ইংল্যান্ড- ২ (হ্যারি কেন )
তিউনিশিয়া-১ ( সাসি-পেনাল্টি)
সঞ্জয় সেন: ইনজুরি টাইমের গোলে কোনওক্রমে জিতলেও ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কিন্তু আমার ভাল লাগল। ফুটবলে গোলই শেষ কথা। তাই নিজেদের প্রচুর মিস। ডিফেন্সে কাইল ওয়াকারের একটা বিশ্রী ভুলে বিপক্ষকে পেনাল্টি দিয়ে বসা। তার জেরে ম্যাচ প্রায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ১-১ চলা। কিন্তু ক্যাপ্টেন কেনের এখনকার দুরন্ত স্কোরিং ফর্ম শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় গোল এনে দিল ইংল্যান্ডকে। দেশের জার্সিতে শেষ আট ম্যাচের সাতটায় গোল করল টটেনহ্যাম ফরোয়ার্ড। কেনকে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের নেতৃত্ব দিয়ে ভুল করেননি কোচ গ্যারেথ সাউথগেট।
[ জার্মানরা হারতেই বান্ধবীকে বিয়ের প্রস্তাব মেক্সিকান যুবকের, তারপর… ]
কেন ইংল্যান্ডকে ভাল লাগল? প্রথমত, ওদের ফুটবল বলতে বরাবর যেটা আমরা সবাই বুঝি, লং বল স্টাইল সেটা এই দলের খেলায় একরকম উধাও। তিন সেন্টার ব্যাকে খেলল। যার মধ্যে একজন লেস্টার সিটি-র ম্যাগুইরি। যার মানে তারকা তত্ত্ব ছেড়ে প্রিমিয়ার লিগের মাঝারি আর ছোট দলের ভাল প্লেয়ারকেও টিমে অগ্রাধিকার দিয়েছে। মাঝমাঠে পাঁচজন, কিন্তু তাদের মধ্যে হেন্ডারসন আসলে ডিপ ডিফেন্সের সামনে হোল্ডিং সুইপার খেলে গেল। সবচেয়ে বড় কথা, তারুণ্যে ভরপুর একটা সাইড। যারা সারাক্ষণ ছুটল, সব বলের পিছনে তাড়া করল। টিমগেম খেলল। যার বড় উদাহরণ, দলে অ্যাশলে ইয়ং, রহিম স্টার্লিং, হ্যারি কেনের মতো বড় নাম থাকলেও প্রায় সব সেট পিস মারার জন্য ট্রিপিয়ারের মতো একজন আনকোরা ফুটবলারকে দেখলাম ইংল্যান্ড কোচ বেচেছেন।
[ ফুটবলের টানে সাইকেলে চড়েই রাশিয়া পৌঁছালেন কেরলের ব্যক্তি ]
এবং ট্রিপিয়ার-ই এই ম্যাচে আমার চোখে ইংরেজদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে। রাইট উইং দিয়ে চমকপ্রদ কিছু আক্রমণ করল। দারুণ সব ক্রস দিচ্ছিল। ইংল্যান্ড আক্রমণের উৎসমুখ ছিল ও-ই। এমনকী হাফটাইমে স্কোরলাইন ১-১ থাকলেও প্রথম পঁয়তাল্লিশ মিনিট ইংল্যান্ড বিপক্ষ গোলে যতগুলো শট নিয়েছে, এই বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত আর্জেন্টিনা বাদে আর কাউকে আমি নিতে দেখিনি। কিন্তু এত সব ভাল ইংল্যান্ডের একটামাত্র দোষে বরবাদ হয়ে যাচ্ছিল। সেটা হল ফাইনাল থার্ডে গিয়ে ওদের বালখিল্যের মতো মিসের পর মিস। কিন্তু এদের তো অনেকেই ইপিএলের বড় বড় টিমে বিখ্যাত কোচেদের অধীনে সারা বছর প্র্যাকটিস করে! সোমবার শুধু প্রথমার্ধেই ইংল্যান্ডের ৫-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার কথা। কে মিস করল না! একবার তো দেখা গেল, একটা অ্যাটাক থেকেই তিউনিসিয়ার বক্সে তিন-তিনজন ইংল্যান্ড প্লেয়ার গোলের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করছে। প্রথমে দেলে আলি, তারপর স্টার্লিং, তৃতীয় বারের চেষ্টায় জন স্টোনস। জেসি লিংগার্ড তো একাই তিনটে মিস করল। প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করে ফেলতে পারত। ব্রিটিশ মিডিয়া ওকে ঠাট্টা করে ‘মেসি’ লিংগার্ড বলে বোধহয় এ জন্যই!
তিউনিশিয়া আফ্রিকান দলগুলোর স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ীই বড় শরীরকে কাজে লাগিয়ে বিপক্ষকে আটকানোর চেষ্টা করে গিয়েছে। সঙ্গে ছিল হেভিওয়েটদের গোল করার রাস্তা আটকাতে নিজেদের বক্সে বুটের জঙ্গল তৈরি রাখা। দ্বিতীয়ার্ধে তো একটা সময় এগারোজনই ডিফেন্স করে গেল। কিন্তু বড় দলের বিরুদ্ধে ছোট টিম তো সেটাই করে থাকে। আমাদের ময়দানেও করে। তখনই তো বড় টিম কোনও সেট পিস থেকে গোল তুলে নেবে। অনেক বেশি উইং ব্যবহার করে, মুহুর্মুহু পজিশন পাল্টে বিপক্ষের আলট্রা ডিফেন্সকে ধোঁকা দেবে। ইংল্যান্ড সেসব করল কোথায়? সবচেয়ে দুর্বল গ্রুপে আছে। তাই হয়তো নক আউটে চলে যাবে শেষ পর্যন্ত।
The post কেন সাইক্লোনে উড়ে গেল তিউনিশিয়া, জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু ইংল্যান্ডের appeared first on Sangbad Pratidin.
