রাত পোহালেই বুদ্ধ পূর্ণিমা। শাস্ত্রমতে এটি অত্যন্ত শুভ দিন। এদিন নাকি নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মানলে মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়। দূর হয় অর্থসংকট। তাই বেশ কয়েকটি টোটকা মেনে চলা প্রয়োজন। তাতেই মিলবে সুফল।
- বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠুন। ঘর পরিষ্কার করে নিন।
- এরপর তাড়াতাড়ি স্নান সেরে নিন। পোশাক পরিবর্তন করে ফেলুন। ওইদিন অবশ্যই কালো রঙের পোশাক পরবেন না।
- স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে সূর্যপ্রণাম করুন। পরিবারের মঙ্গল কামনা করুন।
- বাড়ির ঠাকুরঘরে যান। আরাধ্য দেবদেবীদের ফুল, ফল নিবেদন করুন। ধূপ ও মোমবাতি জ্বালিয়ে দিন।
- এদিন ভুলেও আমিষ খাবার খাবেন না। শারীরিক সমস্যা না হলে উপবাস করতে পারেন। তবে তা না পারলে নিরামিষ খাবার খান।
ছবি: সংগৃহীত
- বাড়িতে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব কাটানোর উদ্যোগ নিতে পারেন। সন্ধ্যায় চাঁদের আলোয় রেখে দিন একমুঠো সরষে। পরদিন তা বাড়ির আশপাশে ছড়িয়ে দিন। কিছুক্ষণ রেখে পরে তা তুলে নিতে ভুলবেন না।
- বুদ্ধ পূর্ণিমায় চাঁদের আলোয় একমুঠো আতপ চাল রেখে নিন। তারপর তা মাথার উপর সাতবার ঘোরান। জলে ভাসিয়ে দিন। তাতে দূর হবে অর্থাভাব।
- সাতটি গোলমরিচ নিন। পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় রাখুন। মাথার উপর সাতপাক ঘুরিয়ে রাস্তায় ফেলে দিন। ভুলেও আর ওই গোলমরিচের দিকে তাকাবেন না। এভাবে সংসারে অর্থাগম হবে।
- বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন একটি অশ্বত্থ পাতা জোগাড় করুন। তাতে মনোস্কামনা লিখুন। চাঁদের দিকে তাকিয়ে নদীতে ওই অশ্বত্থ পাতা ভাসিয়ে দিন। তাতে মনোবাসনা পূরণ হবে।
৫৬৩ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে নেপালের লুম্বিনীর বিখ্যাত বাগানে জন্মগ্রহণ করেন গৌতম বুদ্ধ। জানা যায় সেই দিন ছিল বৈশাখী পূর্ণিমা। শুধু তাই নয়, এই বৈশাখী পূর্ণিমার দিনই বোধি বা সিদ্ধিলাভ করেছিলেন বুদ্ধদেব। তাঁর জন্ম তিথি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্রতম উত্সব। শুধু বৌদ্ধ নয়, হিন্দুদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দুরা গৌতমদেবকে বিষ্ণুর নবম অবতার হিসাবে মানেন। বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন গৌতম বুদ্ধ। এই উত্সব সারা দেশজুড়েই পালিত হয়। ভারত ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটানে ধুমধাম করে পালন করা হয় এই পূর্ণিমা। এই দিনে হিন্দুরা বাড়িতে লক্ষ্মী-নারায়ণ পুজোও করে থাকেন।
