বিয়েবাড়ি ঘিরে বাঙালির উৎসাহ চিরকালই অমলিন। চিরাচরিত নিয়মকানুনের সঙ্গে প্রায়শই তাই জুড়ে যায় নানা আধুনিক ট্রেন্ড। এই বছর আটেক আগেও যেমন প্রি-ওয়েডিং শুট বাঙালির কাছে বড় দূরের বস্তু ছিল। অথচ এখন পাকাপাকিভাবে জুড়ে গিয়েছে যে কোনও ওয়েডিং প্যাকেজে। ‘মেহেন্দি’ অথবা ‘সঙ্গীত’ অনুষ্ঠান আবার অবাঙালি বিয়েবাড়ি থেকে এসে জুড়েছে বাঙালির অনুষ্ঠানে।
শিল্পীর তুলির শৈলীতে ফুটে উঠবে বিবাহ দৃশ্যটির অবিকল প্রতিচ্ছবি।
এই তালিকাতেই এক্কেবারে আধুনিকতম সংযোজন ‘ওয়েডিং পেন্টিং’ (wedding painting)। ক্যামেরায় ছবি, ভিডিও তো থাকছেই, সঙ্গে বিবাহ মণ্ডপে উপস্থিত থাকছেন এক দক্ষ শিল্পী। ছাঁদনাতলায় যখন পাশাপাশি বসে থাকবেন বর-কনে, অতিথিদের আগমনে গমগম করবে পরিবেশ, ঠিক তখনই খানিক দূরত্বে দাঁড়িয়ে ক্যানভাসে রং ভরবেন শিল্পী। তাঁর তুলির শৈলীতে ফুটে উঠবে দৃশ্যটির অবিকল প্রতিচ্ছবি। বর, বধূ তো বটেই, জলজ্যান্ত মুহূর্তটিও বন্দি হবে ক্যানভাসে।
তবে এই দ্রুততার যুগে দাঁড়িয়ে ফোটো, ভিডিও থাকতেও হাতে আঁকা ছবি কেন? আসলে এমন ঘটনা নতুন নয়। প্রাচীন ভারতে উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্যদের ছবি হাতে আঁকতেন সুদক্ষ চিত্রকর। অতিকায় ফ্রেমগুলি টাঙানো হত বিশাল হলঘরের দেওয়াল জুড়ে। ইউরোপে অবশ্য 'ওয়েডিং পেন্টিং'-এর চল সপ্তদশ শতকেই শুরু হয়েছিল। পাশ্চাত্য দেশগুলিতে আজও একইরকম রয়েছে তা। আইল ধরে হেঁটে আসা বর-কনের অবিকল ছবি ঘটনাস্থলেই দাঁড়িয়ে আঁকেন নিয়োজিত শিল্পী।
ছবিটি সম্পূর্ণ করতে লেগে যেতে পারে প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা সময়
আর হালে ভারতে নতুন করে পা রেখেছে ‘ওয়েডিং পেন্টিং’। মুম্বই, দিল্লি, চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরে ইতিমধ্যেই তা রীতিমতো ‘ট্রেন্ডিং’। সম্প্রতি কলকাতাও তাল মিলিয়েছে তারই সঙ্গে। ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে এখনই এই ট্রেন্ড তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি, তবে সুদূর ভবিষ্যতেও যে হবে না, তেমন বলা যায় না এখনই।
যদিও লাইভ পেন্টিং নেহাত সহজ কাজ নয়। ছবিটি সম্পূর্ণ করতে লেগে যেতে পারে প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা সময়। তাছাড়া পাশ্চাত্যের তুলনায় ভারতীয় বিয়েতে আচার-নিয়মের ঘনঘটা অনেক বেশি। তা সে সাজের বাহার হোক বা আলোকসজ্জা। ফলে ঘটনার মুহূর্তে বড়জোর শিল্পী সাধারণ আউটলাইনটুকু করে নিতে পারবেন। তারপর সময় নিয়ে তাতে রঙ ভরা ও ফিনিশিং টাচ দিতে হবে। তাছাড়া সকলেই প্রায় চান, ছবিটি বিয়ের রাতেই যেন সমাপ্ত হয়। ফলে এই কাজের গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার আগে রীতিমতো মাথা ঘামাতে হয় শিল্পীকেও।
