ছোট ছোট মেয়াদের মহাকাশ অভিযান পেরিয়ে মহাকাশচারীদের 'অপার্থিব' জীবনযাপনের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। চাঁদে এমনকী মঙ্গলগ্রহে বসতি স্থাপনের বাণিজ্যিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা যত বাড়ছে ততই মানুষের মহাকাশে বিচরণের সময়সীমাও বেড়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে একটি নয়া গবেষণায় পৃথিবীর বাইরে প্রজনন-স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলল।
সম্প্রতি 'রিপ্রোডাক্টিভ বায়োমেডিসিন অনলাইন' জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এই সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্র। যা নিয়ে বলতে গিয়ে ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলজিস্ট জাইলস পামার বলছেন, ''পাঁচ দশকেরও বেশি সময় আগে দুই বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি জৈবিকভাবে ও শারীরিকভাবে মহাকাশে কী কী সম্ভব, তা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছিল। যার মধ্যে একটি চাঁদে প্রথম অবতরণ, দ্বিতীয় ইন ভিট্রো পদ্ধতিতে মানব নিষিক্তকরণের প্রথম প্রমাণ। আর আজ অর্ধ শতাব্দী পেরিয়ে এসে আমরা এই প্রতিবেদনে যুক্তি পেশ করে জানিয়েছি, মহাকাশ একটি কর্মক্ষেত্র এবং নিয়মিত গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। আজ প্রজনন সংক্রান্ত প্রযুক্তিগুলি অত্যন্ত উন্নত ও ক্রমশ স্বয়ংক্রিয় এবং ব্যাপক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে।''
এর অর্থ এই নয় যে, কক্ষপথে গর্ভধারণের চেষ্টা করার জন্য কাউকে উৎসাহিত করা হবে। কেননা গবেষণাপত্রটির বার্তাটি এই যে, ঝুঁকিগুলি নিশ্চিত নয়, আপাতত তা অনুমানযোগ্য। কেননা তথ্য অপ্রতুল এবং নিয়মকানুন অস্পষ্ট। ফলে ঝুঁকির দিকটি রয়েই যাচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, এই বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
কিন্তু মহাকাশে সন্তানজন্ম? আগেই এই নিয়ে গবেষকরা জানিয়েছিলেন, মহাকাশে প্রসবের মতো পরিস্থিতি যদি হয়, সেক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে তা মোটেই অসম্ভব হবে না। তবে প্রচুর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। অন্তঃসত্ত্বা কোনও মহিলা স্পেস ওয়াকে যান, তাহলে তাঁর শরীরে থাকা ভ্রূণও সেই কৌশল রপ্ত করে ফেলবে। কারণ, মায়ের গর্ভের ‘অ্যামনিওটিক ফ্লুইডে’ সে ভাসমান অবস্থাতেই থাকে। তাই তা তার কাছে বিশেষ কঠিন কিছু নয়। কিন্তু অন্য সমস্যা থাকবে। মহাকাশে একদিকে যেমন স্তন্যপান প্রায় অসম্ভব, অন্যদিকে শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকলাপ ব্যাপকভাবে ধাক্কা খাবে। শূন্যে ভেসে থাকার ফলে মাধ্যাকর্ষণের সঙ্গে অভ্যস্ত হতে পারবে না শিশুটি।
