বাবা-মায়েরা কখনই সন্তানের ক্ষতি চান না, একথা একশো শতাংশ সত্য। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় নিজেদের অজ্ঞাতসারেই ছেলে-মেয়ের ব্যক্তিগত জীবনের সব থেকে বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ান অভিভাবকরা। বহু সংসার ভাঙে শুধু মাত্র বাবা-মায়েদের কারণেই। কিন্তু একটা সময় পর্যন্ত সন্তানেরা বুঝতেই পারেন না যে সমস্যাটা আসলে কোথায়। তবে যখন বোঝেন, ততক্ষণে সময় পেরিয়েছে। সবটা হাতের বাইরে। তাই কয়েকটা বিষয়টা মাথায় না রাখলেই নয়, চলুন আজ জেনে নিন সেগুলোই।
ফাইল ছবি।
১. সন্তান বিয়ে করার পরও বাবা-মায়ের মন বুঝতে চায় না যে, তাঁরা বড় হয়েছে। তাঁদের নিজেদের একটা ব্যক্তিগত জীবন হয়েছে। সেখানে কী চলছে, তার খুঁটিনাটি তথ্য বাবা-মায়েদের জানার প্রয়োজনই নেই। ফলত অভ্যাসবশত ছেলে-মেয়ের ব্যক্তিগত জীবনে ঢুকে পড়েন তাঁরা, এমন কিছু মন্তব্য করেন বা পরামর্শ দেন, যা সন্তানদের দাম্পত্যে চিড় ধরায়।
২. দাম্পত্যে অশান্তি খুব স্বাভাবিক বিষয়। ছোটোখাটো নানা বিষয়ে মতানৈক্য লেগেই থাকে। এরমাঝে অভিভাবকেরা জড়িয়ে পড়লেই সমস্যা চরম আকার নিতে বাধ্য। বাবা-মায়েদের বোঝা উচিত, সঙ্গীর সঙ্গে সন্তানের টুকটাক অশান্তিতে নিজেদের জড়ানো ভালো তো নয়ই বরং ক্ষতিকর। তাই অভিভাবকেরা চেষ্টা করুন এধরনের কাজ না করার। তবে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে বিষয়টা আলাদা।
ফাইল ছবি।
৩. সন্তানেরা ছোটবেলায় বাবা-মায়ের কথা শুনে চলে। এটা ভীষণ স্বাভাবিক। কিন্তু বিয়ের পর সর্বদা সত্যিই সম্ভব নয়। কারণ, অন্য একটা মানুষের দায়িত্ব থাকে তাঁর কাঁধে। তাঁকে ভালো রাখা, খুশি রাখাটাই একটা সময়ে প্রায়োরিটি লিস্টের উপরে চলে আসে। এদিকে বাবা-মায়েরা চেষ্টা করেন ছেলেবেলার মতো নিজেদের মতামত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের উপরে চাপিয়ে দেওয়ার। আপনার সঙ্গেও এটা হচ্ছে বুঝতে পারলেই সতর্ক হন।
ফাইল ছবি।
৪. অনেকসময় দেখা যায় ছেলে বা মেয়ের জীবনসঙ্গীকে নিয়ে নানারকম অভিযোগ থাকে বাবা-মায়েদের। না বুঝেই তা প্রকাশ্যে বলে ফেলেন তাঁরা। অনেকক্ষেত্রে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। যা সন্তানের দাম্পত্য জীবনে চিড় ধরায়।
৫. সন্তানকে তাঁর সঙ্গীর সঙ্গে নিজের মতো করে সময়কাটা দেওয়াটাও বাবা-মায়েদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাঁদের একসঙ্গে বেরতে দিতে হবে। লাঞ্চ-ডিনারে গিয়ে সময় কাটাতে দিতে হবে। একান্তযাপনের সময়ও অনেকক্ষেত্রেই অভিভাবকেরা ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। যা দাম্পত্যের জন্য ক্ষতিকর। উপরের ঘটনার অভিজ্ঞতা যদি আপনার থেকে থাকে সতর্ক হন এখনই। বাবা-মায়ের কিছু এইধরণের আচরণ প্রশয় দেবেন না।
