Advertisement
রাম-বামের প্রথম প্রার্থী তালিকায় একাধিক চমক, ছাব্বিশে ভোটবাক্সে ফল মিলবে?
একনজরে দেখে নিন এই তালিকায় স্থান পেলেন কারা।
২০২৫-এর উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন বোমাবাজিতে মৃত্যু হয়েছিল নদিয়ার কালীগঞ্জের কিশোরী তামান্না খাতুনের। তারপর পেরিয়েছে দীর্ঘদিন। সুবিচারের আশায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন মৃতার মা সাবিনা ইয়াসমিন। আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন তিনি। গত এক বছরে বারবার বিভিন্ন ইস্যুতে উঠে এসেছে তামান্নার নাম। ছাব্বিশে বামেদের প্রার্থী তালিকায় সেই তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। কালীগঞ্জ আসন থেকে লড়বেন তিনি। যা নিঃসন্দেহে বড় চমক।
অত্যন্ত ভাবনাচিন্তা করে প্রার্থী বাছাই করেছে বিজেপি। তালিকায় রয়েছে সমাজের সব স্তরের মানুষ। তপশিলি সংক্ষরিত আউশগ্রাম থেকে লড়বেন পেশায় পরিচারিকা কলিতা মাজি। ২০২১ সালেও প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। তবে জিততে পারেননি। এখনও লোকের বাড়িতে কাজ করেই সংসার চালান তিনি। এবার ফের বিজেপির হয়ে ভোটের ময়দানে সেই কলিতা।
বঙ্গ রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে বড় নাম বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। বলিষ্ঠ আইনজীবী, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন তিনি। গত কয়েকবছরের রাজ্যের বিরুদ্ধে একাধিকবার আদালতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। শূন্যের গেরো কাটাতে এবার সেই বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকেই ভোটের ময়দানে নামিয়েছে লালপার্টি। সুজন চক্রবর্তী, সৃজন ভট্টাচার্যের নাম শোনা গেলেও তালিকা প্রকাশিত হতেই দেখা গেল যাদবপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে।
বাংলায় বিজেপির যেটুকু উত্থান হয়েছে তার নেপথ্যে যে দিলীপ ঘোষ, তা বলাই বাহুল্য। আদি-নব্য দ্বন্দ্বে গত কয়েকবছরে দলের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছিল তাঁর। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে পছন্দের আসন দেওয়া হয়নি তাঁকে। পরবর্তীতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে আরও। কিন্তু তাতে দলের যে লাভ হয়েছে, তা একেবারেই নয়। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে খোদ শাহ মান ভাঙিয়েছে দিলীপের। এবার ফের পছন্দের আসনেই তাঁকে প্রার্থী করেছে পদ্মশিবির।
শূন্য কাটাতে ছাব্বিশেও একঝাঁক তরুণ মুখকে প্রার্থী করেছে বামেরা। সেই তালিকায় রয়েছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। মাঠে-ময়দানে নেমে লড়াই করেন তিনি। মাটির সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগ। সেটাকেই ছাব্বিশের নির্বাচনেও কাজ লাগাতে চাইছে লাল পার্টি। তবে তাঁর আসন বদল করা হয়েছে। এবার উত্তরপাড়া থেকে লড়বেন মীনাক্ষী।
এই মুহূ্র্তে বঙ্গ রাজনীতির অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ নাম শুভেন্দু অধিকারী। বর্তমানে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তিনি। একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াই করেছিলেন। সামান্য ভোটে জিতলেও তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ, লোডশেডিং করে গণনায় কারচুপি করেছিলেন শুভেন্দু। এবারও সেই শুভেন্দুতেই আস্থা বঙ্গ বিজেপির। এবার একসঙ্গে দুটি আসনে তাঁকে প্রার্থী করেছে দল। একটি তাঁর চেনা জমি নন্দীগ্রাম, অন্যটি মুখ্যমন্ত্রী গড় ভবানীপুর।
বামেদের তরুণ তুর্কিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম দীপ্সিতা ধর। হাওড়ার বালির বাসিন্দা। গোটা পরিবার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে ছোটবেলা থেকেই বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে দীপ্সিতা। একুশের বিধানসভা নির্বাচনেও দীপ্সিতাকে ময়দানে নেমে লড়াইয়ের সুযোগ দিয়েছিল দল। যদিও জিততে পারেননি। তবে তাতে লড়াই থামাননি। ছাব্বিশে ফের সেই দীপ্সিতাতেই ভরসা করল সিপিএম। তবে এবার বদলেছে কেন্দ্র। বালির তরুণী এবার লড়বেন উত্তর দমদম আসনে।
বিজেপির প্রার্থী তালিকার বড় চমক সন্তু পান। সাংবাদিক হিসেবে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বেশ পরিচিত নাম হয়ে উঠেছিলেন তিনি। বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপির হয়ে সুর চড়িয়েছিলেন। সম্প্রতি চাকরি ছেড়ে বিজেপির পতাকা হাতে নেন তিনি। সেই থেকেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, এবার বিজেপির হয়ে ভোটের ময়দানে নামতেন তিনি। সত্যি হয়েছে সেই জল্পনা। তারকেশ্বর আসনে তাঁকে প্রার্থী করেছে পদ্মশিবির।
বঙ্গ রাজনীতির অত্যন্ত পরিচিত নাম স্বপন দাশগুপ্ত। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে জড়িয়ে তিনি। রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছে। ছাব্বিশে সেই স্বপন দাশগুপ্তকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এবার খাস কলকাতার রাসবিহারী আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।
২০১১ সালের পর থেকে এক পা-ও এগোতে পারেনি বামেরা। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পিছিয়ে গিয়েছে। এর জন্য একাংশ দাবি করেছে, পক্ককেশের নেতাদের সরিয়ে তরুণদের প্রাধান্য দিলেই নাকি হাল ফিরবে লালের। ছাব্বিশের প্রার্থী তালিকায় দেখা যাচ্ছে তারণ্যেরই জয়জয়কার। এবার রাজারহাট-নিউটাউন আসনে লড়বেন বর্ষীয়ান বাম নেতা গৌতম দেবের পুত্র সপ্তর্ষি দেব।
এক সময়ে তৃণমূল করলেও বেশ কয়েকবছর ধরে বিজেপির একনিষ্ঠ কর্মী অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। একুশের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় ভবানীপুরে তাঁকে প্রার্থী করেছিল পদ্মশিবির। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই ভরাডুবি হয়েছে। তবে দলের থেকে দূরে সরেননি তিনি। যার ফলে কেরিয়ার সমস্যার মুখে পড়েছে বলে বারবার অভিযোগ করেছেন রুদ্রনীল। ছাব্বিশে সেই লড়াইয়ের পুরস্কার পেলেন অভিনেতা। এবার শিবপুর আসনে লড়বেন তিনি।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 11:15 AM Mar 17, 2026Updated: 02:28 PM Mar 17, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
