পৃথিবীর একগুচ্ছ অসামান্য ছবি উপহার দিল আর্তেমিস ২। অরিওন ক্যাপসুল থেকে চোখধাঁধানো ছবিগুলি দেখে মুগ্ধ মহাকাশপ্রেমীরা। ৫০ বছর মানুষের চন্দ্রাভিযানের শুরুতেই এই ছবিগুলি নিঃসন্দেহে বড় পাওনা হয়ে রইল বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম একটি ছবি, কালো অন্তরীক্ষের প্রেক্ষাপটে নীল রঙের ঝলমলে পৃথিবী। মহাকাশযানের জানালা দিয়ে তোলা আরেকটি চমৎকার ছবিতে প্রশান্ত মহাসাগর ও মেঘমালার ঘূর্ণায়মান নীল ও সাদা বিন্যাসের এক উচ্চ-রেজোলিউশনে পৃথিবীকে দেখা যাচ্ছে। হয়তো যা দেখে মহাকাশচারীদের মনে পড়ছিল মাত্র কয়েক দিন আগেই পেছনে ফেলে আসা নিজেদের গ্রহটাকে! এই সব যে কেবল ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে তা নয়। বরং গোটা পৃথিবীবাসীকেই নভশ্চরদের অভিযানের 'লাইভ' আপডেটও দেবে কার্যত।
ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে আমেরিকার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ‘দানবীয়’ কমলা-সাদা মহাকাশযানটি চাঁদের উদ্দেশে রওনা দেয়। এটিই গত পাঁচ দশকে নাসার প্রথম মানববাহী চন্দ্রযান। ভিতরে রয়েছেন আমেরিকার তিন জন এবং কানাডার এক জন নভশ্চর। তাঁরা হলেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। আগামী ১০ দিন ঘণ্টায় প্রায় ৯৬০০ কিলোমিটার বেগে মহাকাশযানটি চাঁদে প্রদক্ষিণ করবে এবং নভশ্চররা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবেন। তারপর মহাকাশযানটি ফের পৃথিবীতে ফিরে আসবে। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে মহাকাশযানের ওরিয়ন ক্যাপসুলটির অবতরণ করার কথা। তবে চাঁদকে চক্কর কাটলেও এই অভিযানে চাঁদে অবতরের কোনও পরিকল্পনা নেই। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী দিনে নাসা আর্তেমিস-৩’র পরিকল্পনা করবে। তখন সেটি চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবে।
কিন্তু এত দীর্ঘ সময় পরে চাঁদের মাটিতে মানুষ পাঠিয়েছে নাসা, অথচ সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে তেমন কোনও উৎসাহ নেই! মনে করা হচ্ছে, অর্থনৈতিক সংকট, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাকে তাঁরা মহাকাশ অভিযানের থেকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর সেই কারণেই এই অভিযানকে ঘিরে এহেন উৎসাহের অভাব!
