মহাকাশ গবেষণায় কার্যত ইতিহাস। চাঁদের অদেখা দিকের এবার দেখাল নাসার আর্তেমিস ২ মিশন। এতদিন যা ছিল অন্ধকারে, তা এল আলোয়। আর্তেমিস ২-র দৌলতে চন্দ্রজমির খানাখন্দ দেখে চমকে উঠছেন সকলে। উপগ্রহের নয়া রূপের ভিডিও শেয়ার করেছেন এলন মাস্ক। তাতে চাঁদের বুকের গর্ত থেকে অমসৃণ জমির ছবি একেবারে স্পষ্ট। বলা হচ্ছে, এটাই চাঁদের অনালোকিত দিক। আর্তেমিস ২ মিশনের ওরিয়ন স্পেসক্রাফট চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করার সময় ঠিক এই অংশেই আলো ফেলেছে। তাতেই উঠে এসেছে স্পষ্ট ছবি। আপাতত চাঁদের সেই রূপ নিয়ে জোর চর্চা চলছে।
ইতিহাস গড়ে পাঁচ দশক পর ফের চন্দ্রাভিযানে নভোশ্চরদের পাঠিয়েছে নাসা। গত বৃহস্পতিবার ভোরে তিন মার্কিন এবং এক কানাডীয় মহাকাশচারীকে নিয়ে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ‘দানবীয়’ কমলা-সাদা মহাকাশযানটি চাঁদের উদ্দেশে রওনা দেয়। সোমবার, ৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় তা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছেছে। নাসার পরিকল্পনা, আগামী ১০ দিন ঘণ্টায় প্রায় ৯৬০০ কিলোমিটার বেগে মহাকাশযানটি চাঁদে ঘুরে পরীক্ষানিরীক্ষা চালাবেন চারজন। তবে আর্তেমিস ২ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ ঘিরে চক্কর কাটলেও আপাতত চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের কোনও পরিকল্পনা নেই।
আপাতত সেই মহাকাশযানই চাঁদের না দেখা দিকের ছবি ও ভিডিও তুলে পাঠিয়েছে। আর ওই সময়টুকু নাসার স্পেস নেটওয়ার্কের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। পরে যখন ফের তাকে দেখা যায়, এলন মাস্কের পাশাপাশি সেই ভিডিও শেয়ার করেছেন আরেক ব্যবসায়ী মারিও নওফেল। লিখেছেন, ''৪০ মিনিট সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকার পর আর্তেমিস আবার স্বস্থানে ফিরেছে। ওই ৪০ মিনিট ধরে সে চাঁদের অন্ধকার দিকটায় ছিল, তাই দেখা যায়নি।''
এর আগে নিজের গন্তব্যে পৌঁছে প্রথমেই আর্তেমিস ২ পাঠিয়েছিল নীলগ্রহের দারুণ ছবি। তার মধ্যে একটি ছবি ছিল কালো অন্তরীক্ষে নীল রঙের ঝলমলে পৃথিবী। মহাকাশযানের জানালা দিয়ে তোলা আরেকটি চমৎকার ছবিতে প্রশান্ত মহাসাগর ও মেঘমালার ঘূর্ণায়মান নীল-সাদা বিন্যাসে হাই-রেজোলিউশনে পৃথিবীকে দেখা যাচ্ছে। এবার সে দেখাল চাঁদের অন্ধকার পিঠ এবং তার 'খুঁত'।
