আছে কিন্তু নেই! শত্রুর হাত থেকে রেহাই পেতে ও অতর্কিত হামলায় শিকারের দফারফা করতে ছদ্মবেশ বা ক্যামোফ্লাজ প্রকৃতির এক অদ্ভুত বিস্ময়। সরীসৃপ প্রাণীদের মধ্যে এই ছদ্মবেশের আধিপত্য দেখা গেলেও, গ্রামবাংলার খাল, পুকুরে সাঁতরে বেড়ানো জলঢোঁড়ার (Keelback Snake) সে সবের বালাই ছিল না কোনওদিনই। কালো-হলুদের নিপুণ শিল্পে ভরা শরীর নিয়ে সদর্পে ঘুরে বেড়ানো সেই জলঢোঁড়ার দুই নয়া প্রজাতির সন্ধান মিলল ভারতে। আচরণগতভাবে চেনা জলঢোঁড়া চেয়ে এরা অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। আত্মপ্রকাশ নয়, বরং ছদ্মবেশে বিশ্বাসী নতুন এই প্রজাতি। এবং তা এতটাই নিপুণ যে চোখের সামনে থাকলেও নিজেদের কার্যত অদৃশ্য করে রাখতে পারে এরা।
দেরাদুনের ওয়াল্ড লাইফ ইনস্টিটিউশন অফ ইন্ডিয়া (WII)-এর বিজ্ঞানীদের তরফে জানানো হয়েছে, উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গলে আবিষ্কৃত হয়েছে বিরল প্রজাতির এই দুই সাপ। এই সাপ দুটি 'কিলব্যাক' প্রজাতির। ভারতে দেখা মেলা দুটি কিলব্যাক সাপ অত্যন্ত বিরল বলে দাবি জীব বিজ্ঞানীদের। প্রথম কিলব্যাক সাপটির দেখা মিলেছে মিজোরামের নেংপুই অভয়ারণ্যে। সেখানে দেখা পাওয়া সাপটি 'রাখাইন কিলব্যাক'। কারণ, বিরল প্রজাতির এই সাপের দেখা এর আগে মিলেছিল মায়ানমারে। এছাড়া দ্বিতীয়টির দেখা মিলেছে অরুণাচল প্রদেশের নামদফা জাতীয় উদ্যানে। এটির নাম 'কাচিন হিলস কিলব্যাক'। এই সাপগুলি বিষহীন এবং জলাভূমি ও জলের আশেপাশে থাকতে পছন্দ করে। এদের প্রধান খাবার মাছ ও ছোট পোকামাকড়।
প্রথম কিলব্যাক সাপটির দেখা মিলেছে মিজোরামের নেংপুই অভয়ারণ্যে। সেখানে দেখা পাওয়া সাপটির নাম 'রাখাইন কিলব্যাক'।
জানা যাচ্ছে, রুক্ষ পিঠের কারণে এরা লুকিয়ে থাকতে অত্যন্ত দক্ষ। গায়ের চামড়া হালকা লাল রঙের ও চকচকে হওয়ায় এদের শরীরে পড়া আলো প্রতিফিলিত হয়। যার জেরে এদের গায়ের রং চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে মিশে যায়। ফলে সহজে কারও চোখে পড়ে না। পরিবেশের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে মিশে যেতে পারে এরা, বিশেষ করে কাদা ও জলাভূমিতে। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই সমস্ত এলাকায় আরও অনেক প্রজাতির সাপ থাকতে পারে যাদের এখনও পর্যন্ত নথিভুক্ত করা হয়নি। ফলে এইসব অঞ্চলে বড়সড় বৈজ্ঞানিক জরিপের প্রয়োজন রয়েছে।
ভারতে আবিষ্কৃত নয়া কিলব্যাক স্নেক। ছবি সংগৃহীত।
এদিকে বাংলার পুকুর-ডোবায় যেসব কিলব্যাক বা জলঢোঁড়ার দেখা মেলে সেগুলি হলুদের উপর কালো ছোপ ছোপ দাগবিশিষ্ট। ইংরেজিতে এই সাপগুলিকে বলা হয় চেকার্ড কিলব্যাক (Checkered Keelback)। উল্লেখ্য, জীব বৈচিত্র্যের দিক থেকে ভারত অত্যন্ত সমৃদ্ধ। শুধু সাপের কথা বললেই, ভারতে ৩০০-রও বেশি প্রজাতির সাপ পাওয়া যায় এবং এর মধ্যে মাত্র ৬০ প্রজাতির সাপ বিষধর। সেখানে নয়া এই দুই সাপের আবিষ্কার ভারতের জীববৈচিত্র্যে এক নয়া অধ্যায় যোগ করল বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
