সম্পর্কে থাকাকালীন প্রেমিক বা প্রেমিকাকে দিনভর ফোন-মেসেজ করেন সকলেই। প্রতিমুহুর্তের খোঁজখবর রাখেন। কোথায় যাচ্ছে, কী খাচ্ছে, সব খবরই থাকে সেসময়। কিন্তু বিয়ে হয়ে গেলে যেন এক লহমায় বদলে যায় সবটা। অনেকেই মনে করেন, বিয়ে হয়ে গিয়েছে মানেই সম্পর্কের যত্নের আর প্রয়োজন নেই। তাতেই শুরু হয় সমস্যা। ধীরে ধীরে চিঁড় ধরে সম্পর্কে। তাই সম্পর্ককে মজবুত রাখতে কয়েকটি 'শত্রু'র বিষয় মাথায় রাখা আবশ্যক। অন্যথায় বিচ্ছেদও অস্বাভাবিক নয়।
সম্পর্কের এই ৫ 'শত্রু'কে না চিনলে বিচ্ছেদ অনিবার্য!
১. যে কোনও সম্পর্কের মূলই হল যোগাযোগ। যে কোনও কারণেই হোক না কেন, যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়াটা মোটেই কাজের কথা নয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একরাশ অভিমান মনে চেপে চুপ করে যান একজন। অন্যজন জানার চেষ্টাও করেন না যে কী হয়েছে। মনে রাখবেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কোন মুখোমুখি কথা বলাটা আবশ্যক। মাথায় রাখবেন, কথা বলা বন্ধ করে দিলে বাড়তে থাকে সমস্যা।
২. বর্তমানে দাম্পত্য কলহের অন্যতম একটি কারণ হল ফোনের প্রতি আসক্তি। কাজের প্রয়োজনে এখন প্রায় সকলেই দিনভর ডুবে থাকেন ফোনে। অফিস সেরে বাড়ি ফেরার পরও তার থেকে মুক্তি মেলে না। অনেকক্ষেত্রে আবার অফিস থেকে ফিরে বিনোদনের জন্য কেউ কেউ নজর রাখেন ফোনে। ফলে নিজেদের মধ্যে আর কথা বলা হয়ে ওঠে না। ফাঁকা সময়টুকু গিলে নেয় প্রযুক্তি। একঘরে থেকেও দূরত্ব বাড়তে থাকে দু'টো মানুষের মধ্যে।
৩. আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তি কিছু বলতেই পারে। কিন্তু সেটা সত্য মেনে নিয়ে পদক্ষেপ করাটা কিন্তু ভুল। এই পরিস্থিতিতে উচিত সঙ্গীর সঙ্গে তা নিয়ে খোলামেলাভাবে কথা বলা। গুজবে কান দেবেন না। তাতে সমস্যা বাড়বে বই কমবে না। আগে নিজেরা কথা বলুন।
৪. সর্বদা মাথায় রাখবেন সম্পর্কে ইগোর কোনও জায়গা নেই। সব অশান্তিতে আপনাকে জিততেই হবে এমনটা কিন্তু নয়। দুজনের মধ্যে কোনও সমস্যা হলে প্রথমেই ইগোকে দূরে সরিয়ে রাখুন। তারপর কথা বলুন। দেখবেন সমস্যা মিটবেই।
৫. অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায়, কোনও কিছু নিয়ে সমস্যা তৈরি হলে তা এড়িয়ে যান স্বামী-স্ত্রী উভয়েই। এটা কিন্তু বড় ভুল। এতে সম্পর্কের ভিত নড়ে যায়। সমস্যা যা নিয়েই হোক না কেন, এড়িয়ে যাওয়াটা কোনও কাজের কথা নয়। সরাসরি কথা বললে সমস্যা তো মেটেই, পাশাপাশি দৃঢ় হয় বন্ধন।
