বর্তমানে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাই যেন বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকের মতে, সম্পর্কের আয়ু নাকি ক্রমশ কমছে। বিচ্ছেদের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিসংখ্যানও অবশ্য সেই দাবিতেই সিলমোহর দেয়। সম্পর্কের ভাঙনের মরশুমে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল 'অ্যালপাইন ডিভোর্স'। যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানলে গায়ে কাঁটা দিতে বাধ্য।
'অ্যালপাইন' শব্দের অর্থ উচ্চভূমি বা পাহাড়ি অঞ্চল। আর 'ডিভোর্স' হল বিচ্ছেদ। এখন সোশাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং এই ধরনের বিচ্ছেদ। যদিও তার শিকড় লুকিয়ে রয়েছে বহু অতীতে। গত ১৮৯৩ সালে রবার্ট বার 'অ্যান অ্যালপাইন ডিভোর্স' নামে একটি ছোটগল্প লিখেছেন। তাতে এই ধরনের বিচ্ছেদের উল্লেখ রয়েছে। গল্পে স্বামী-স্ত্রী আল্পসে বেড়াতে গিয়েছিলেন। পাহাড়চূড়া থেকে স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন স্বামী। তাকে কেন্দ্র করেই এগোতে থাকে গল্প। বর্তমানে সেই 'অ্যালপাইন ডিভোর্স'ই ফিরে এসেছে নেটদুনিয়ায়।
বিশেষজ্ঞদের কারও কারও দাবি, সম্প্রতি মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে রাজা রঘুবংশী নামে এক সদ্য বিবাহিত যুবক খুন হন। অভিযুক্ত তাঁর নববিবাহিতা স্ত্রী। সেই হত্যাকাণ্ডে নেপথ্যেও হয়তো রয়েছে 'অ্যালপাইন ডিভোর্স' তত্ত্ব। আর তারপর থেকে এই ধরনের বিচ্ছেদ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে কাটাছেঁড়া। এই 'অ্যালপাইন ডিভোর্স' অনুযায়ী নির্জন বন কিংবা পাহাড়ে গিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে বিচ্ছেদ। মনোমালিন্য হওয়ার ফলে জীবনের পথ সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া। তাই সঙ্গী কিংবা সঙ্গিনীর হাত একাকী জায়গায় ছেড়ে চলে আসাই হল এই ধরনের ডিভোর্সের লক্ষণ। যিনি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিলেন তাঁর কোনও সমস্যা এক্ষেত্রে হয় না। তবে যিনি বিচ্ছেদের শিকার হন তাঁর ভেঙে পড়াই স্বাভাবিক। অচেনা জায়গায় শারীরিক এবং মানসিকভাবে যেন ঝড় বয়ে যায় তাঁর উপর।
সঙ্গীর সঙ্গে মনোমালিন্য হতেই পারে। বিচ্ছেদের মতো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়াও অস্বাভাবিক নয়। তবে যেখানেই বিচ্ছেদের কথা মনে হল সেখানে সঙ্গী কিংবা সঙ্গিনীকে একা ফেলে আসা কোনও কাজের কথা নয়। এই বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া যে অতি নির্মম সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ধরনের বিচ্ছেদ একাকী মানুষের জন্য প্রাণঘাতীও হয়ে উঠতে পারে। এই বিচ্ছেদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ব্য়বস্থা নেই। তাই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে 'অ্যালপাইন ডিভোর্স' কতটা যুক্তিযুক্ত। কেউ কেউ বলছেন, সোশাল মিডিয়ার ট্রেন্ড কি আর যুক্তির ধার ধারে? আবার কেউ বলছেন, যে বা যারা এই ধরনের বিচ্ছেদে বিশ্বাসী, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অপরাধ হিসাবে গণ্য করা উচিত। তাই কারও সঙ্গে সম্পর্ক জড়ান ভেবেচিন্তে। নইলে জীবন দিয়ে খেসারত দিতে হতে পারে।
