ঠিক আর ৪৯ দিন। তারপরেই আকাশে ভাসবে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ। বেজে উঠবে ভৈরবি। 'আশ্বিনের শারদপ্রাতে..'। জানান দেবে দেবীপক্ষের আগমন। বাঙালির সর্বকালের আবেগ, সেরা উৎসব দুর্গাপুজো। বাঁধনভাঙা উৎসবের দিনে একঘেয়ে রুটিনের তোয়াক্কা কে কবে করেছে? তাই স্টিয়ারিং-এ হাত রাখতে আপত্তি কার? পুজোর কটা দিন মুক্তির স্বাদ পেতে হারিয়ে যাওয়াই দস্তুর। গন্তব্য যাই হোক, যাত্রাপথই হয়ে ওঠে আসল উৎসব। পুজোর দিনগুলোয় ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে নিরিবিলি প্রকৃতির কোলে স্বস্তির শ্বাস নিতে চান? কলকাতার কাছেপিঠেই ছড়িয়ে আছে অপরূপ কিছু অফবিট ডেস্টিনেশন (Offbeat Destinations Near Kolkata)। দেখে নিন।
ছবি: সংগৃহীত
গনগনির গিরিখাত
মেদিনীপুরের নদী-খাতে প্রকৃতির নিজস্ব ভাস্কর্য দেখতে পাড়ি দিতে পারেন গনগনিতে। শিলাবতী নদীর চরে লাল মাটির ক্যানিয়ন ও অদ্ভুত গিরিখাত এই জায়গার মূল আকর্ষণ। কলকাতা থেকে চন্দ্রকোণা রোড হয়ে মাত্র ১৩৬ কিলোমিটার দূরত্বের এই পথে গাড়ি চালানো যেমন আরামদায়ক, তেমনই রোমাঞ্চকর। বর্ষা-পরবর্তী শরতে এখানকার রূপ খোলে নতুন ভাবে। সঙ্গে দেখে নেওয়া যায় ঐতিহাসিক গড়বেতার পুরনো কামেশ্বরী ও রাধাবল্লভ মন্দির।
ছবি: সংগৃহীত
শান্ত মুরগুমা
পাহাড়, জঙ্গল আর হ্রদের এক অপূর্ব মেলবন্ধন পুরুলিয়ার মুরগুমা। ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কাছে অযোধ্যা পাহাড়ের কোল ঘেঁষা এই আদিবাসী গ্রাম শান্ত প্রকৃতির এক স্বর্গরাজ্য। কলকাতা থেকে ৩৩০ কিলোমিটার দূরের পথ পার করে এখানে পৌঁছলে স্বাগত জানায় সবুজ পাহাড় আর আদিম নিস্তব্ধতা। হালকা হিমেল হাওয়ায় হ্রদের জল আর আকাশে মেঘের খেলা দেখার সেরা ঠিকানা এটি।
ছবি: সংগৃহীত
লাল মাটির বড়ন্তি
বিহারীনাথ আর পঞ্চকোট পাহাড়ের ঠিক মাঝখানে কোল পেতে বসে আছে বড়ন্তি। কলকাতা থেকে প্রায় ২৬৫ কিলোমিটার দূরের এই জনপদে রয়েছে শান্ত লেক আর লাল মাটির কাঁচা মেঠো পথ। বিকেলে হ্রদের ধারে দাঁড়িয়ে অস্তগামী সূর্যের লালাভ আলো মেখে নেওয়া এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে পারে। পাহাড়ি হাওয়ায় ছায়াসুনিবিড় গ্রামে মেঠো পথে ড্রাইভ করার মজাই আলাদা।
ছবি: সংগৃহীত
পাহাড়ি তাবাকোশি
পাহাড় ও চা বাগানের নির্যাস পেতে গাড়ি ছুটিয়ে দিন উত্তরের দিকে। গোপালধারা চা বাগানের কাছে রংভাঙ নদীর কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে শান্ত পাহাড়ি গ্রাম তাবাকোশি। শিলিগুড়ি থেকে মিরিক হয়ে সহজেই পৌঁছানো যায় এই স্বর্গে। চা বাগান, কমলালেবুর বাগান আর এলাচ-আদাখেতের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া পাহাড়ি পথ ড্রাইভের প্রতিটি মুহূর্তকে রোমাঞ্চকর করে তুলবে।
ছবি: সংগৃহীত
নির্জন বগুরান জলপাই
উৎসবের ভিড়ে সমুদ্র যদি নির্জনতায় ডেকে নেয়, তবে তার চেয়ে সেরা উপহার আর কিছু হতে পারে না। পূর্ব মেদিনীপুরের বগুরান জলপাই এমনই এক অচেনা সৈকত। কলকাতা থেকে মাত্র চার ঘণ্টার ড্রাইভে পৌঁছানো যায় এই নির্জন দ্বীপে। ঝাউবনের ছায়া আর অবিরাম ঢেউয়ের শব্দ ছাড়া এখানে পাবেন পাখিদের কোলাহল। বিকেলে মাইলের পর মাইল বিস্তৃত নির্জন সৈকতে হেঁটে সূর্যাস্ত দেখতে চাইলে এখন থেকেই তৈরি হোন।
