Advertisement
রূপচর্চায় রাজকীয় স্নান, প্রাচীন এই ৬ রীতিতেই লুকিয়ে সৌন্দর্যের চাবিকাঠি
মনে করুন বিলাসবহুল এক স্নানঘর। আর স্নানঘরের বাথটাবে শরীর ডুবিয়ে বসে রয়েছেন আপনি। কিন্তু সেই বাথটাবে জলের বদলে রয়েছে দুধ, খাঁটি মধু, গোলাপের পাপড়ি। কিংবা ধরুন চাল ধোয়া জল। শুধু তাই নয়, রয়েছে আরও অবাক করা সব প্রাকৃতিক ভেষজ। বিলাসিতার এমন সুযোগটি পেলে আপনি কি ছেড়ে দেবেন? আজ আপনাদের জানাব পৃথিবীর সেরকমই ৬টি বিলাসবহুল ও ঐতিহ্যবাহী স্নান-রীতির কথা, যা রূপচর্চার দুনিয়ায় আজও প্রাসঙ্গিক।
মনে করুন বিলাসবহুল এক স্নানঘর। আর স্নানঘরের বাথটাবে শরীর ডুবিয়ে বসে রয়েছেন আপনি। কিন্তু সেই বাথটাবে জলের বদলে রয়েছে দুধ, খাঁটি মধু, গোলাপের পাপড়ি। কিংবা ধরুন চাল ধোয়া জল। শুধু তাই নয়, রয়েছে আরও অবাক করা সব প্রাকৃতিক ভেষজ। বিলাসিতার এমন সুযোগটি পেলে আপনি কি ছেড়ে দেবেন? আজ আপনাদের জানাব পৃথিবীর সেরকমই ৬টি বিলাসবহুল ও ঐতিহ্যবাহী স্নান-রীতির কথা, যা রূপচর্চার দুনিয়ায় আজও প্রাসঙ্গিক।
ক্লিওপেট্রার মিল্ক গ্লো: মিশরের রানি ক্লিওপেট্রার রূপের রহস্য ছিল তাঁর বিশেষ স্নান পদ্ধতি। তিনি গাধার দুধ, খাঁটি মধু এবং ল্যাভেন্ডার অয়েল মেশানো ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করতেন। দুধে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের মৃত কোশ দূর করে ত্বককে নরম রাখে। এই স্নান শরীরকে মখমলের মতো কোমল এবং উজ্জ্বল করে তোলে। রাজকীয় এই রূপচর্চা আজও আভিজাত্যের প্রতীক।
ল্যাভেন্ডার কাম বাথ: ফ্রান্সের প্রোভেন্স অঞ্চলের ল্যাভেন্ডার খেতের সুবাস মন ভালো করতে বাধ্য। ফরাসিরা ক্লান্তি দূর করতে ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল এবং শুকনো ফুল জলে মিশিয়ে স্নান করেন। এটি কেবল ত্বকের জন্য ভালো নয়, অনিদ্রা দূর করতেও দারুণ কাজ করে। স্নানের এই ফরাসি কায়দা স্নায়ুকে শান্ত করে এবং শরীরকে এক অদ্ভুত প্রশান্তি দেয়।
ফ্লাওয়ার পেটাল সোক: ভারতের আয়ুর্বেদিক ঐতিহ্যে স্নান এক পরম তৃপ্তি। গোলাপ, গাঁদা এবং জুঁই ফুলের পাপড়ি ছড়ানো জলে স্নানের চল বহু প্রাচীন। সঙ্গে মেশানো হয় চন্দন এবং কাঁচা হলুদ। এই স্নান ত্বককে গভীরভাবে পরিষ্কার করে এবং প্রাকৃতিক সুবাসে শরীর ভরিয়ে দেয়। ভারতীয় রাজপরিবারের এই বনেদি স্নান-রীতি মন ও শরীর দুই-ই তরতাজা রাখে।
জাপানের জেন থেরাপি: জাপানি সংস্কৃতিতে স্নান কেবল শরীর পরিষ্কার করা নয়, মনকে শুদ্ধ করা। সামুদ্রিক শৈবাল বা সিউইড এবং আদার রস মেশানো গরম জলে তাঁরা স্নান করেন। আদা শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং পেশির ব্যথা কমায়। অন্যদিকে, সিউইড ত্বকে খনিজ পুষ্টি জোগায়। শরীর থেকে সমস্ত টক্সিন বা দূষিত পদার্থ বের করতে এই স্নান অতুলনীয়।
রয়্যাল রাইস ওয়াটার বাথ: কোরিয়ানদের কাচের মতো চকচকে ত্বকের রহস্য লুকিয়ে আছে চাল ধোয়া জলে। প্রাচীন কোরিয়ার রাজপরিবারের মহিলারা চাল ভেজানো জলে স্নান করতেন। এই জলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। এটি ত্বকের দাগছোপ দূর করে এবং গায়ের রং উজ্জ্বল করে। ঘরোয়া উপায়ে নিখুঁত ত্বক পাওয়ার জন্য এই কোরিয়ান স্নান-রীতি আজও বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়।
হামাম বাথ: মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী হামাম বাথ সম্পর্কে জানেন? এটি মূলত একটি ইউক্যালিপটাস বাষ্প স্নান। এক্ষেত্রে গরম জলের বাষ্পের সঙ্গে ইউক্যালিপটাসের নির্যাস মেশানো হয়। এই স্নানে প্রথমে গরম বাষ্পে শরীরকে নরম করা হয়। তারপর কালো সাবান বা ‘স্যাভন নয়ার’ দিয়ে পুরো শরীর মালিশ করা হয়। বিশেষ দস্তানা দিয়ে স্ক্রাব করে ত্বকের সব ময়লা দূর করা হয়। এই স্নান শরীরের ক্লান্তি দূর করে এক নতুন এনার্জি এনে দেয়।
আজকের ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন হয়তো এই আয়োজন সম্ভব নয়। তবে সপ্তাহ শেষে একটা দিন আপনিও বেছে নিতে পারেন এই পদ্ধতিগুলোর যেকোনও একটি। সামান্য কিছু প্রাকৃতিক উপাদান আর একটু সময়, ব্যস! বাড়িতেই তৈরি হয়ে যাবে আপনার নিজস্ব স্পা। এই প্রাচীন স্নান-রীতিগুলো কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়ায় না, ভেতরের মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে করে তোলে চনমনে।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 07:51 PM May 26, 2026Updated: 08:09 PM May 26, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
