Advertisement
কী ভয়ংকর! এই 'অভিশপ্ত' গানগুলি ডেকে আনতে পারে মৃত্যু, আপনার প্লে লিস্টে নেই তো?
সারা বিশ্বে বহু গান ঘিরেই রয়েছে এমন আতঙ্কের জলছাপ! 'অভিশপ্ত' এই গানগুলিকে চর্চারও শেষ নেই।
জীবনকে প্রকাশ করার এক অনন্য মাধ্যম সঙ্গীত। গান ভুলিয়ে দেয় বিচ্ছেদের ব্যথা, অপমানের জ্বালা। সেই হিসেবে গান এক মহৌষধও বটে। কিন্তু ভাবতে পারেন, সেই গানই ডেকে আনতে পারে মৃত্যু? শ্রোতাকে ঠেলে দিতে পারে আত্মহত্যার দিকেও? সারা বিশ্বে বহু গান ঘিরেই রয়েছে এমন আতঙ্কের জলছাপ! 'অভিশপ্ত' এই গানগুলিকে চর্চারও শেষ নেই।
আর এই গানগুলির মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত ‘গ্লুমি সানডে’। হাঙ্গেরির পিয়ানোবাদক তথা সুরকার রেজসো সেরেসে ১৯৩৩ সালে এই গানটি তৈরি করেন। বিষণ্ণ রবিবারের এই গান বোধহয় পৃথিবীর সবচেয়ে কুখ্যাত গান। বলা হয়, এই গান শুনে নাকি অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন! যদিও গবেষকদের মতে, সেই সময়ের 'গ্রেট ডিপ্রেশন' এবং দারিদ্রই নাকি আসল কারণ। তবুও এই গান ঘিরেই ঘনিয়েছে অভিশাপের সুর!
এমনই আরেক গান কিংবদন্তি ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার 'মাই ওয়ে'।১৯৬৭ সালের এক ফরাসি গানের ইংরেজি রূপান্তর ১৯৬৯ সালের এই গানটি। ফিলিপিন্সে কারাওকে বারে গানটি গাইতে গিয়ে খুন হয়েছেন বহু গায়ক! কারাওকে বারগুলিতে এই গান কেউ ভুলেও গান না। কিন্তু এই গান গাইলে খুন হতে হয় কেন? শোনা যায়, গানের কথার ভিতরের ঔদ্ধত্য কিংবা বেসুরো গলায় গাওয়ার ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন শ্রোতা!
১৭২৬ সালে ইতালীয় বেহালাবাদক জিউসেপ্পে তারতিনি তৈরি করেন 'দ্য ডেভিল'স ট্রিল সোনাটা'। সুরকারের দাবি ছিল, শয়তান স্বপ্নে তাঁর কাছে আবির্ভূত হয়ে আশ্চর্যজনক দক্ষতায় বেহালা বাজাচ্ছিল। ঘুম ভেঙে সেটাই রচনা করেন তারতিনি। যদিও তাঁর মতে স্বপ্নে প্রাপ্ত সুরটি আরও ভালো ছিল। আজও বেহালাবাদকরা বলেন, এই সুরের স্বরলিপি আক্ষরিক অর্থেই শয়তানের কণ্ঠস্বর! তাই এই গানকেও 'অভিশপ্ত' বলেই মনে করা হয়।
পাকিস্তানি গায়ক আমানত আলি খানের 'ইনসা জি উঠো'কে ঘিরেও রয়েছে মৃত্যুর নীল কুয়াশার স্তর। পাকিস্তানি কবি ইবনে ইনশা একটি কবিতা লেখেন। সেই কবিতাকেই গজল হিসেবে গাইতে থাকেন আমানত। টেলিভিশনে গানটি পরিবেশন করার পরই ৫২ বছর বয়সে অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত হয়ে খান মারা যান তিনি। এর ঠিক চার বছর পর সেই একই তারিখে গানটির রচয়িতা কবি ইনশাও ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
এবারের গানটির নাম 'ডেড ম্যানস কার্ভ'। ১৯৬৪ সালের গানটিতে রয়েছে অদ্ভুত ভবিষ্যদ্বাণী। 'দ্য বিচ বয়েজ'-এর গানটির কথায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর মুখে পড়ার কথা বলা হয়েছিল। এর ঠিক দু'বছর পর সত্যিই ব্যান্ডের প্রধান গীতিকার জ্যান বেরি গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। তাও গানটির পটভূমি থেকে মাত্র ছয় মাইল দূরে! প্রশ্ন ওঠে, গানটি কি তবে কোনও অভিশাপ হয়ে নেমে এসেছিল?
তালিকায় রয়েছে বিটলসও। ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত গান 'রেভোলিউশন ৯' গানটি ঘিরে রয়েছে আশ্চর্য মিথ। মনে করা হয়, গানটিতে বারবার পুনরাবৃত্ত হওয়া 'নাম্বার নাইন' কথা উলটো করে সাজালে দাঁড়াবে 'টার্ন মি অন, ডেড ম্যান'! এটিকে অত্যন্ত অশুভ সংকেত হিসেবে গণ্য করেন 'ষড়যন্ত্র তত্ত্বে'র বক্তারা। এমনও মনে করা হয়, গানটির বিভ্রান্তিকর লুপের মধ্যে যে বিশৃঙ্খলা, সেটাই গানটিকে এমন অভিশপ্ত করে তুলেছে।
Published By: Biswadip DeyPosted: 08:14 PM May 26, 2026Updated: 08:14 PM May 26, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
