পথ দুর্ঘটনা রোধে এবার প্রযুক্তিই হাতিয়ার কেন্দ্রের। এবার রাস্তায় যেতে যেতে কথা বলবে গাড়ি! প্রতি মুহূর্তে সতর্ক করবে চালককে। অবাক হচ্ছেন তো? কিন্তু এটাই সত্যি। ইতিমধ্যেই এবিষয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, চলতি বছরের শেষেই গাড়ি কথা বলবে।
নিশ্চয়ই ভাবছেন ব্যাপারটা ঠিক কী? সম্প্রতি দুর্ঘটনা রোধে প্রযুক্তির ব্যবহারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি। তিনি জানান, V2V অর্থাৎ ভেহিকেল টু ভেহিকেল কমিউনিকেশন টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে। প্রতিমুহূর্তে কোথায় রাস্তা খারাপ, কোথায় জ্যাম, গাড়ির গতি-সহ একাধিক তথ্যে জানিয়ে দেবে গাড়িই। যদি আচমকা কোনও গাড়ি বিপজ্জনকভাবে ছুটে আসে, তাও জানা যাবে আগেভাগেই। ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কিন্তু কীভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? জানা গিয়েছে, সিম কার্ডের মতো একটি ডিভাইস ইনস্টল করা হবে প্রতিটি গাড়িতে। যদি কোনও গাড়ি বিপজ্জনক গতিতে ছুটে আসে তাহলে ওই ডিভাইসের মাধ্যমে মিলবে সতর্কবার্তা। এখানেই শেষ নয়। যাত্রাপথের কোথায় গাড়ি পার্ক করা রয়েছে। পিছনের গাড়ির সঙ্গে দূরত্ব কতটা, তাও জানিয়ে দেবে প্রযুক্তি। শীতকালে ভোরে ও রাতে রাস্তায় গাড়ি চালানো বেশ কঠিন হয়ে ওঠে। কারণ কুয়াশার জেরে দৃশ্যমানতা একেবারে কমে যায়। একহাত দূরের জিনিসও দেখা যায় না অনেক সময়। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ডিভাইস কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতেও কার্যকরী হবে বলেই খবর। প্রসঙ্গত, বর্তমানে কিছু SUV-তে এই ব্যবস্থা রয়েছে। তবে তা সেন্সরে কাজ করে। V2V কমিউনিকেশন হবে নেটওয়ার্কের ভিত্তিতে।
সিম কার্ডের মতো একটি ডিভাইস ইনস্টল করা হবে প্রতিটি গাড়িতে। যদি কোনও গাড়ি বিপজ্জনক গতিতে ছুটে আসে তাহলে ওই ডিভাইসের মাধ্যমে মিলবে সতর্কবার্তা।
ভাবছেন তো এর খরচ কত? সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, গোটা প্রকল্পে খরচ হবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। গাড়িতে ডিভাইসটি ইনস্টল করতে হবে নিজের খরচায়। তবে তার জন্য কত গুণতে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
