অক্ষয় তৃতীয়ার দিন দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন হতে চলেছে। গত বছর এই দিনেই দিঘার মন্দিরে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার বিগ্রহে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে মন্দিরে আয়োজিত হতে চলেছে এক মহা ব্রহ্মোৎসব মহোৎসব। এই অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বিশেষ দিনে মন্দিরে চৈতন্য মহাপ্রভু ও নিতাইয়ের বিগ্রহের প্রাণ-প্রতিষ্ঠা হবে, যা এই উৎসবকে আরও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব প্রদান করবে।
মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো অনুযায়ী, ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে শুরু হবে আচার-অনুষ্ঠান, যার মধ্যে থাকবে আদিবাস ও দর্পণ অভিষেক। ২০ এপ্রিল সকালে অনুষ্ঠিত হবে শ্রী বিষ্ণু নরসিংহ যজ্ঞ, অভিষেক, ছাপ্পান ভোগ নিবেদন এবং রাজভোগ আরতি। সন্ধ্যায় থাকবে পালকি উৎসব, গৌর নিতাইয়ের স্বাগত উৎসব, নৌকা-বিহার এবং পুষ্পবৃষ্টি।
ইস্কন কলকাতার সহ-সভাপতি ও দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এবং প্রধান পুরোহিত রাধারমণ দাস বলেন, “অক্ষয় তৃতীয়া চিরন্তন মঙ্গলময়তার প্রতীক। ভগবান জগন্নাথের অশেষ কৃপায় এই ধাম এক বছরের সেবা ও ভক্তির যাত্রা সম্পূর্ণ করছে। এই অল্প সময়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি অসংখ্য মানুষের জীবিকা ও আশার উৎস হয়ে উঠেছে।” তিনি আরও বলেন, "এই পবিত্র দিনে শ্রী শ্রী গৌর নিতাই-এর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা এই ধামকে আরও জীবন্ত, ভক্তি ও সংকীর্তনের কেন্দ্র করে তুলবে। তাঁদের উপস্থিতি বিশ্বভ্রাতৃত্ব, প্রেম ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেবে।” তিনি রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। রাধারমনের কথায়, "তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে জগন্নাথ ধাম, দিঘা শুধু একটি তীর্থস্থান নয়, বরং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে।”
উদ্বোধনের পরে গত এক বছরে এক কোটির বেশি দর্শনার্থী ভিড় জমিয়েছেন দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে। তাঁদের মধ্যে ১৫০টিরও বেশি দেশের ইসকন ভক্তরাও রয়েছেন। এই মন্দির দিঘাকে একটি আধ্যাত্মিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছে এবং স্থানীয় অর্থনীতি ও পরিকাঠামোর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আসন্ন এই বর্ষপূর্তি উদযাপন দিঘাকে বিশ্ব মানচিত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ জগন্নাথ ভক্তির কেন্দ্র হিসেবে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
