অনেকেই আফসোস করেন দিন কেন মাত্র ২৪ ঘণ্টার! তাঁদের জন্য সুখবর, দিনের 'আয়ু' বাড়ছে। এবং এমন একটা সময় আসবে, যখন একটা গোটা দিন হবে ২৫ ঘণ্টায়। তেমনটাই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
নাসার বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি কমছে। এই ঘটনার নেপথ্যে মূল কারণ হল চাঁদের উপরে পৃথিবীর মহাকর্ষ বলের প্রভাব এবং উলটোটা। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, পৃথিবীর গতি প্রতি শতাব্দীতে কমছে ১.৭ মিলিসেকেন্ড। যা আপাত ভাবে সামান্য মনে হলেও সামগ্রিক দিক থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। হিসেব করে দেখা যাচ্ছে, এই ভাবে চলতে থাকলে মোটামুটি ২০ কোটি বছর পরে একেবারে একঘণ্টা বেড়ে যাবে একদিনের পরিধি। অর্থাৎ তখন এক দিন কাটবে ২৫ ঘণ্টায়।
ব্যাপারটা যতই অদ্ভুত মনে হোক, বিজ্ঞানের হিসেবে এমনটা ঘটাই স্বাভাবিক। মনে রাখতে হবে, আজ দিনের হিসেব ২৪ ঘণ্টায় করা হলেও চিরকাল এমনটা মোটেও ছিল না। ১০০ কোটি বছর আগে দিন ছিল ১৯ ঘণ্টার। এরপর ধীরে ধীরে আরও ধীরগতি হয়েছে পৃথিবীর ঘূর্ণন। দিন এসে দাঁড়িয়েছে ২৪ ঘণ্টায়। সেই হিসেবেই এরপর ২৫ ঘণ্টায় একদিনের হিসেব করতে হবে।
কিন্তু এই পরিবর্তনের কী প্রভাব পড়বে আমাদের নীল রঙের গ্রহে? নিশ্চিতভাবেই কেবল মানুষ নয়, সমস্ত প্রাণী ও উদ্ভিদের উপরই প্রভাব পড়বে। গবেষকরা জানিয়ে দিয়েছেন, ২৫ ঘণ্টার দিন ঘুমের অভ্যাস, বাস্তুতন্ত্র এবং পৃথিবীতে দৈনন্দিন জীবনের ধরনে নানা পরিবর্তন দেখা দেবে। তবে যেহেতু এই পরিবর্তন হবে ধীরে ধীরে, তাই সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য গড়ে তোলার পর্যাপ্ত সময়ও পাবে এই গ্রহের জীবজগৎ।
