বরফের দীর্ঘ পথ ধরে হেঁটে চলেছে একসারি পেঙ্গুইন। তার একটি, পথে হঠাৎই থামল, নিচু হয়ে কুড়িয়ে নিল ছোটখাটো কয়েকটা নুড়িপাথর। তারপর এগিয়ে গিয়ে, তা তুলে দিল সঙ্গিনীর হাতে। সঙ্গিনীও ভারী খুশি তাতে। প্রাণীবিশেষজ্ঞরা জানেন, পেঙ্গুইনদের মধ্যে এই আচরণ নতুন নয়। বরং চিরায়ত প্রেমের প্রকাশ ভঙ্গীই। এমন অনেক পেঙ্গুইন রয়েছে, যারা জীবনের বেশিরভাগ সময় কোনও একজন সঙ্গী অথবা সঙ্গিনীর সঙ্গে কাটিয়ে দেয়। বছরভর রীতিমতো প্রেমের জানান দেন একে অপরকে। নুড়ি সংগ্রহ করে দেওয়াও প্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ তাই। এ যেন প্রেমিক অথবা প্রেমিকার সঙ্গে নিজের পছন্দের ছোট কোনও উপহার এনে দেওয়া।
নুড়ি সংগ্রহ করে দেওয়া পেঙ্গুইনদের প্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ।
আর এ থেকেই বর্তমান প্রজন্মের প্রেমের ভাষায় যোগ হয়েছে নতুন শব্দ— ‘পেবলিং’ (pebbling)। ‘পেবল’ অর্থাৎ নুড়ি। জেন-জির প্রেমের ভাষা চিরপরিবর্তনশীল। তাতে সদাই নতুন নতুন শব্দের যোগ হয়। জেন প্রেমকে নতুন আঙ্গিকে দেখা এই নতুন প্রজন্মের কখনওই ফুরোয় না! ‘পেবলিং’ তারই অংশ। এর অর্থ, ব্যস্ত জীবনের হইহল্লার মাঝে সঙ্গীর মন খুশি হবে, এমন ছোট্ট কোনও উপহার নিয়ে আসা তার জন্য।
এর জন্য বিশাল খরচাপাতি নেই কিন্তু! হাতি-ঘোড়া উপহার এনে হাজির করতে হবে, আকাশের চাঁদ পেড়ে আনতে হবে বাড়ির ছাদে— এমন আহামরি দাবির কথাও নেই। সামান্য কিছু, সাধারণ কিছু— যা দেখে একজন অনুভব করতে পারে যে অন্যজন দূরে থেকেও ভেবে গিয়েছে তারই কথা। হয়তো গড়িয়াহাটের ভিড় সামলে কেনা একজোড়া কানের দুল। কলেজ স্ট্রিটের বইয়ের পাহাড় বেছে, সঙ্গীর পছন্দ হবে এমন একখানা বই। অথবা ঠোঙায় মোড়া গরম ডালবড়া, কারণ সঙ্গী কোনও এককালে বলেছিল ডালবড়া ভালোবাসে!
সামান্য কিছু, সাধারণ কিছু— যা দেখে একজন অনুভব করতে পারে যে অন্যজন দূরে থেকেও ভেবে গিয়েছে তারই কথা।
এমন ছোটখাটো প্রেমের প্রকাশ যে কি ভীষণ জরুরি, তা বুঝি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। টাকা জমিয়ে বড় উপহার দেওয়ার প্রয়াসকে মোটেই ছোট করা হয় না তাতে। কিন্তু এমন আন্তরিকতার সত্যিই তুলনা হয় না। হয়তো সারাটাদিনই কোনও কারণে খারাপ যাচ্ছে সঙ্গীর। বারবার প্রশ্ন আসছে নিজের যোগ্যতা নিয়ে, সে যে কোনও ক্ষেত্রেই হোক না কেন। এমন অবস্থায় হুট করেই যদি প্রিয়জনের কাছ থেকে উপহার পাওয়া যায়, তাহলে যেন নিমেষে উবে যায় সারাদিনের ক্লান্তি। যেন সমগ্র পৃথিবীর বিপুল হিংসের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রাখে সামান্য এক প্রেমের নুড়ি!
