মাঝেমধ্যেই কল ড্রপ হচ্ছে? দরকারি কথাবার্তায় ছেদ পড়ছে? একদিকে বিরক্তি। অন্যদিকে সময়ের অপচয়। এক সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক ছিল শুধুই কথা বলার মাধ্যম। আজ কিন্তু তা বিদ্যুৎ বা পানীয় জলের মতোই এক অপরিহার্য পরিকাঠামো। ভারতের ডিজিটাল মানচিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। নেটওয়ার্ক এখন আর গতির লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, তা হয়ে উঠেছে প্রাত্যহিক জীবনের অদৃশ্য মেরুদণ্ড। তাই, ডিজিটাল অর্থনীতির চাকা নির্ভর করছে সুষ্ঠু পরিষেবা প্রদানের উপর।
ইন্টারনেটের স্পিড কত, তা নিয়ে এখন আর সাধারণ গ্রাহক মাথা ঘামান না। বরং তাঁদের নজর থাকে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের দিকে। ইউপিআই পেমেন্ট করার সময় গোলমাল বা কাজের মাঝপথে বাফার হওয়া এখন আর নিছক বিরক্তি নয়, পরিকাঠামোর ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়। নেটওয়ার্কের বিচার এখন আর তার পিক পারফরম্যান্স দিয়ে হয় না, বরং তার স্থায়িত্ব এবং ধারাবাহিকতা দিয়ে হয়।
ছবি: সংগৃহীত
ডিজিটাল দুনিয়া যত বড় হচ্ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিপদ। স্প্যাম কল, ফিশিং বা আর্থিক জালিয়াতি এখন নিত্যদিনের সমস্যা। সাধারণ মানুষ এখন শুধু ডেটা চান না, চান নিরাপত্তা। এয়ারটেলের (Airtel) মতো সংস্থাগুলি তাই নেটওয়ার্কের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করছে। উদ্দেশ্য একটাই—ক্ষতিকর কল বা মেসেজ গ্রাহকের ফোনে পৌঁছনোর আগেই আটকে দেওয়া। সুরক্ষা এখন আর ইউজারের একার দায় নেই, তা পরিষেবা প্রদানকারীর কর্তব্যে পরিণত হয়েছে।
আলাদা আলাদা ওটিটি সাবস্ক্রিপশন বা কেবল টিভির ঝক্কি এখন অতীত। মানুষ চাইছে এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে টিভি চ্যানেল এবং স্ট্রিমিং অ্যাপ থাকবে একই সঙ্গে। যেমন এয়ারটেল আইপিটিভি ৬৫০টিরও বেশি চ্যানেল এবং ২২টিরও বেশি অ্যাপকে এক জায়গায় নিয়ে এসেছে। একটি বক্স, একটি কানেকশন—ব্যাস। প্রযুক্তিকে মানুষের জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই এখন আসল উদ্দেশ্য।
আজকের ভারতে কানেক্টিভিটি মানে কেবল সিগন্যাল নয়, তা হল এক গভীর অংশীদারিত্ব। পেমেন্ট থেকে বিনোদন, শিক্ষা থেকে অফিস—সবটাই দাঁড়িয়ে আছে এক অদৃশ্য তারের ওপর। এই 'অলওয়েজ অন' বা সর্বদাই সচল থাকার নেশা ভারতকে এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে। যেখানে প্রযুক্তি সামনের সারিতে এসে বাহবা কুড়োয় না, বরং নিঃশব্দে জীবনকে গতিশীল রাখে।
