বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন গ্রহাণুদের নিয়ে। সত্যিই বিরাট চেহারার কোনও গ্রহাণু আছড়ে পড়লে কয়েকশো পরমাণু বোমা ফাটার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। এমনই ধ্বংসলীলা শুরু হবে যা চলবে পরবর্তী কয়েক বছর ধরে। বহু বছরের জন্য পৃথিবীর আবহাওয়ার চেহারাই বদলে যাবে। ধ্বংস হয়ে যাবে গ্রহের বহু অংশ। বিপুল প্রাণহানিতে পৃথিবী পরিণত হবে এক শ্মশানে। আর যদি তা না হয়ও, মাঝারি আকারের সাধারণ গ্রহাণুরও ক্ষমতা রয়েছে গোটা শহর ধ্বংস করে দেওয়ার! আপাতত তেমন চেহারার গ্রহাণুদের ঘিরেই বাড়ছে উদ্বেগ। যাদের নাগাল ঠিকঠাক পাচ্ছে না নাসাও!
সোমবার 'আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্স কনফারেন্সে' বক্তব্য রাখছিলেন ড. কেলি ফাস্ট। সেই সময় তিনি বলেন, অন্তত পনেরো হাজার 'নিয়ার আর্থ অবজেক্ট' ঘুরে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর চৌহদ্দিতে। যাদের ব্যাস অন্তত ১৪০ মিটার। কী এই নিয়ার আর্থ অবজেক্ট? অন্য গ্রহের সঙ্গে মহাকর্ষীয় টানের কারণে বহু গ্রহাণু আচমকাই পৃথিবীর অনেকটা কাছে চলে আসে। এর মধ্যে যেগুলির সঙ্গে সংঘর্ষের ক্ষীণ সম্ভাবনাও থাকে, তাদের ‘নিয়ার আর্থ অ্যাস্টরয়েড’ তথা NEA হিসেবে ধরা হয়।
কেলি জানিয়েছেন, ১৪০ মিটার বা তার ব্যাসের গ্রহাণুদের মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশকেই আগেভাগে চিহ্নিত করতে পেরেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র। আসলে খুব বড় গ্রহাণুগুলি অনেক আগেই ধরা পড়েছে। আর ছোট ছোট গ্রহাণু প্রায়ই আছড়ে পড়ে। সমস্যা হচ্ছে মাঝারি আকৃতির গ্রহাণুদের নিয়েই। যাদের ঘিরে বাড়ছে আশঙ্কা।
প্রসঙ্গত, এই ধরনের আগন্তুক গ্রহাণু অতীতে বহুবার পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছে এবং পৃথিবীর বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রাগৈতিহাসিক কালে পৃথিবীর বুকে রাজত্ব করা ডাইনোসরদের অবলুপ্তির পিছনেও এই ধরনের মহাজাগতিক বস্তুর আছড়ে পড়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দাবি করেন বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক অতীতে বহুবারই গ্রহাণুর সঙ্গে পৃথিবীর সংঘর্ষে মানব সভ্যতা ধ্বংস হওয়ার নানা জল্পনা ও গুজব শোনা গিয়েছে। এবার নাসার বিজ্ঞানীদের আশঙ্কায় নতুন করে বাড়ল গুঞ্জন।
