Advertisement
'নারীরা কি শুধুই ভোগ্যপণ্য?', তারা-কিয়ারার সঙ্গে যশের এসব যৌনগন্ধী 'টক্সিক' দৃশ্যে উঠছে প্রশ্ন
লাগামছাড়া 'যৌনতা'! গল্পে নায়িকারা কি শুধুই যশের শয্যসঙ্গিনী বা মনোরঞ্জনের পণ্য? এই বোল্ড দৃশ্যগুলি ভাবতে বাধ্য করবে।
বছরের গোড়াতেই 'টক্সিক' টিজারে উদ্দাম যৌনতা দেখিয়ে আইনি বিপাকে পড়েন দক্ষিণী সুপারস্টার যশ। পবিত্র গোরস্থানের অন্দরে রতিসুখ, যৌনতায় ভরপুর ঝলকের জেরে কন্নড় সংস্কৃতিকে অপমানের অভিযোগও ওঠে 'কেজিএফ' স্টারের বিরুদ্ধে। কোনওরকম সতর্কীকরণ ছাড়াই সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে যেভাবে খুল্লমখুল্লা 'টক্সিক' চর্চা হয়েছে, তাতে ভারতীয় সংস্কৃতিকে কলুষিত করার অভিযোগও ওঠে। তবু থামতে নারাজ 'টক্সিক' নির্মাতারা।
জুলাই মাসে মুক্তি পেয়েছে 'টক্সিক'-এর নতুন প্রোমো। 'লেডিজ অ্যান্ড লেডিজ' শিরোনামে সিনেমার নারীচরিত্রদের 'মহিমা' তুলে ধরা হয়েছে। নয়নতারা, কিয়ারা আডবানি, তারা সুতারিয়া, রুক্মিণী বসন্ত এবং হুমা কুরেশি, 'টক্সিক'-এর পাঁচ নায়িককেই দেখা গিয়েছে। তবে সবথেকে বেশি চর্চিত কিয়ারা ও তারার সঙ্গে যশের বোল্ড দৃশ্যগুলি।
এযাবৎকাল মুক্তিপ্রাপ্ত সবকটা ঝলকেই যেভাবে 'টক্সিক'-এর হিরোইনদের তুলে ধরা হয়েছে, তাতেই বিতর্ক উসকেছে। যেন নারীচরিত্রগুলি গল্পে শুধুই নায়কের শয্যসঙ্গিনী কিংবা মনোরঞ্জনের পণ্য! শুধু তাই নয়, তারা হোক কিংবা কিয়ারা, ঝলকে যৌনগন্ধী দৃশ্যেই শুধু তাদের উপস্থিতি। সেই প্রেক্ষিতেই প্রশ্ন উঠেছে, সিনেমার নারীচরিত্রদের পরিচয় করানোর জন্যেই যে ঝলক, সেখানে নায়িকাদেরই স্বল্প দৈর্ঘ্যের উপস্থিতি!
শুধু তাই নয়! আপত্তি উঠেছে, ঝলকে নায়িকাদের উপস্থাপন নিয়েও। সমালোচকদের মত, এখানে নারীদের শুধুই ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। আর তাঁদের দিয়ে এমন সব সংলাপ বলানো হয়েছে, যেন গোটা বিশ্বে যশই একমাত্র পুরুষ, যাঁর সঙ্গ পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন নায়িকারা!
আবার একাংশের বিদ্রুপবাণ, 'টিজারের নাম 'লেডিজ অ্যান্ড লেডিজ', অথচ সব অভিনেত্রীর উপস্থিতি এতটাই ক্ষণস্থায়ী যে চোখের পলকেই হারিয়ে যায়!' কেউ বা পুরুষদের পালঙ্ক কাঁপানো ঠুনকো দম্ভের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন 'টক্সিক' নায়ক যশকে। একসময়ে অভিনেতা নিজমুখে বলেছিলেন, ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে তিনি অভিনয় করেন না! কিন্তু সেই যশের 'টক্সিক' ঝলক দেখে দর্শক, অনুরাগীদের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়।
একাংশের মত, ঝলক দেখেই বোঝা যায় যে কিয়ারা আডবানি, তারা সুতারিয়ারা এই ছবির বোল্ড দৃশ্যে 'প্রপস' ব্যতীত কিছুই নয়! কেউ বা 'অ্যানিম্যাল'-এর সঙ্গে তুলনা টেনে উগ্র-পৌরষের কথা বলেছেন। কেউ বা প্রশ্ন ছুড়েছেন, এরকম যৌনগন্ধী ছবি দেখানোর জন্যেই 'ধুরন্ধর'-এর সম্মুখ সমরে গেলেন না? সবমিলিয়ে মুক্তির আগেই যশের 'যৌনগন্ধী' একাধিক ঝলকে বিতর্ক উসেকে গিয়েছে।
'টক্সিক' ছবিতে যেভাবে নারীদের তুলে ধরা হয়েছে, মাসকয়েক আগে সে বিষয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিল কর্ণাটকের মহিলা কমিশন। এমনকী যৌনতামাখা সব দৃশ্য সোশাল পাড়ায় যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তা নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি। একাংশ দেশের যুবপ্রজন্মের মনস্তত্ত্বে কুপ্রভাব পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।
‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’-এর নাম আর প্রচারঝলকেই যশ বুঝিয়ে দেন যে এই ‘সর্বনাশী খেলা’ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। ২০২৬ সালের আগামী ২৬ আগস্ট বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাবে এই অন্ধকার রূপকথা। যে সিনেমার পরিচালনা করেছেন গীতু মোহনদাস। গল্পের প্রেক্ষাপট নয়ের দশকের গোয়া। যেখানে মাদকচক্র, অপরাধ আর ক্ষমতার দাপটে সেসময়ে আধিপত্য বিস্তার করেছে এক নিষ্ঠুর সাম্রাজ্য। কতটা নিষ্ঠুর, কতটা অন্ধকার? দেখা যাবে আগস্টের পর্দায়।
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 06:08 PM Jul 23, 2026Updated: 06:08 PM Jul 23, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
