Advertisement
ব্রাজিলের ৭ গোল হজম মেসি-মারাদোনার 'আজব' হার! বিশ্বকাপ কাঁপিয়ে দিয়েছিল যে অঘটনগুলো
এবার অঘটন ঘটাবে কোন দেশ?
ফুটবল বিশ্বকাপ হবে, আর অঘটন হবে না, তা কি হয়? ৯২ বছরের বিশ্বকাপের ইতিহাসে বহু অঘটন ঘটেছে। এবারও নিশ্চিতভাবে হবে। সব গল্প বলা সম্ভব নয়। তবে তুলে দেওয়া যাক, সেরকম কয়েকটি ঘটনা। যেখানে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়ে শক্তিশালী দলকে হারিয়ে দিয়েছিল 'দুর্বল' দল।
আমেরিকা-ইংল্যান্ড (১৯৫০): ব্রাজিলে ১৯৫০ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ছিল অন্যতম ফেভারিট। আশা করা হয়েছিল যে তারা খুব সহজেই আমেরিকাকে পরাজিত করবে। সেই সময় আমেরিকা ছিল পার্ট-টাইম ফুটবলারে ভর্তি। ৩৮ মিনিটে আমেরিকার হয়ে গোল করেন ব্রুকলিনের রেস্তরাঁয় বাসন মাজার কাজ করা জো গেজেন্স। গোলকিপার ফ্র্যাঙ্ক বোরঘি অসাধারণ খেলেন।
পশ্চিম জার্মানি-হাঙ্গেরি (১৯৫৪): গ্রুপ পর্বে হাঙ্গেরি জিতেছিল ৮-৩ গোলে। সেবারের বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে ২৭ গোল করেছিল কিংবদন্তি ফেরেঙ্ক পুসকাসের হাঙ্গেরি। কিন্তু ফাইনালে সকলকে চমকে দিয়ে পশ্চিম জার্মানি জেতে ৩-২ গোলে। প্রথমে জোড়া গোলে এগিয়ে যায় হাঙ্গেরিই। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে সমতা ফেরায় পশ্চিম জার্মানি। শেষমেশ জয়ের গোল করেন হেলমুট রাহন। এই প্রত্যাবর্তন মিরাকল অব বার্ন নামে ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।
উত্তর কোরিয়া-ইটালি (১৯৬৬): ঠান্ডা যুদ্ধের সময় ইংল্যান্ডের মাটিতে উত্তর কোরিয়ার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েই সংশয় ছিল। তাদের সামনে ছিল তখন দু'বারের বিশ্বজয়ী ইটালি। কিন্তু জিয়াকোমো বুলগারেলির চোটে ১০ জন হয়ে যায় ইটালি। যার সুযোগ নিয়ে পাক দু ইকের করা একমাত্র গোলে আজ্জুরিদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দেয় উত্তর কোরিয়া। আজও ওই ম্যাচের টিকিট ফিফার ফুটবল মিউজিয়ামে রাখা আছে।
আলজেরিয়া-পশ্চিম জার্মানি (১৯৮২): হানসি মুলার, উলফগ্যাং ড্রেমলার, কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে এবং লোথার ম্যাথেউসের মতো তারকায় সমৃদ্ধ পশ্চিম জার্মানি। কিন্তু জার্মানির বিপদ ডেকে আনে তাদের অতি আত্মবিশ্বাস। ৫৪ মিনিটে রাবাহ মাদজার গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় আলজেরিয়া। রুমেনিগে সমতা ফেরানোর পর লখদার বেল্লুমি আলজেরিয়াকে ২-১ গোলে জিতিয়ে দেয়।
ক্যামেরুন-আর্জেন্টিনা (১৯৯০): তার আগের বিশ্বকাপেই দিয়েগো মারাদোনা বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন। ১৯৯০-এও আর্জেন্টিনাই ছিল ফেভারিট। সেবার বিশ্বকাপে অভিষেক হয় ক্যামেরুনের। ইটালির সান সিরোতে নীল-সাদা জার্সিধারীদের আধিপত্য থাকলেও ফ্রাঁসোয়া ওমাম-বিয়িক একটি ফ্রি-কিকে হেডে গোল করে ক্যামেরুনকে জিতিয়ে দেন। ধাক্কা সামলেও আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি।
ফ্রান্স-সেনেগাল (২০০২): বিশ্বকাপের একটা 'মিথ' আছে। চ্যাম্পিয়ন দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ১৯৯৮-র বিশ্বকাপ, ২০০০-র ইউরো জেতার পর তাদের সামনে ছিল প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা সেনেগাল। ৩০ মিনিটে ম্যাচের একটি মাত্র গোল করেন সেনেগালের পাপা বৌবা দিওপ। ওই ম্যাচে খেলেননি জিনেদিন জিদান। কোনও ম্যাচ না জিতে গ্রুপের শেষে থেকে বিদায় নেয় ফ্রান্স।
নেদারল্যান্ডস-স্পেন (২০১৪): আগের বিশ্বকাপে শুরুতে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেও চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। কিন্তু এবারও সেই 'চ্যাম্পিয়ন কার্স'। তাদের সামনে ছিল নেদারল্যান্ডস। ফাইনালে হারের মধুর প্রতিশোধ আর্জেন রবেনরা। কিন্তু সেটা একেবারে ৫-১ গোলে জাভি-ইনিয়েস্তাদের নাকানিচোবানি খাইয়ে। আইকনিক হয়ে আছে ভ্যান পার্সির 'ফ্লাইং ডাচম্যান' গোলটি।
ব্রাজিল-জার্মানি (২০১৪): ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ। সেমিফাইনালে নামার আগে প্রবলও উন্মাদনা মারাকানা স্টেডিয়াম জুড়ে। তবে এই ম্যাচে ছিলেন না নেইমার ও ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা। কিন্তু যে কোনও ব্রাজিল ভক্ত ভুলে যেতে চাইবে দুঃস্বপ্নের ৯০ মিনিট। ম্যাচটা ৭-১ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। ২৩ থেকে ২৯ মিনিটের মধ্যে ৪ গোল করে মাঠ, গ্যালারি ও গোটা দেশকে নিস্তব্ধ করে দেন থমাস মুলাররা।
দক্ষিণ কোরিয়া-জার্মানি (২০১৮): এবারও সেই চ্যাম্পিয়ন কার্স। গ্রুপে সবার শেষে ছিল জার্মানি। পরের পর্বে যেতে শেষ ম্যাচ জিততেই হত মেসিট ওজিলদের। দীর্ঘসময় ড্রয়ের পর কিম ইয়ং-গওন কর্নার থেকে গোল করে কোরিয়াকে এগিয়ে দেন। এরপর ম্যানুয়েল ন্যয়ার গোল দিতে উঠে গেলে হিউন মিং সন ফের গোল করেন।
সৌদি আরব-আর্জেন্টিনা (২০২২): আর্জেন্টিনা কাতার বিশ্বকাপে এসেছিল টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড নিয়ে। ম্যাচের দশম মিনিটে লিওনেল মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। কিন্তু অফসাইডে একাধিক গোল বাতিল হয়। দ্বিতীয়ার্ধে ছবিটা পুরো বদলে যায়। ৪৮ মিনিটে সালেহ আল-শেহরি ও সালেম আল দাওসারি গোল করেন। সৌদি আরব জেতে ২-১। তবে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনাই।
Published By: Arpan DasPosted: 05:52 PM May 27, 2026Updated: 05:52 PM May 27, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
