অরণ্যবাসী আদিম মানুষ থেকে আজকের 'সভ্য' মানুষ- এই দীর্ঘ যাত্রাপথে মানুষের আসল সঙ্গী তার মগজাস্ত্র। মস্তিষ্কের আকার যত বেড়েছে ততই শ্বাপদসঙ্কুল পৃথিবীতে বাকি জীবদের প্রতিস্থাপিত করে এই নীল রঙের গ্রহে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেছে 'অমৃতের পুত্রকন্যা'রা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এল চমকপ্রদ তথ্য। জানা গেল মধ্যমা ও অনামিকা- এই দুই আঙুলের আকারের সঙ্গে যোগ রয়েছে মস্তিষ্কের বিবর্তনের! কী সেই যোগ? জানিয়েছেন গবেষকরা।
নতুন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, জন্মের আগেই অর্থাৎ ভ্রূণাবস্থায় হরমোনগুলি একটি আশ্চর্যজনক ভূমিকা পালন করতে পারে। আর মধ্যমা ও অনামিকা আঙুলের দৈর্ঘ্যের সঙ্গে কিন্তু ইস্ট্রোজেন ও টেস্টোস্টেরনের এক্সপোজারের সম্পর্ক রয়েছে। ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের গবেষকরা এই সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। অধ্যাপক জন ম্যানিংয়ের নেতৃত্বাধীন সেই গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি 'আর্লি হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট' জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
জানা গিয়েছে, গবেষকরা ২২৫টি নবজাতককে পরীক্ষা করে দেখেছেন। সেই দলে ১০০ জন ছেলে এবং ১২৫ জন মেয়ে ছিল। ফলাফলে ছেলেদের মধ্যে একটি স্পষ্ট প্যাটার্ন দেখা গিয়েছে। জন্মের আগে ইস্ট্রোজেনের মাত্রার দিকটি এখান থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়। যদিও মেয়েদের মধ্যে এমন কিছু দেখা যায়নি। গবেষকরা জানিয়েছেন, ইস্ট্রোজেন মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। যা এই গবেষণা থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। এদিকে, পুরুষদের মধ্যে উচ্চতর অনুপাতের মান হৃদরোগের সমস্যা, কমসংখ্যক শুক্রাণু, সিজোফ্রেনিয়ার সঙ্গেও জড়িত।
প্রফেসর ম্যানিং এর আগেও এই ধরনের গবেষণায় সকলের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। পুরনো গবেষণা থেকে দেখা যাচ্ছে, আঙুলের দৈর্ঘ্যের সঙ্গে অ্যালকোহল পান, কোভিড সংক্রমণ ও ফুটবল খেলোয়াড়দের দেহে অক্সিজেনের ব্যবহারের সম্পর্ক রয়েছে। সব মিলিয়ে এই গবেষণাগুলি থেকে প্রমাণিত হয় একটি সাধারণ শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য কীভাবে মানবদেহের প্রাথমিক বিকাশের সময় যে প্রভাব ফেলে তা কতটা শক্তিশালী।
