চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষ। বিশেষ নবমী তিথিতে আড়ম্বরে পালিত হয় রাম নবমী। ধর্মীয় বিশ্বাস মতে, এদিন মা কৌশল্যার কোল আলো করে মর্ত্যে আবির্ভাব হয় ভগবান রামের। তাই দিনটি রামের আবির্ভাব দিবস হিসেবে পালিত হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এই রাম নবমী। প্রতি বছরের মতো ২০২৬ সালেও এই উৎসব ঘিরে ভক্তদের মনে উৎসাহ তুঙ্গে। তবে দিনক্ষণ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে অনেকের মনে। পঞ্জিকা মতে, ২০২৬ সালে রাম নবমী পালিত হবে ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার।
ফাইল ছবি
রাম নবমী মূলত ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার শ্রীরামচন্দ্রের জন্মদিন। হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। ২০২৬ সালে নবমী তিথি শুরু হচ্ছে ২৬ মার্চ বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে। এই তিথি চলবে পরদিন অর্থাৎ ২৭ মার্চ সকাল ১০টা ০৬ মিনিট পর্যন্ত। শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, উদয়া তিথি বা সূর্যোদয়ের সময়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই হিসেবে ২৬ মার্চই মূল উৎসবের দিন।
রাম নবমীর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল মধ্যাহ্ন কাল। বিশ্বাস করা হয়, দুপুরবেলাতেই রামচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল। ২০২৬ সালে রাম জন্মের শুভ মুহূর্ত বা 'রাম জন্ম মুহূর্ত' শুরু হচ্ছে সকাল ১১টা ১৩ মিনিটে। যা চলবে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত। অর্থাৎ ভক্তরা পুজোর জন্য মোট ২ ঘণ্টা ২৮ মিনিট সময় পাবেন। এর মধ্যে দুপুর ১২টা ২৭ মিনিট হল সবথেকে মাহেন্দ্রক্ষণ। এই নির্দিষ্ট সময়েই মন্দিরে মন্দিরে বিশেষ আরতি ও পূজা সম্পন্ন হবে।
ফাইল ছবি
ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এই দিনটি বিশেষ ভক্তির সঙ্গে পালিত হয়। অযোধ্যায় এই উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। এদিন ভক্তরা উপবাস রাখেন এবং মন্দিরে গিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করেন। বাড়িতে বাড়িতে রামচরিতমানস পাঠ এবং অখণ্ড রামায়ণ পাঠের আয়োজন করা হয়। মন্দিরে মন্দিরে রামলালার মূর্তিকে দোলনায় দুলিয়ে আরাধনা করার রীতিও বহু প্রাচীন। ফল, মিষ্টি এবং পঞ্চামৃত দিয়ে দেবতাকে ভোগ নিবেদন করা হয়।
রাম নবমী কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়। এটি অধর্মের বিনাশ ঘটিয়ে ধর্মের জয়ের প্রতীক। রাম নবমীর দিনটি চৈত্র নবরাত্রিরও সমাপ্তি দিন। এই বিশেষ তিথিতে দেবী দুর্গার নয়টি রূপের উপাসনা শেষে শ্রীরামচন্দ্রের আবাহন করা হয়। অযোধ্যা থেকে রামেশ্বরম— গোটা দেশ এদিন মেতে ওঠে 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনিতে। আধ্যাত্মিক চেতনার পুনর্জাগরণ এবং আদর্শ জীবনবোধের অঙ্গীকার নিয়েই ২০২৬-এর রাম নবমীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন পুণ্যার্থীরা।
