একজন মহিলার জীবনে মাতৃত্বের মতো সুন্দর অভিজ্ঞতা বোধহয় আর কিছুই নেই। দ্বিতীয়বার মা হওয়ার অভিজ্ঞতা যেন আরও বেশি রোমাঞ্চকর। গোটা পরিবারের আবহাওয়াকে একনিমেষে বদলে দিতে পারে এই সুখবর। তবে প্রথম সন্তান কেমনভাবে বিষয়টি দেখছে, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে।
সদ্যই দীপিকা-রণবীর তাঁদের দ্বিতীয় সন্তান আগমনের কথা ঘোষণা করেন। দুয়ার হাতে প্রেগন্যান্সি কিটের ছবি শেয়ার করে সুখবর জানান। আবার ভারতী সিং তাঁর দ্বিতীয় মাতৃত্বের কথা শেয়ার করার সময়ও প্রথম সন্তানকে কাজে লাগিয়েছিলেন। সুইজারল্যান্ডে বেরনোর ফাঁকে ছেলের গায়ে 'ম্যায় বড়ে ভাইয়া বান্নাওয়ালা হুঁ' লেখা টি-শার্ট পরিয়ে সকলকে জানিয়েছিলেন দ্বিতীয়বার মাতৃত্বের কথা। এভাবে সুখবর দেওয়ার ফলে শুধু যে দম্পতি খুশি হয়েছেন তা নয়। প্যারেন্টিং বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবেই ছোটদের একেবারে প্রথম থেকে খুদেকে দ্বিতীয় সন্তানের সঙ্গে একাত্ম করে তোলা প্রয়োজন। নইলে সমস্যা হতে পারে।
অভিভাবকদের অবশ্য করণীয় যেগুলি:
- আপনার সন্তানদের বোধগম্য ভাষায় বুঝিয়ে বলুন। কিছু প্রশ্ন করলে, তা মন দিয়ে শুনুন। তার বোঝার মতো করে উত্তর দিন। তাতেই দেখবেন দায়িত্ববোধ তৈরি হচ্ছে খুদের।
- বহু খুদেই ভাবে মা হয়তো অন্যের হয়ে যাচ্ছে। তাই প্রথম সন্তানের সঙ্গে আরও কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করুন। তাকে বোঝান দ্বিতীয় সন্তানের জন্য তার কদর কমছে না এতটুকুও।
- প্রথম সন্তানকে বোঝানোর চেষ্টা করুন ঠিক যেন তার প্রোমোশন হচ্ছে। তাকে বারবার বলুন সে বড়দাদা কিংবা দিদি হতে চলেছে। গল্পের বইতে এরকম দাদা-বোন কিংবা দিদি-বোনের সম্পর্কের গল্প পড়ান।
- ছোট ছোট দায়িত্ব দিন খুদেকে। হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনার হাতে হাতে জিনিসপত্র এগিয়ে দেওয়া, ব্যাগ গুছিয়ে দেওয়ার কাজ করান। তাতে তার দায়িত্ববোধ বাড়বে।
প্রথম সন্তানের দ্বিতীয়র প্রতি হিংসা তৈরি হচ্ছে কিনা, সেদিকে খেয়াল রাখুন। তাকে বুঝিয়ে বলুন। তাতেই দেখবেন সম্পর্ক হবে সুন্দর। ভাইবোন নয় বন্ধুর পাওয়ার আনন্দে ডগমগ হয়ে উঠবে শিশু মন।
