সোম রায়, ভুবনেশ্বর: সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটা। নন্দনকানন রোডের পাশের টিম বাসে গজগজ করছেন ডুডু। না, আগের রাতের ঘটনার জন্য নয়। এই রাগ অন্য কারণে। অবশ্য শুধু ডুডু নন। রাগে মুখ লাল করে বাসে বসে ছিলেন আমনা, কাটসুমিরাও।
কিন্তু কেন?
ভুবনেশ্বর স্টেশন থেকে হাওড়া যাওয়ার ট্রেন সকাল পৌনে সাতটায়। পাঁচটার সময় হোটেলের লবিতে সবার রিপোর্ট করার কথা। সেই মতো সেখানে চলে এসেছেন সব ফুটবলার। খালিদ, সিদ্দিকিও। কিন্তু তখনও দেখা নেই টিডি সুভাষ ভৌমিকের। সময় বয়ে যেতে দেখে একে একে বাসে উঠে বসে পড়লেন সবাই। কিন্তু বসে থাকাটাই সার হল। সুভাষের দেখা নেই। অথচ টিম হোটেলের সামনে ইঞ্জিন স্টার্ট করে এসি চালিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে বাস। ম্যানেজার বিবেক ভৌমিক ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেন। এক কিট বয়কে পাঠানোও হল। কিন্তু তাঁর দেখা নেই। বিরক্ত হয়ে বাসেই গায়ে চাদর চাপা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন দুই ফুটবলার-ডুডু, কাটসুমি। প্রায় আধঘণ্টা পর নামলেন সুভাষ। ম্যানেজারকে বলে বসলেন, “তোমরা দাঁড়িয়ে আছ কেন? ফুটবলারদের এভাবে বাসে বসিয়ে রাখার মানে কী? আমি তো বলেইছিলাম ট্যাক্সি করে চলে যাব।” ইস্টবেঙ্গলের অন্দরমহল আবার বলছে অন্য গল্প। সুভাষ ভৌমিক প্রথমে ঠিক করেছিলেন বাস ছাড়বে সাড়ে পাঁচটায়। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে খালিদ রিপোর্টিং টাইম দেন পাঁচটায়। এখানেই সমস্যা বাধে।
[ব্যাডমিন্টন-টেবল টেনিসে সোনা, কমনওয়েলথে সোনালি সফর ভারতের]
শহরে ফিরে আবার বোমা ফাটিয়ে বসলেন ডুডু। আগের দিন আইজলের বিরুদ্ধে মাঠে কেন মেজাজ হারিয়েছিলেন, বললেন সেই কথা। “জার্সি ছিঁড়তে যাইনি। হতাশায় গলার কাছে ধরে ঝাঁকাচ্ছিলাম। সুয়ারেজ তো জার্সি ছিঁড়ে ফেলেছিল। বার্সেলোনা কি ওকে এর জন্য মেরে ফেলেছে? তাছাড়া ক্রমাগত আমায় গ্যালারি থেকে আক্রমণ করা হচ্ছিল। বাঁদর বাঁদরও বলা হয়। তাই রাগ ধরে রাখতে পারিনি। তার উপর অনেক সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেছি। একটি জিনিস বুঝতে পারছি না, প্রথমদিন থেকে কেন আমায় টার্গেট করা হচ্ছে? আরে আমি তো ইস্টবেঙ্গলেরই ফুটবলার। আমায় আক্রমণ করে কী লাভ? গোল মিসের জন্য এটাও একটা কারণ। ফোকাস নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল।”
সুপার কাপ জিততে ডুডু কতটা ফ্যাক্টর হতে পারেন, তা ভালই জানেন ইস্টবেঙ্গলের দুই কোচ। ডুডুর মান ভাঙাতে রাতেই পিৎজা, কোল্ড ড্রিঙ্ক পাঠান খালিদ। সকালে ডুডু নিজেই দেখা করেন সুভাষের সঙ্গে।ভুবনেশ্বরের প্রথম দফার সফর থেকে একটা শিক্ষা নিলেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। ঠিক হয়েছে আর বাসে নয়। এদিন যেভাবে ট্রেনে ফিরলেন, সেমিফাইনালের আগে আসা হবে সেভাবেই। তবে প্রথম প্রাধান্য অবশ্যই পাবে বিমান।
[‘মাঠে অঘটন ঘটলে আমরা দায়ী নই,’ ম্যাচের আগে হুমকির মুখে ধোনির চেন্নাই]
এদিকে আগামী মরশুমের দলবদলের কাজ শুরু করে দিল ইস্টবেঙ্গল। আমনার সঙ্গে কথাবার্তা প্রায় পাকা। ভুবনেশ্বরে আসার আগেই মিটে যেতে পারে সই পর্ব। এদিন সই করানো হল মিনার্ভা পাঞ্জাবের গোলরক্ষক রক্ষিত দাগরকে।
The post শহরে ফেরা নিয়ে ‘অশান্তি’, সুভাষের জন্য অপেক্ষা করে ক্ষিপ্ত লাল-হলুদ ফুটবলাররা appeared first on Sangbad Pratidin.
