Advertisement
'উন্নয়নই হাতিয়ার', ভোটযুদ্ধে নামার আগে কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখছেন সেলেব প্রার্থীরা?
ছাব্বিশের ভোট-মহারণে প্রতিপক্ষদের নিয়ে ভাবতে নারাজ মা-মাটি-মানুষের তারকা সৈনিকরা। কে কী বললেন?
লোকসভা হোক বা বিধানসভা নির্বাচন, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী তালিকায় রেখেছেন তারকা চমক। অভিনেতা, গায়ক কিংবা তারকা ক্রিকেটারদের বাজি রেখে ভোটমহারণে বাজিমাত করেছে জোড়াফুল শিবির। অতঃপর ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটেও তারকাপ্রার্থীদের তালিকার দিকেই নজর ছিল। প্রথমটায় ইমন চক্রবর্তী, শ্রাবন্তী কিংবা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের নাম শোনা গেলেও এবার তালিকায় ঠাঁই পাননি কোনও নতুন সেলেব মুখ। বরং পুরনো তারকা সৈনিকেই ভরসা রাখলেন দলনেত্রী।
একুশের বিধানসভা ভোটে বারাকপুর কেন্দ্রে জিতে প্রথম বিধায়ক হন রাজ চক্রবর্তী। এবারও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে তৃণমূলের যোদ্ধা পরিচালক। রাজ বলছেন, "আবার নতুন লড়াই। ৫ বছর নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি, আমার এলাকার মানুষেরা এবারও আমাকে সমর্থন করবেন। পাশে থাকবেন। আমার এক্তিয়ারের মধ্যে এযাবৎকাল বিধায়ক হিসেবে যতটা চেষ্টা করার, করেছি। দলও খুশি হয়ে আমাকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দিয়েছে। যথাসাধ্য চেষ্টা করব।"
প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবতে নারাজ রাজ। বললেন, "কাজের নীরিখেই লড়াই হবে। বারাকপুরে যতটা কাজের প্রয়োজন ছিল, তার ৭০ শতাংশ করতে পেরেছি। কোনও বাকবিতণ্ডার মধ্যে যেতে চাই না। আমি কী করেছি, আর প্রতিপক্ষরা কী করেছে, এবং আমাদের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে যে পরিষেবা দিয়েছেন সেটাই সকলের সামনে তুলে ধরা। আগামী দিনে কী করতে পারি, সেটাই এখন লক্ষ্য।"
বরানগরে উপনির্বাচনে জিতে বিধায়ক হন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের ভোটেও সেই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী তিনি। সায়ন্তিকা বলছেন, "আমি ৫ বছর পাইনি। এই দেড় বছরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে যতটা সম্ভব কাজের চেষ্টা করেছি। বরানগরের প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছেছি। জনসংযোগের মাধ্যমেই সমস্যার কথা জেনেছি। সব সমাধান হয়তো একদিনে হবে না কিন্তু চেষ্টা চালাচ্ছি। নিশ্চিত আগামী ৫ বছরও আমার এলাকার মানুষেরা আমার উপর ভরসা রাখবেন।"
প্রতিপক্ষের নাম শুনেই সায়ন্তিকার ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য, "বিজেপির নাম শুনলে মানুষ তেড়েফুড়ে মারতে যাচ্ছে। SIR করতে গিয়ে হয়রানি হয়েছে। গ্যাসের দাম যে হারে বেড়েছে কিংবা সিলিন্ডারের যেমন আকাল পড়েছে, বিজেপির নামেই বিতৃষ্ণা ধরে গিয়েছে মানুষের। প্রতিপক্ষ কোনওদিনই আমাদের ভাবনার বিষয় ছিল না। আমাদের স্ট্র্যাটেজি বরাবর মানুষের উন্নয়ন এবং কাজ। আর গত দেড় বছর সেটাই করেছি। তাই আমি আত্মবিশ্বাসী।"
অন্যদিকে ছাব্বিশের ভোটে করিমপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়ছেন সোহম চক্রবর্তী। নামঘোষণা হতেই বললেন, প্রচণ্ড টেনশনে ছিলাম। সর্বপরি আমার কৃতজ্ঞতা এবং শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে চাই আমাদের জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। উনি আমার উপর আরেকবার আস্থা রেখেছেন। আমাদের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ধন্যবাদ। তিনিও আস্থা রেখেছন। আমার উপর যে গুরুদায়িত্ব সঁপেছেন, তাঁদের বিশ্বাস রাখাটাই আমার কর্তব্য।
তৃণমূলের সৈনিক হিসেবে একদশক পার করেছেন। গতবার চণ্ডীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভোট লড়েছিলেন। এবার করিমপুরের প্রার্থী তিনি। সোহম বলছেন, "প্রতিপক্ষকে খাটো করে দেখি না। তবে মানুষ শিক্ষিত। কোন সরকার বা কোন দল বাংলার আপামর জনতাকে নিয়ে চলছেন, সেটা সকলেই ভালো জানেন। তাদের কথা ভেবে চলছেন। আমাদের নেত্রী মমতা, সেনাপতি অভিষেক। সেদলের সৈনিক হিসেবে আমরা প্রত্যেকেই জনগনের সেবা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।"
একুশের বিধানসভা ভোটে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হন অদিতি মুন্সী। এবারও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে তৃণমূলের 'বাজি' তিনি। নামঘোষণা হওয়ার পরই সংবাদ প্রতিদিন-কে গায়িকা জানালেন, "আমার উপর ভরসা রাখার জন্য মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ। আরও বেশি কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানাই আমার এলাকার মানুষদের যাঁরা এই পাঁচটা বছরের প্রতিটা সময়ে আমার পাশে থেকেছেন। আমি নতুন বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও সাথে থেকেছেন।"
সদ্য মা হয়েছেন। উপরন্তু বিধানসভার কাজ। দ্বিতীয়বার ভোটে লড়ার আগে কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করছেন অদিতি মুন্সী? গায়িকা বললেন, "প্রতিপক্ষ নিয়ে আমি আগেও ভাবিনি। এখনও ভাবি না। কারণ আমার এলাকার মানুষেরা আমাকে 'ঘরের মেয়ে'র জায়গা দিয়েছেন। তাঁদের সুবিধে-অসুবিধে আমার কাছে তুলে ধরেছেন। সেজন্যই তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ। আমার এলাকাবাসীর আশীর্বাদ, ভালোবাসা নিয়েই আরও একবার তাঁদের সকলের হয়ে কাজ করার চেষ্টা করব।"
একুশের বিধানসভায় সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন লাভলী মৈত্র। মাঝে যদিও এই কেন্দ্রে প্রার্থীবদলের জল্পনা শোনা যায়, তবে মঙ্গলবার সব ধোঁয়াশা কাটল। রবিবারই লাঙলবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবিন্দপুর এলাকা থেকে বাইক মিছিল করেন অভিনেত্রী। কয়েক হাজার দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিলে শামিল হন। এবার প্রার্থী ঘোষণা হতেই মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন লাভলী।
অন্যদিকে গায়ক ইন্দ্রনীল সেন পরপর দু'বার চন্দননগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতেছেন। এবারও সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে জোড়াফুলের বাজি তিনি। রবিবার বিকেলেই এলাকার বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য এক পরিষেবা প্রদান কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন তিনি। যেখানে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় হুইলচেয়ার, ট্রাই-সাইকেল, কানে শোনার যন্ত্র এবং ওয়াকিং স্টিক। এবার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে হ্যাটট্রিকের দিকে চোখ ইন্দ্রনীলের।
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 07:55 PM Mar 17, 2026Updated: 08:11 PM Mar 17, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
