১১৮ বছরের ডেভিস কাপের ইতিহাসে সর্বাধিক (৪৩) ডাবলস ম্যাচ জেতার নজির গড়ার পর লিয়েন্ডার পেজ হোয়াটসঅ্যাপ কল-এ সংবাদ প্রতিদিন প্রতিনিধি সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায়-কে যা বললেন…
নরেশ স্যর আপনাকে বললেন?
হ্যাঁ, সত্যি। কাল (শুক্রবার) রাত এগারোটায় স্যরকে এখান (তিয়ানজিন) থেকে ফোন করেছিলাম। অত রাতেও জেগে ছিলেন। আমাকে হেসে বললেন, টেনশনে ঘুম আসছে না। তারপর আমাকে বললেন, টিপস চাও না কি? আর গড়গড় করে বলে চললেন, শনিবার কোর্টে জাস্ট ম্যাচটা উপভোগ করো। ভুলে যাও টাইয়ের স্কোর কী! তোমারও এটা কী ম্যাচ! বরং সকালে উঠে নিজের এত বছরের ডেভিস কাপ কেরিয়ারের সেরা জয়গুলোকে মনে মনে রিউইন্ড করো। ফ্রেজুর সেই ফ্রান্স টাই। কয়েক বছর আগে ব্রাজিলের সঙ্গে এরকমই ০-২ পিছিয়ে পড়েও ৩-২ টাই জেতা…। দেখবে অনেক রিল্যাক্সড মনে হবে। আর সেই মাইন্ডসেটটা নিয়ে কোর্টে নামো। জিতবে।
[ডেভিস কাপে ডাবলসে ৪৩তম জয়, নয়া বিশ্বরেকর্ড গড়লেন লিয়েন্ডার পেজ]
ওহ! কী বলব? নরেশ স্যরের কথাগুলো হুবহু মিলে গিয়েছে আজ। আরেকটা ব্যাপারও আজ হাড়েহাড়ে বুঝলাম। শচীন তেণ্ডুলকরের ৯৯ থেকে ১০০ নম্বর ইন্টারন্যাশনাল সেঞ্চুরি পেয়ে ঠিক কীরকম গোছের রিল্যাক্সড লেগেছিল। শচীনের মতো আমাকেও লাস্ট দেড় বছর যার সঙ্গে দেখা হয়েছে, শুনতে হয়েছে কবে বিশ্বরেকর্ডটা আসছে? ঈশ্বরের কৃপায় সেটা শেষমেশ ঘটায় কী যে মনের ভেতর হালকা লাগছে, আমার দ্বারা ভাষায় প্রকাশ অসম্ভব।
বাবাকে লকাররুম থেকেই টেক্সট করেছিলাম। বললাম, মুম্বই ফিরছি। সেখানেই ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সেলিব্রেট করব। তার আগে অবশ্য এখনই এই বিশ্বরেকর্ড আমার বাবা-মা, আমার মেয়ে আইয়ানা, আমার প্রত্যেক ডেভিস কাপ ক্যাপ্টেন, আমার প্রত্যেক ডেভিস কাপ ডাবলস পার্টনারকে উৎসর্গ করছি। এই বিশ্বরেকর্ড ভারতবর্ষের। ভারতবাসী হিসেবে আমি গর্বিত। ভারতের হয়ে এত বছর খেলতে পেরে আমি অভিভূত। প্রচুর পরিশ্রম, বিশাল অনুপ্রেরণা, অনেক ওঠা-পড়ার রেজাল্ট এই বিশ্বরেকর্ড। যে যাত্রা পথে আমি সর্বদা স্বাভাবিক থেকেছি। আমার এই অ্যাচিভমেন্ট ভারতীয় টেনিসকে নতুন ভাবে সেজে উঠতে যদি অনুপ্রাণিত করে সেটাই হবে আসল…
[সোনা ফলাচ্ছেন ভারতীয় ভারোত্তোলকরা, ৮৫ কেজি বিভাগে বাজিমাত ভেঙ্কট রাগালার]
The post ‘বিশ্বরেকর্ডের টিপস নিতে রাত এগারোটায় স্যরকে ফোন করেছিলাম’ appeared first on Sangbad Pratidin.
