ক্রমশ বাড়ছে তাপমাত্রা। বাইরে বেরলেই যাচ্ছেতাই দশা। আবার বাইরে না বেরলেও নয়। কারণ, এখনও বহু স্কুলেই গ্রীষ্মের ছুটি পড়েনি। বাধ্য হয়ে স্কুলে পাঠাতেই হচ্ছে। তার ফলে রোদে ঘামে ক্লান্ত খুদে। তা সত্ত্বেও জল খাওয়ার কোনও ভ্রূক্ষেপই নেই তার। বাবা-মা বারবার জল খাওয়ার কথা বললে সে বিরক্ত হচ্ছে। প্রায় প্রত্যেক বাড়ির যেন এটাই এখন চেনা ছবি। হাজার বকাঝকা করেও লাভ হচ্ছে না। তাই শাসন নয়, জেনে নিন খুদেকে জল খেতে উৎসাহী করে তোলার সহজ কৌশল।
Advertisement
- জল না খাওয়ার জন্য কখনও খুদেকে বকাঝকা করবেন না। পরিবর্তে তাকে বুঝিয়ে বলুন পরিমাণমতো জল না খেলে ঠিক কী কী সমস্যা হতে পারে। তাকে বলুন, কম জল খেলে প্রস্রাবের সময় কষ্ট হতে পারে, মুখ শুকিয়ে যাবে, পায়ের পেশিতে টান ধরে কষ্ট পেতে পারে। এই সমস্যাগুলির কথা শুনলে দেখবেন সে ভয় পাচ্ছে। আর নিজেই হয়তো পরিমাণমতো জল খেতে শুরু করছে।
- সুকৌশলে খেলার ছলে খুদেকে জল খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে রকমারি সিপার কিনতে পারেন। কিংবা ধরুন জলের সঙ্গে সামান্য কিছু মিশিয়ে দিতে পারেন। যাতে স্বাদ বাড়বে। আবার কোনও গল্প বলে জল খাওয়াতে পারেন। না হলে বিকল্প পথে ডাবের জল, ফলের রস কিংবা স্যুপ খাওয়ান।
- আপনার খুদে কম জল খেলে ফল ও সবজির ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিন। খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখুন লাউ। এছাড়া মুসাম্বি, শসা, আনারস, তরমুজের মতো ফলও রাখুন। তাতে জলের ঘাটতি মিটবে।
- খুদের জল খাওয়ার জন্য আলাদা বোতল ও গ্লাস বরাদ্দ করুন। সময় ও জলের পরিমাণ মেপে নিন। বলুন, এই সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। তবে বেশি জল খাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করবেন না। খেয়ে ফেললে প্রশংসা করুন। তাতেই দেখবেন খুদের জল খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হবে।
- ছোটরা বড়দের দেখেই শেখে। তাই ওর পাশেই রাখুন আপনার জলের বোতল। তার মতো সময় মেপে জল খান। আপনাকে দেখে দেখবেন তার জল খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হবে।
খুদের বৃদ্ধির অনেকটাই নির্ভর করে জলের উপর। আবার জল কম খেলে সর্দিকাশি, জ্বর, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হবে। তাই অবশ্যই শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়ান। নইলে শিশুর শারীরিক সমস্যা হতে পারে।
