বৈবাহিক সম্পর্কে জড়ানোর আগে অনেক ভাবনাচিন্তাই করতে হয় মানুষকে। তবে তা যদি হয় জীবনের দ্বিতীয় বিবাহ, তবে এই চিন্তার ভার বুঝি দ্বিগুণ হয়ে যায়। প্রথম সম্পর্কটি যে যে কারণে টেকেনি, সে সমস্তও ভিড় করে মনের মধ্যে। দ্বিতীয় বিবাহের (Second marriage) পরিণতিও তেমনই হবে না তো? নতুন মানুষটি কি সত্যিই ভরসার যোগ্য? এমন সব প্রশ্নে জর্জরিত হয়ে এগোনোর সাহস পান না অনেকেই।
কী করা যায় তবে? সম্পর্ক বিশারদরা বলেন, উলটোদিকের মানুষটি এই দ্বিতীয় বিয়ের পর কী প্রত্যাশা রাখে, তা বিয়ের আগেই বোঝা যাবে যদি নিখুঁতভাবে খেয়াল করা হয় তার বলা কথাগুলো।
বিবাহবিচ্ছেদের পর নতুন করে ভালোবাসতেই চায় মানুষ, তবু ভয় থেকে যায়।
আগের স্ত্রী/স্বামীর প্রসঙ্গে তার মনোভাব কী?
উলটোদিকের ব্যক্তি আপনার প্রাক্তন সঙ্গীটি সম্পর্কে ঠিক কী ধরনের মন্তব্য করে, তা খেয়াল করতে হবে। এমনকী সে যদি নিজে ডিভোর্সি হয়, তবে সে নিজের প্রাক্তন সঙ্গীকে কেমনভাবে উপস্থাপন করছে, সে বিষয়টিও লক্ষ্যনীয়। হতেই পারে, ডিভোর্সের জন্য অপরপক্ষ দায়ী ছিল। কিন্তু সে সম্পর্কে ব্যক্তিটির মানসিকতা বুঝতে পারলেই তার সামগ্রিক মানসিকতা বোঝা যায় অনেকখানি।
ডিভোর্সের কারণ নিয়ে স্বচ্ছতা
উলটোদিকের মানুষ যদি ডিভোর্সি হন, তবে বিবাহবিচ্ছেদের কারণ নিয়ে তিনি কতখানি স্বচ্ছ, সেদিকে নজর রাখতে হবে। যদি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এড়িয়ে যান, বা একবার বলা গল্প বারবার বদলে যায়, তবে সচেতন হওয়া উচিত। যদি আপনার জীবনে বিবাহবিচ্ছেদের ইতিহাস থাকে, তবে সে বিষয়ে মানুষটি ঠিক কী ধরনের মানসিকতা পোষণ করে, তা বুঝে নিতে পারলেই ভালো।
ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রত্যাশা কী?
অতীতের খারাপ অধ্যায় পেরিয়ে এলে, বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন রকম আচরণ করে। কেউ হয়তো ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উদাসীন হয়ে পরেন। অর্থাৎ জীবনসঙ্গী হিসেবে নতুন কাউকে বেছে নিলেও, সন্তান জন্মের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়াই পছন্দ করেন। কেউ আবার দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়েছে এমন মনে করে, ব্যস্ত হয়ে পরেন নতুন সঙ্গীর সঙ্গে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য।
এক্ষেত্রে যে দুই মানুষ দ্বিতীয় বিবাহের দিকে এগোচ্ছেন, তাঁদের বুঝে নিতে হবে জীবনের প্রতি তাঁদের প্রত্যাশা মেলে কি না। যদি তা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা না করেই বিয়ের দিকে এগোন তাঁরা, তবে আগামিদিনে আবারও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা হয়।
যদি প্রত্যাশা না মেলে, তবে বিয়ের পর আবারও শুরু হয় ভুল বোঝাবুঝি।
ভুলে গেলে চলবে না, জীবনের প্রতি একবার হতোদ্যম হয়েও দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়ার কথা ভেবেছেন এমন মানুষেরা। ফলে দুই পক্ষই যে খানিক সেনসিটিভ হয়ে থাকবেন বিয়ে-সন্তান প্রভৃতি বিষয়ে, তা অন্য পক্ষকে বুঝতে হবে। উলটোদিকের মানুষ সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনে তবেই এগোনো উচিত এমন অবস্থায়।
