সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার মথুরাপুরে শিক্ষার প্রসারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। ভারত সেবাশ্রম সংঘের পরিচালনায় মথুরাপুর প্রণবানন্দ মানব কল্যাণ কেন্দ্রের উদ্যোগে নতুন করে সেজে উঠল ‘প্রণবানন্দ বিদ্যামন্দির’। রবিবার এই বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ‘মামরাজ আগারওয়ালা ভবন’-এর আনুষ্ঠানিক দ্বারোদ্ঘাটন সম্পন্ন হল। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে ভবনের উদ্বোধন করেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রধান সম্পাদক স্বামী বিশ্বাত্মানন্দ মহারাজ।
এদিন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মথুরাপুর এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজের ১৩১তম আবির্ভাব বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন বহু স্থানীয় পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষ। উদ্বোধন উপলক্ষে এলাকায় একটি বর্ণাঢ্য পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। স্বামী বিশ্বাত্মানন্দ মহারাজের নেতৃত্বে সেই পদযাত্রা মথুরাপুরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। আশ্রমের সন্ন্যাসী থেকে শুরু করে ছোট ছোট পড়ুয়াদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ব্রহ্মানন্দ আগারওয়াল এবং মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংঘের অন্যান্য সন্ন্যাসী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নে শিল্পপতি ব্রহ্মানন্দ আগারওয়ালের বিশেষ সহযোগিতার কথা এদিন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
স্বামী বিশ্বাত্মানন্দ মহারাজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, গ্রামীণ এলাকার ছাত্রছাত্রীদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই বিদ্যালয় আগামী দিনে এলাকার শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর জোর দেওয়ার কথা জানান তিনি। সাংসদ বাপি হালদারও মথুরাপুরের মতো পিছিয়ে পড়া এলাকায় এই ধরনের উন্নত শিক্ষামূলক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
সুন্দরবন লাগোয়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই প্রান্তিক জনপদে এতদিন গুণমান সম্পন্ন বিদ্যালয়ের অভাব ছিল। নতুন এই ভবনটি চালু হওয়ার ফলে এলাকার কয়েক হাজার পড়ুয়া উপকৃত হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মথুরাপুর প্রণবানন্দ বিদ্যামন্দিরের এই আধুনিক ভবনটি ছাত্রছাত্রীদের কাছে শিক্ষার এক নতুন আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
