন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতেও ডাবের জলের ভূমিকা রয়েছে।
লাউ: গরমকালের অন্যতম উপকারী সবজি লাউ। এতে প্রচুর পরিমাণে জল থাকে এবং এটি অত্যন্ত সহজপাচ্য। শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি হজমেও সাহায্য করে। হৃদ্রোগীদের জন্য হালকা ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে লাউ ভালো বিকল্প হতে পারে।
দইয়ের ঘোল: গরমে বাঙালির অন্যতম প্রিয় সঙ্গী ঘোল। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া। এগুলি হজম ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরকে সতেজ রাখে। দুপুরের খাবারের পরে এক গ্লাস ঘোল গরমের অস্বস্তি কমাতে কার্যকর হতে পারে।
বেদানা: বেদানায় রয়েছে প্রচুর পলিফেনল এবং অন্যান্য শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা রক্তনালির কার্যকারিতা ভালো রাখতে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত বেদানা খেলে হৃদ্স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
শাক: পালং, মেথি, লেটুসসহ বিভিন্ন সবুজ শাকপাতা হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এগুলিতে থাকা নাইট্রেট, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং রক্তসঞ্চালন ভালো রাখে। গরমের দিনে স্যালাড বা হালকা রান্না করা শাক হতে পারে আদর্শ পছন্দ।
ওটস ও গোটা শস্য: ওটসকে সরাসরি শরীর ঠান্ডা রাখার খাবার বলা না গেলেও এটি হৃদ্স্বাস্থ্যের অন্যতম বন্ধু। ওটসে থাকা বিটা-গ্লুকান নামের বিশেষ ফাইবার খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে এবং শরীরে স্থায়ী শক্তি জোগায়। গরমের দিনে ফল মিশিয়ে ওটস খেলে পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।
এবার প্রশ্ন, কেন জরুরি এই খাবারগুলি। গরমের সময়ে হৃদ্যন্ত্রকে সুস্থ রাখতে শুধু ওষুধের উপর নির্ভর করলেই হবে না। খাদ্যাভ্যাসেও আনতে হবে সচেতন পরিবর্তন। জলসমৃদ্ধ ফল, শাকসবজি, প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট এবং ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই তাপমাত্রার পারদ যতই চড়ুক, পাতে যদি থাকে এই খাবারগুলি, তবে গরমের ধকল সামলানো কিছুটা সহজ হতে পারে।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 07:35 PM May 30, 2026Updated: 07:35 PM May 30, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
