পাত্র-পাত্রী চাই। চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপন। পাত্রের ম্যাট্রিমোনিয়াল বায়োডেটা মুখস্ত করছেন? পাত্রের ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স আর সামাজিক প্রতিষ্ঠা দেখে ভুলবেন না যেন! দেখনদারির এই দুনিয়াতে চার-হাত এক হওয়ার আগে সচেতন হোন। সংসার কেবল টাকার অঙ্কে চলে না। আজীবন সুখে থাকার চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে মানুষের মজ্জায়, চরিত্রে ও শিক্ষায়। তাই সানাই বাজার আগে হবু জামাইয়ের এই ৭ বিষয় ভালো করে খতিয়ে দেখুন।
ছবি: সংগৃহীত
প্রথমেই আসে পাত্রের স্বভাব। রাগের মাথায় সে কেমন আচরণ করে, সেটা দেখা দরকার। অনেক সময় শুরুর ভালোমানুষির মুখোশ পরে থাকা মানুষটি পরে চড়া মেজাজ দেখায়। অন্যের প্রতি তাঁর ভাষা ও ব্যবহারের দিকে নজর রাখুন। দ্বিতীয়ত, নিজের পরিবারের সঙ্গে তাঁর সমীকরণ কেমন? যে ছেলে নিজের মা, বোন বা বাড়ির লোকেদের শ্রদ্ধা করতে পারে না, সে অন্য কোনও মেয়েকেও সম্মান দিতে পারবে না।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল লিঙ্গসাম্য। আজকের দিনে বিয়ে কোনও একতরফা চুক্তি নয়। পাত্রটি আপনার মেয়ের পড়াশোনা, চাকরি বা স্বপ্নকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তা বুঝে নেওয়া দরকার আছে বইকি! নারীর প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, সেটা যাচাই করা আবশ্যিক। চতুর্থত, পাত্রের মনের ভাব প্রকাশের ধরণ। কোনও সমস্যা হলে সে কি চুপ করে থাকে, নাকি শান্তভাবে কথা বলে মেটানোর চেষ্টা করে? সুস্থ দাম্পত্যের বুনিয়াদ কিন্তু খোলামেলা আলাপ-আলোচনা।
ফাইল ছবি
পঞ্চম বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। পাত্রের কোনও আসক্তি বা খারাপ অভ্যাস আছে কি না, তা বিয়ের আগেই ভালো করে যাচাই করে নিন। অনেকেই ভাবেন বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু এ ধারণা অধিকাংশ সময়ই ভুল প্রমাণিত হয়। ষষ্ঠত, দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা। ঘর এবং বাহির— দুইয়ের দায়িত্বই কি সে সমানভাবে ভাগ করে নিতে রাজি? নাকি সব বোঝা স্ত্রীর ওপর চাপিয়ে দিতে চায়, তা জানাও প্রয়োজন।
সবশেষে, আপনার নিজের মেয়ের মনের কথা শুনুন। পাত্রকে দেখে বা তাঁর সঙ্গে কথা বলে মেয়ে কোনও অস্বস্তি বোধ করছে কি না, তা জেনে রাখা জরুরি। মেয়ের মানসিক শান্তি এবং সায় না থাকলে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কোনও অর্থ হয় না। জীবনে ভালো ঘর, ভালো বাড়ি, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, টাকাকড়ি সবটা নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর ভালোবাসাই একটা সম্পর্ককে আজীবন টিকিয়ে রাখে।
