মানুষ হোক পশুপাখি, একটা সময়ের পর বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যায় সকলেই। স্বাভাবিকভাবে চারপেয়েদের ক্ষেত্রেও এই যুক্তি প্রযোজ্য। কিন্তু কিছু মানুষ যেমন এভারগ্রিন হন, বয়স ৬০-এর গণ্ডি পেরলেও ধরে রাখেন তারুণ্য, তেমনটা হয় সারমেয়দের ক্ষেত্রেও। বিশেষ একটি প্রজাতির কুকুরের জীবনে বার্ধক্য আসে স্বাভাবিকের থেকে খানিকটা দেরিতে। যদিও তার নেপথ্যে রয়েছে কারণও। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক সেগুলোই।
এই প্রজাতির নাম চিহুয়াহুয়া। এটি মেক্সিকান কুকুর। যা আকারে বিশ্বের সব কুকুরের চেয়ে ছোট। সাধারণত বলা হয় যে কোনও কুকুরের গড় আয়ু ১৪ থেকে ১৫ বছর। স্বাভাবিক নিয়মেই একটা বয়সের পর খানিকটা ঝিমিয়ে পড়ে কুকুরেরা। কিন্তু চিহুয়াহুয়ার ক্ষেত্রে এই প্রবণতা তৈরি হয় বাকিদের থেকে অনেকটা পড়ে। বয়স বাড়লেও এরা চনমনে থাকে। এই প্রজাতির বহু কুকুরের মালিকরা জানিয়েছেন, জীবনের শেষ লগ্নে পৌঁছেও তারুণ্যে ভরপুর থাকে এরা। এতেই প্রশ্ন ওঠে, কেন অন্য প্রজাতির তুলনায় ধীরে বুড়ো হয় এরা? শুধুই কি আকারের জন্য? নাকি নেপথ্যে লুকিয়ে অন্য কারণ?
বিশেষজ্ঞদের কথায়, এর মূল কারণ হচ্ছে আকার। বড় আকৃতির কুকুরদের তুলনায় ছোটদের জীবনকাল হয় ব়ড়। বড় আকারের কুকুরেরা তাড়াতাড়ি বড় হয়। ফলে ওদের শরীর খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ফলে দ্রুত বুড়িয়ে যায় ওরা। এদিকে ছোট প্রজাতির কুকুরদের শারীরিক পরিবর্তন হয় তুলনামূলক ধীর গতিতে। চিহুয়াহুয়া সব থেকে ছোট প্রজাতির হওয়ায় এরা সব থেকে বেশিদিন অ্যাকটিভ থাকে। ঠিকমতো যত্ন পেলে স্বাভাবিকের থেকেও বেশি সময় বেঁচে থাকে এরা।
তবে নেপথ্যে রয়েছে আরও কারণ। চিহুয়াহুয়ারা অতিরিক্ত সতর্ক, কৌতূহলী এবং সক্রিয় স্বভাবের। এরা চারপাশ ঘুরে দেখতে এবং মালিকদের সঙ্গে মিশতে ভালোবাসে। ফলে বয়স বাড়লেও এরা প্রাণবন্ত থাকে। কারণ, এরা ভাবতেই চায় না যে বয়স বাড়ছে। এরা আসলে মনের বয়স বাড়তেই দেয় না। রয়েছে জিনগত কারণও। সেই কারণেও এরা বছরের পর বছর ধরে রাখে তারুণ্য।
