সনাতন ধর্মে জ্যৈষ্ঠ মাসের মঙ্গলবারগুলি অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ। উত্তর ভারত তো বটেই, বর্তমানে বাংলা-সহ সারা দেশেই ‘বড় মঙ্গলবার’ বা ‘বুড়ো মঙ্গলবার’ পালনের চল বেড়েছে। পঞ্জিকা মতে, ২০২৬ সালটি হনুমান ভক্তদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাসে চারটি বা পাঁচটি বড় মঙ্গলবার দেখা যায়। কিন্তু বিশেষ যোগে এই বছর ভক্তরা পাবেন মোট আটটি বড় মঙ্গলবার।
ছবি: সংগৃহীত
কেন এই বিরল যোগ?
জ্যোতিষশাস্ত্রে এই বছরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০২৬ সালে জ্যৈষ্ঠ মাসটি সাধারণ ৩০ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন স্থায়ী হতে চলেছে। হিন্দু পঞ্জিকা বা বিক্রম সংবৎ ২০৮৩ অনুযায়ী, সৌর ও চন্দ্র মাসের সময়ের পার্থক্য ঘোচাতে প্রতি তিন বছর অন্তর একটি ‘অধিক মাস’ বা পুরুষোত্তম মাসের উদ্ভব হয়। ২০২৬ সালে ১৭ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত এই অধিক মাস চলবে। জ্যৈষ্ঠ মাসের মধ্যবর্তী সময়ে এই অধিক মাস পড়ায় পুরো মাসটি দুই মাসব্যাপী ব্যাপ্তি লাভ করেছে। চলতি ২ মে থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত মিলবে হনুমানের আরাধনার সেই বিশেষ আটটি সুযোগ।
পুণ্যতিথির নির্ঘণ্ট
চলতি বছরের আটটি বড় মঙ্গলবারের দিনক্ষণগুলি একনজরে দেখে নেওয়া যাক।
প্রথম: ৫ মে, ২০২৬
দ্বিতীয়: ১২ মে, ২০২৬
তৃতীয়: ১৯ মে, ২০২৬
চতুর্থ: ২৬ মে, ২০২৬
পঞ্চম: ২ জুন, ২০২৬
ষষ্ঠ: ৯ জুন, ২০২৬
সপ্তম: ১৬ জুন, ২০২৬
অষ্টম: ২৩ জুন, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মাহাত্ম্য ও আচার
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, জ্যৈষ্ঠ মাসের মঙ্গলবারে ভক্তিভরে বজরংবলীর পুজো করলে সমস্ত বিপদ থেকে মুক্তি মেলে। এই বিশেষ দিনগুলিতে মন্দিরে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ভক্তরা সুন্দরকাণ্ড পাঠ ও হনুমান চালিশা জপ করেন। উত্তর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এই দিনে ‘ভাণ্ডারা’ বা অন্নসত্রর আয়োজন করা হয়। মনে করা হয়, এই বছর আটটি মঙ্গলবার পাওয়ায় পবনপুত্রের আশীর্বাদ লাভ এবং পুণ্য অর্জনের সুযোগ ভক্তদের কাছে দ্বিগুণ হবে। অধ্যাত্মিক সাধনার জন্য জ্যৈষ্ঠের এই দীর্ঘ সময়টি বিশেষ ফলদায়ী বলে মনে করছেন শাস্ত্রজ্ঞরা।
