Advertisement
নিজেকে ভ্রমণপ্রেমী বলেন? 'হেরিটেজ' তকমা পাওয়া দেশের এই ১০ ঠিকানায় ঘুরেছেন তো!
'হেরিটেজ' তকমা পাওয়া দেশের এই স্থানগুলি ঘোরেননি এমন ভ্রমণপিয়াসীর সংখ্যা কম। এখানে ভ্রমণ মানে কেবল ভিড় জমানো নয়, বরং সময়ের অতল গহ্বরে হারিয়ে গিয়ে ভারতবর্ষকে নতুন করে চিনে নেওয়া।
ইতিহাসের ধুলোমাখা রাজপথ হোক বা পাথরে খোদাই করা স্থাপত্য— ভারতের আত্মা আজও স্পন্দিত হয় তার ঐতিহ্যে। 'হেরিটেজ' তকমা পাওয়া দেশের এই স্থানগুলি ঘোরেননি এমন ভ্রমণপ্রেমীর সংখ্যা কম। এখানে ভ্রমণ মানে কেবল ভিড় জমানো নয়, বরং সময়ের অতল গহ্বরে হারিয়ে গিয়ে ভারতবর্ষকে নতুন করে চিনে নেওয়া।
তাজমহল: যমুনার তীরে বিরহ-গাথা। সাদা মার্বেলের ওপর চাঁদের আলোর লুটোপুটি। শাহজাহানের এই স্থাপত্য যেন জ্যামিতিক নিখুঁত এক কবিতা। মুমতাজ মহলের স্মৃতিতে গড়া এই সৌধের কারুকাজ দেখলে আজও সময় থমকে দাঁড়ায়। এটি শুধু স্থাপত্য নয়, পাথরে খোদাই করা এক অনন্ত প্রেমের নিদর্শন।
কুতুব মিনার: আকাশছোঁয়া সুলতানি দর্প। দিল্লির রোদে ঝিলিক দিয়ে ওঠে লাল বেলেপাথরের স্পর্ধা। পঞ্চদশ শতাব্দীর এই বিজয়স্তম্ভের গায়ে ফারসি ও হিন্দু স্থাপত্যের অদ্ভুত এক মিতালি। এর শীর্ষের দিকে তাকালে মধ্যযুগের দিল্লির বৈভব আর ক্ষমতার দাপট আজও স্পষ্ট অনুভূত হয়।
লাল কেল্লা: মুঘল শৌর্যের চূড়ান্ত নিদর্শন এই দুর্গ। দিওয়ান-ই-আম থেকে খাস মহল— প্রতিটি কোণ যেন এক একটি আস্ত আখ্যান। প্রতি বছর ১৫ই আগস্ট এখান থেকেই বেজে ওঠে আধুনিক ভারতের সুর। এটি ভারতের আভিজাত্য আর লড়াইয়ের মূর্ত প্রতীক।
আগ্রা ফোর্ট: তাজের কাছে থেকেও এ যেন এক নিঃসঙ্গ দুর্গ। লাল পাথরের প্রকাণ্ড প্রাচীরের অন্তরালে লুকিয়ে আছে মুঘল অন্দরের গোপন কথকতা। মুসাম্মান বুর্জের জাফরি কাটা জানলা দিয়ে বন্দি শাহজাহানের তাজ-দর্শন আজও পর্যটকদের চোখে জল এনে দেয়।
হাম্পি: তুঙ্গভদ্রার পাথুরে রূপকথা। বিজয়নগর সাম্রাজ্যের ধ্বংসাবশেষ যেন এক মায়াবী গোলকধাঁধা। দিগন্তজোড়া গ্রানাইট বোল্ডার আর তার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা বিরূপাক্ষ মন্দির। ভোরের কুয়াশায় হাম্পি দেখলে মনে হয়, সময়ের স্রোত বুঝি এখানেই উল্টো দিকে বইতে শুরু করেছে।
অজন্তা-ইলোরা: ওয়াঘোরা নদীর বাঁকে এক অরণ্যঘেরা পাহাড়ে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের শিল্পসাধনা। প্রদীপ হাতে গুহার অন্ধকার গহ্বরে পদ্মপাণি বোধিসত্ত্বের সেই অপার্থিব চাহনি আজও রহস্যময়। পাথরে খোদাই করা এমন সূক্ষ্ম শিল্পকলা বিশ্বের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া বিরল।
কোণারক: সূর্যদেবের এই পাথুরে রথ যেন সময়ের আধার। প্রকাণ্ড সব চাকাগুলি নিখুঁত ভাবে দিন আর রাতের প্রহরের হিসেব দেয়। রথের চাকায় মহাকালের হিসেব। মন্দিরের গায়ের মিথুন মূর্তি আর জ্যামিতিক অলংকরণ প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞান আর শিল্পের মেলবন্ধনের এক অনন্য দলিল।
খাজুরাহো: চন্দেল রাজাদের এই সৃষ্টি যেন রক্তমাংসের জীবন্ত ভাস্কর্য। কাম, প্রেম আর আধ্যাত্মিকতার এমন সহজ সহাবস্থান পৃথিবীর আর কোথাও নেই। পাথর কেটে খোদাই করা অপ্সরাদের লালিত্য আজও পর্যটকদের শৈল্পিক মনকে তৃপ্ত করে, মুগ্ধ করে বিশ্বকে।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 06:50 PM Feb 01, 2026Updated: 06:56 PM Feb 01, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
