সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে মোহনবাগান। শুক্রবার এআইএফএফের দল ইন্ডিয়ান অ্যারোজের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে সঞ্জয় সেনের ছেলেরা। আর সেই ম্যাচটি খেলেই কলকাতা ফুটবলে নয়া কীর্তি গড়তে চলেছে গঙ্গাপাড়ের ক্লাব। প্রশ্ন উঠতেই পারে সামনে তো কেবল আই লিগের ম্যাচ। তাহলে ইতিহাস কীভাবে সৃষ্টি করতে চলেছে ময়দানের শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবটি? আসলে এতদিন আই লিগ হোক কিংবা জাতীয় লিগ সমস্ত ম্যাচ খেলা হত যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন কিংবা বারাসত বা রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে। আবার কখনও হয়েছে শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে। কলকাতা লিগের ম্যাচ হলেও কিন্তু ময়দানে কখনওই আই লিগের ম্যাচ হয়নি। আর ২৯ ডিসেম্বর অ্যারোজের বিরুদ্ধে ম্যাচটি মোহনবাগান খেলবে নিজেদের মাঠে। আর এভাবেই ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম তুলে নিতে প্রস্তুত সবুজ-মেরুন শিবির।
[এবার সিন্ধু সঙ্গে কথা বলতে পারবেন আপনিও, জানেন কীভাবে?]
এই ম্যাচ ঘিরে কতটা উত্তেজনা সেটা মোহনবাগান তাঁবুতে ঢুঁ মারলেই বোঝা যাবে। একদিকে পুরোদমে স্টেডিয়ামে বাসর আসনগুলিতে সাফাইয়ের কাজ চলছে, অপরদিকে চলছে স্টেডিয়ামের বেশ কিছু জায়গার কাজ। এমনকী ম্যাচের আগের দিনের সাংবাদিক সম্মেলনও হল সেই কাজ চলাকালীনই। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ঐতিহাসিক ম্যাচের আগে আয়োজনে কোনওরকম খামতি রাখতে চাইছেন না ক্লাব কর্তারা। যাতে আগামিদিনেও এআইএফএফের কাছ থেকে ম্যাচ আয়োজনের ছাড়পত্র মেলে। কর্তারা আশাবাদী ম্যাচে স্টেডিয়াম ‘হাউসফুল’ থাকবেই। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে মোহনবাগানের পক্ষ থেকে এসেছিলেন কোচ সঞ্জয় সেন, অধিনায়ক সোনি নর্ডি, গোলকিপার শিলটন পাল এবং সহ সচিব সৃঞ্জয় বোস। প্রত্যেকেই সমর্থকদের কাছে আরজি জানান, ম্যাচের দিন যাতে মাঠে কোনওরকম বিশৃঙ্খলা না সৃষ্টি হয়। কোনওরকম অযাচিত ঘটনা ঘটলে আগামিদিনে আর ম্যাচ আয়োজনের ছাড়পত্র নাও মিলতে পারে। এমনটাই সাবধানবাণী দিয়ে রাখলেন তাঁরা।
[তারকাখচিত রিসেপশনে প্রতিবন্ধী ফ্যানকে নিমন্ত্রণ, বিরুষ্কাকে কুর্নিশ নেটিজেনদের]
এদিকে, সাংবাদিক সম্মেলনে এলেও আগামী ম্যাচে যে বাগানের প্রাণভোমড়া সোনি নেই, সেটা নিজে মুখে স্বীকার করে নিলেন বাগান কোচ সঞ্জয় সেন। হাইতিয়ান তারকাকেও দেখা গেল কেমন মুষড়ে রয়েছেন। হয়তো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারবেন না বলে। কথাও খুব বেশি বললেন না। তবে সোনিকে ছাড়া যে তাঁরা জিততে পারেন সে ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী সঞ্জয় সেন। চেতলার বাসিন্দার কথায়, ‘চোট আঘাত ফুটবলের একটি অংশ। বিশ্বের বহু দেশকে এই সমস্যায় ভুগতে হয়।’ এর সঙ্গেই তাঁর সংযোজন, “সোনিকে ছাড়াই আমাদের জেতার ক্ষমতা রয়েছে।” প্রতিপক্ষ নিয়ে অবশ্য সতর্ক মোহনবাগান কোচ সঞ্জয় সেন। জানালেন, “ওদের টিমের খেলা দেখেছি। খুব দ্রুত আক্রমণে উঠে আসে। গোটা টিম উপরে চলে আসে সেই সময়। আবার ডিফেন্সের সময়ও সবাই নিচে নামে। ওদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। তবে ঘরের মাঠে পুরো পয়েন্টের জন্যই ঝাঁপাব।”
[ইতিহাসের দোরগোড়ায় মোহনবাগান, সাজসাজ রব ময়দানে]
[ধোনির মেয়ে গাইল ক্রিসমাস ক্যারল, নেটদুনিয়ায় ভাইরাল ভিডিও]
অপরদিকে, ইন্ডিয়ান অ্যারোজের হয়ে এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে এসেছিলেন কোচ মাতোস। সঙ্গে আবার ছিলেন রহিম আলি, যিনি আবার আগে মোহনবাগানেই খেলতেন। পুরনো দল, চেনা মাঠ। আর তাই কিছুটা হলেও যেন আত্মবিশ্বাসী শোনাল ভারতের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ দলের এই সদস্যকে। বললেন, “চেনা মাঠ, চেনা পরিবেশ। স্পেশ্যাল কিছু করে দেখাতে চাই।” তবে অ্যারোজের কোচ মাতোস অবশ্য জানতেন না যে এই ম্যাচে সোনি অনিশ্চিত। প্রশ্ন উঠতেই তিনি যেন অবাক। বলে দিলেন, “এই ব্যাপারটা সত্যিই আমি জানতাম না। সোনি দুর্দান্ত ফুটবলার। ওর খেলা দেখেছি। তবে আই লিগের সৌজন্যে কলকাতায় এবারই প্রথম এলাম। খালি হাতে ফিরতে চাই না।” চার্চিল ম্যাচের পর থেকেই বেশ কয়েকটি ম্যাচে বাজে পয়েন্ট নষ্ট হয়েছে মোহনবাগানের। উলটোদিকে ইস্টবেঙ্গল তরতরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মোহনবাগান শিবিরের অবস্থান ঠিক কীরকম? কোচ সঞ্জয় সেন যা বললেন, তাতে একটা ব্যাপার পরিষ্কার, বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ মোহনবাগান শিবির। জানালেন, ‘কোন দল কী করছে তাতে আমরা মাথা ঘামাতে চাই না। তিনটি ম্যাচ ড্র মানে আমরা ৬ পয়েন্ট নষ্ট করেছি। অর্থাৎ যা কিনা দু’টি ম্যাচ হারার সমান।’ সঞ্জয় সেনের বক্তব্যেই পরিষ্কার আগামী ম্যাচে অলআউট ঝাঁপাবে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।
[পোশাকের অজুহাতে মন্দিরে প্রবেশে বাধা প্রতিবন্ধী এভারেস্টজয়ীকে]
The post সোনিকে ছাড়াই ঐতিহাসিক ম্যাচে অ্যারোজের মুখোমুখি মোহনবাগান appeared first on Sangbad Pratidin.
