শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পদার্পণ করেই কি এতদিনের বহন করে আসা কৌলিন্য হারাল ফুটবল? যেদেশে এতদিন ধরে ফুটবল ছিল অপ্রাসঙ্গিক। ‘দুয়ো রানি’। সেই সাম্রাজ্যে এসেই ফুটবলের যে রোমান্টিকতা, ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নামক শব্দের আড়ালে আর্থিক ঝনঝনানি আর অধিক মুনাফার চাপে একেবারের ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে।
ফুটবল বন্ধ করে চোখের সামনে তখন মার্কিনি বিজ্ঞাপনের পসার। ফুটবলে কখনও এরকম কোনওদিন আগে হয়েছে না কি? ফুটবলে তো, বাস্কেটবল, আমরিকান ফুটবল কিংবা ক্রিকেটের মতো বারবার টাইমআউটের কোনও সুযোগ থাকে না। কিন্তু আমেরিকা বিশ্বকাপের এই ‘হাইড্রেশন ব্রেক’-এর চক্করে পড়ে ফুটবল তার নিজস্ব কৌলিন্য হারিয়ে আমেরিকান রাগবি না হলে বাস্কেটবলের মতো হয়ে গিয়েছে। অস্ট্রিয়া ম্যাচের আগেরদিন সাংবাদিক সম্মলনে আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি অভিযোগ করছিলেন, “এই হাইড্রেশন ব্রেকের কোনও অর্থই হয় না। যখন প্রতিপক্ষকে আমরা চেপে ধরেছি, ঠিক সেই সময় প্রতিপক্ষ দল এই ব্রেকের সুবিধাটা নিচ্ছে। গতিময় ফুটবলের যে মোমেন্টটা তৈরি হয়েছিল, সেখানে সমাপ্তি।” ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল তো পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, “এই হাইড্রেশন ব্রেক, এভাবে ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করে দেবে, ভাবতেই পারছি না।”
বিশ্বকাপের মাঝে চারিদিকে এমন পর্যায়ে এই ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে যে, বাধ্য হয়ে মিডিয়ার সামনে মুখ খুলে নিজেদের পক্ষে সাফাই দিতে বাধ্য হয়েছেন খোদ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফানতিনো। তিনি জানাচ্ছেন, এই হাইড্রেশন ব্রেকের বিজ্ঞাপন থেকে ফিফা নাকি অতিরিক্ত কোনও অর্থ পাচ্ছে না। কিন্তু সত্যি হচ্ছে এটাই যে, এবারের বিশ্বকাপকে আমেরিকা আর ফিফা হাত ধরাধরি করে আর্থিক মুনাফা ঘরে তোলার বিশাল মঞ্চ বানিয়ে ফেলেছে। সর্বত্র শুধু ডলারের ঝনঝনানি। আর সেখানে ফুটবল নামক আবেগ, একটা ধর্মকে জোর করে বিজ্ঞাপনের তকমায় কালিমালিপ্ত করতে চাইলে ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ভক্তগণ তো বিদ্রোহ করবেই।
