সম্পর্কের ব্যাকরণ বেশ জটিল। তার চেয়েও জটিল জেন-জি ডেটিং শব্দ ভান্ডার। কখনও পলিআমরি, কখনও বা সিচুয়েশনশিপ। সেই সম্পর্কের রসায়নেই এবার ডানা মেলছে 'টলিয়ামরি'। শব্দটা শুনতে বেশ গালভরা। আভিজাত্যের ছোঁয়াও আছে। কিন্তু এই চকচকে মোড়কের অন্দরে আসলে কী? না, আর কিছুই নয়। এটি হল 'প্রতারণা' শব্দের জেন-জি সংস্করণ। যা নতুন নাম দিয়ে কেবল সহনীয় করে তোলার চেষ্টা চলছে।
প্রতীকী ছবি
কী এই টলিয়ামরি?
সহজ কথায় বললে, টলিয়ামরি হল সঙ্গীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে মুখ বুজে মেনে নেওয়া। আজ্ঞে হ্যা, ঠিক শুনছেন। এখানে একজন জানেন যে তাঁর প্রাণের মানুষটি অন্য কারও সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত। তবু তিনি প্রতিবাদ করেন না। বরং দেখেও না দেখার ভান করেন। সম্পর্কের এই ধারা সমাজে চিরকালই ছিল। কিন্তু এখন একে একটি গালভরা শব্দে বেঁধে দেওয়া হল। যেখানে 'ভালোবাসার খাতিরে' বা 'সংসার টিকিয়ে রাখার নাম' করে প্রবঞ্চনাকে প্রশ্রয় দেওয়াই মূল লক্ষ্য।
পলিআমরি বনাম টলিয়ামরি
অনেকেই পলিআমরির সঙ্গে একে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু দুটোর মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। পলিআমরিতে সঙ্গীদের মধ্যে স্বচ্ছতা থাকে। সেখানে একাধিক সম্পর্ক তৈরি হয় সকলের সম্মতিতে। বিশ্বাস এবং আলোচনার জায়গাটি সেখানে খুব স্পষ্ট। কিন্তু টলিয়ামরি দাঁড়িয়ে আছে অসততার ওপর। এখানে একজনের অন্যায়কে অন্যজন সহ্য করতে বাধ্য হন। এটি কোনও প্রগতিশীল চিন্তাধারা নয়। বরং এটি সঙ্গীর যন্ত্রণাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এতে সম্মতির চেয়েও বেশি থাকে নিরুপায় হয়ে মেনে নেওয়ার গ্লানি।
প্রতীকী ছবি
টলিয়ামরি আসলে সম্পর্কের বুনিয়াদকেই নড়বড়ে করে দেয়। এটি বিশ্বাসঘাতকতাকে মহিমান্বিত করার এক অদ্ভুত অপচেষ্টা। যেখানে প্রতারিত ব্যক্তিকে বোঝানো হয় যে, ক্ষমা করাই হল পরম ধর্ম। কিন্তু বাস্তবে এটি কেবলই অসম্মান আর অমর্যাদার নামান্তর। আধুনিকতার মোড়কে এই প্রবণতা সম্পর্কের পবিত্রতাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয় শেষমেশ।
পণ্যের মান খারাপ হলে ব্র্যান্ডিং দিয়ে তা বেশিদিন চালানো যায় না। টলিয়ামরি ঠিক তেমনই। ডিসলয়ালটি বা অবিশ্বস্ততাকে আপনি যে নামেই ডাকুন না কেন, তা শেষ পর্যন্ত সম্পর্কের শেষ পেরেকটি পুঁতে দেয়। বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ভালোবাসার ঘরে এই 'ট্রেন্ড' আসলে এক অশনি সংকেত।
