জেন জি এখন কে কী বলবেন, কে কী ভাববেন নিয়ে বসে থাকেন না। তাঁরা আর পাঁচটা বিষয়ের মতো সম্পর্কের বিষয়েও যথেষ্ট স্বাধীনচেতা। প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে ভাবনাচিন্তায় এসেছে অনেক বদল। তাঁদের কাছে সম্পর্কের অভিধানে যুক্ত হয়েছে ডেটিংয়ের নানা কৌশল। আধুনিকতম শব্দ হল 'রস্টার ডেটিং'। একজন পুরুষ নন, সাতদিনে সাতজনের সঙ্গে মেলামেশা করছেন কেউ কেউ। ভারতেই নাকি এই ধরনের ডেটিংয়ের প্রবণতা বাড়ছে। কেন বাড়ছে এমন প্রেম? সত্যিই কি 'ট্রায়াল অ্যান্ড এরর' পদ্ধতিতে সম্পর্ক স্বাস্থ্যকর নাকি মোটেও নয়?
'রস্টার ডেটিং' হল এক একদিন এক এক জনের সঙ্গে ডেটিং। কারও সঙ্গে গঙ্গার পাড়ে গেলেন তো কারও সঙ্গে ক্য়ান্ডেল লাইট ডিনার। আবার কারও সঙ্গে লং ড্রাইভ। কিংবা ধরুন কারও হাত ধরে গেলেন মুভি ডেটে। তবে কারও সঙ্গেই সম্পর্ক নিয়ে আপনি সিরিয়াস নন। আদৌ তাঁর সঙ্গে সারাজীবন সম্পর্ক রাখবেন কিনা, সে বিষয়ে আপনি নিজেও নিশ্চিত নন। হতেই পারে হয়তো কারও সঙ্গে সম্পর্ক টিকে গেল। আবার কাউকে ভালো লাগল না। যাঁকে ভালো লাগল, তাঁর সঙ্গে বারবার দেখা হতে পারে। আবার কারও আর মুখ দেখতেই ইচ্ছা হচ্ছে না। এটাই হল হালফিলের 'রস্টার ডেটিং'।
বর্তমান সমাজব্যবস্থা নাকি 'রস্টার ডেটিং'য়ের প্রবণতা বৃদ্ধির নেপথ্যে মূল কারণ। অনেকেই বলছেন, একসময় শুধুমাত্র পুরুষরা আর্থিক সাবলম্বী হতেন। ফলে মহিলাদের কিছু বলার অধিকার থাকত না। তাঁদের ভালোমন্দ, ভালোলাগা, মন্দলাগাকে গুরুত্ব দিতেন না কেউ। তার ফলে সঙ্গীকে খারাপ লাগলেও বলার সাহস ছিল না। বর্তমানে মহিলারা অনেক বেশি কেরিয়ার সচেতন। তাঁরা আর্থিক সাবলম্বী। তাই নিজের মনমতো সঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে তাঁদের।
এছাড়া বর্তমানে মানুষের প্রতি আস্থা, ভরসা কমছে। তার ফলে সম্পর্ক এখন চিরস্থায়ী হয় কম। সহজেই বিচ্ছেদের কথা ভাবেন অনেকে। তার ফলে 'রস্টার ডেটিং'য়ের পথ বেছে নিচ্ছেন কেউ কেউ। 'রস্টার ডেটিং'য়ের আরও কিছু ভালো দিকও রয়েছে। এই ধরনের সম্পর্কের ফলে অবশ্য সহজে ভুল মানুষের প্রেমে পড়ার সম্ভাবনা কম। তাই বিয়ের পর বিচ্ছেদের পরিবর্তে এমন কৌশলে সঠিক মনের মানুষ বেছে নেওয়াই ভালো।
