চাকুরীজীবী মানুষদের দিনের বেশিরভাগ সময়টাই কাটে অফিস কলিগদের সঙ্গে। স্বাভাবিকভাবেই, এক সময়ের পর সহকর্মীদের কেউ কেউ বন্ধু হয়ে ওঠে, কারও সঙ্গে আবার গড়ে ওঠে আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক! কিন্তু অফিসে হওয়া বন্ধুটি সত্যিই আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী তো? এমন মানুষ প্রতিটি অফিসে থাকেই যাদের আপাতভাবে বন্ধু মনে হলেও, আদতে তা নয়। এ ধরনের মানুষদের সঙ্গে যত বেশি সময় কাটানো যায়, ততই তা প্রভাব ফেলবে আপনার কাজের মানে।
মনোবিদেরা বলেন, প্রত্যেক ধরনের মানুষেরই কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট আছে। একবার তা চিনে নিতে পারলে, আগে থেকে এড়ানো যেতে পারে আলাপচারিতা। কোন আচরণ দেখলেই সাবধান হবেন? জেনে নেওয়া যাক।
এক ধরনের কলিগ পাবেন, যারা গল্পে গল্পে আপনার দেরী করিয়ে দেবে
কম কথায় কাজ সারতে পারেন না যারা
কর্পোরেট কালচারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হলে, একেবারে চুপ করে থাকা চলে না। নিদেনপক্ষে পাশে বসা মানুষটির সঙ্গে গপ্প-গুজোব করতেই হয়। কিন্তু খেয়াল করে দেখবেন, এক ধরনের মানুষ থাকেন, যারা কাজের কথায় থামতে পারেন না কিছুতেই। যে কোনও অজুহাতে গল্প জুড়ে দেন। এর ফলে হয়তো দেখা গেল, অযথা দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়ে গেল, অথচ ডেডলাইনের আগে আপনার কাজ কিছুতেই শেষ হল না! এমন মানুষদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই ভালো!
আপনার সময় নষ্ট করবেন যারা
এক ধরনের কলিগ পাবেন, যারা গল্পে গল্পে আপনার দেরী করিয়ে দেবেন। মিটিং-এও অল্প সময়ের প্রসঙ্গ নিয়ে বলে চলবেন দীর্ঘ সময়। অথবা চা-কফির নাম করে আড্ডায় ডাকবেন আপনাকে। এমন হলে আগেই সাবধান! সাধারণত এমন মানুষেরা নিজের কাজটি সময়ে সেরেই ফেলেন। এরা ধূর্ত, নিজের আখের গুজিয়ে নেওয়াকেই সবথেকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। মাঝখান দিয়ে পিছিয়ে পড়ে উল্টোদিকে থাকা মানুষটি। ক্ষেত্রবিশেষে উপরমহলের কাছে ‘ফেস লস’-এর শিকারও হন এঁরাই!
গসিপপ্রেমীদের থেকে সাধু সাবধান!
অফিসে পাবেন এমন কিছু সহকর্মী, যাদের সঙ্গে অল্প সময়েই বন্ধুত্ব জমে ক্ষীর হয়ে উঠবে! এরা আগ বাড়িয়ে আপনার সাহায্য করবে তো বটেই, খেয়াল করে দেখবেন, আলাপ জমাতে অফিসের নানা গসিপ এরা ভাগ করে নেবেন আপনার সঙ্গে। তা শুনে আপনি যদি ভাবেন এরা আপনাকে বিশ্বাস করেন, তবে ভুল করছেন! এই মানুষেরা আপনার সম্পর্কে জানা তথ্যও জানিয়ে বেড়াবে অফিসের অন্যান্যদের। আর নিজের অজান্তেই হয়তো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অপ্রিয় পাত্র হয়ে উঠবেন আপনি।
এমন কলিগদের সঙ্গে মিশলে, নিজের অজান্তেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অপ্রিয় পাত্র হয়ে উঠবে পারেন
‘এমার্জেন্সি মোড’-এই থাকেন যারা!
ইমেল হোক বা এক্সেল শিট— সবকিছুই ‘এক্ষুনি’ চাই এই ধরনের কলিগদের। নিজেরাও সারাক্ষণ তটস্থ হয়ে থাকেন এঁরা। ব্যস্ত করে তোলেন উল্টোদিকের মানুষটিকেও। এমন মানুষদের সংস্পর্শে থাকলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আপনার নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠবে। অফিসের গণ্ডি পেরিয়ে তা প্রভাবিত করবে ব্যক্তিগত জীবনকেও। আর আপনার মানসিক শান্তি বিঘ্ন হবে এসবের জেরে।
অফিসজীবন যাঁদের কাছে ‘ফুলের বিছানা’!
এমন কিছু সহকর্মী আপনি কর্মজীবনে পাবেনই, যাঁদের কাছে অফিসের কোনও কাজেরই তেমন গুরুত্ব নেই। এঁরা নিজেরা যদি উপরমহলের ‘ব্যাড বুক’-এ জায়গা পায়, তবুও ভ্রূক্ষেপ করে না। ডেডলাইন ম্যাচ করার কোনও চেষ্টাই দেখবেন না তাঁদের মধ্যে। মনে রাখবেন, এমন কলিগেরা যে শুধু আপনার ইমপ্রেশন খারাপ করবেন, তাই নয়। ভিতর থেকে প্রভাবিত হতে পারে আপনার কর্ম-তৎপরতাও। এক সময়ে যখন সচেতন হবেন, তখন আর তা শুধরানোর সুযোগ থাকবে না।
তাহলে কি মেলামেশা বন্ধ করে দেবেন? একেবারেই নয়। চোখ-কান খোলা রাখলেই ক্ষতির সম্ভাবনা কমে। মনে রাখবেন, যার সঙ্গেই মেশেন না কেন, নিজের ব্যক্তিত্ব এমনভাবে গড়বেন, যাতে দিনের শেষে আয়নায় নিজের চোখে চোখ মেলাতে সংশয় না থাকে।
