অনেকেই বলেন, দূরত্ব ভালোবাসা বাড়ায়। সামনে থাকলে যার সঙ্গে কথা কাটাকাটি লেগেই থাকে, ভালোবাসা-টান সত্যি হলে কথা না হলেই তাঁর জন্য হু হু করে ওঠে মন। মনে হয়, রাগ-অভিমান সব সরিয়ে রেখে এক হয়ে গেলে ক্ষতি কী! আর এই কারণেই অনেকে দীর্ঘ অশান্তিতে ইতি টানতে সম্পর্কে সাময়িক বিরতির সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সত্যিই কি সাময়িক বিরতি জুড়ে দেয় চিঁড় ধরা প্রেম? সত্যিই দূরত্ব ভালোবাসা বাড়ায়?
প্রথমে বুঝতে হবে ঠিক কোন সময়ে সম্পর্ক থেকে সাময়িক বিরতি চায় কেউ। সম্পর্কের হানিমুন পিরিয়ড কেটে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে দু'জনই একে অপরকে চিনতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবেই এই দুনিয়ায় কেউই পারফেক্ট নন। ফলে দু'জনেই উলটোদিকের লোকটার ভুল ধরেন। যা একটা সময়ের পর মানসিক চাপের কারণ হয়ে যায়। কথা বলে ঝামেলা মেটাতে গিয়ে দেখা যায় উলটে তা বিরাট আকার নেয়। যার প্রভাব পড়ে কেরিয়ারেও। এহেন ক্ষেত্রেই অনেকে সাময়িক বিরতির সিদ্ধান্ত নেন।
আসলে সর্বদা একসঙ্গে থাকলে পুরনো ক্ষত শুকোনোর আগেই নতুন করে ক্ষত তৈরি হয়। অনেকেরই ধারণা দূরত্ব বাড়লে অনেকেই ফের একে অপরকে মিস করবেন। মনে পড়ে একসঙ্গে কাটানো সুন্দর সময়গুলো। তাতে দু'জনেই একে অপরের প্রতি টান অনুভব করবেন। আসলে কাছাকাছি থাকলে নিজের ভুলগুলো চোখে পড়ে না। কিন্তু সঙ্গী চোখের আড়াল হলে অনেকেই নিজের ভুলগুলো বুঝতে পারেন। যা মজবুত করে সম্পর্ক।
কিন্তু মাথায় রাখবেন এই বিরতি তখনই কাজে দেয়, যখন কী ঘটছে, কেন দূরত্ব তা নিয়ে দু'জনের ধারণাই পরিষ্কার থাকে। যদি একজন এটিকে শুধুমাত্র সাময়িক বিরতি মনে করেন, অন্যজন বিষয়টাকে গুরুত্ব না দেন, তাহলে জটিল হয়ে যাবে পরিস্থিতি। এখানেই শেষ নয়, বিরতি কতদিন চলবে, আপনারা যোগাযোগ রাখবেন কি না, এই বিরতির সময়টায় অন্য কারও সাথে দেখা করা ঠিক হবে কি না, সেই সব সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগেই। সবকিছু নিয়ে কথা বলে তারপরই বিরতিতে গেলে, নিয়ম ঠিকমতো দু'জনই পালন করলে দূরত্ব ভালোবাসা বাড়াবে বইকী!
