ইউজারদের আচ্ছন্ন করে রাখার অভিযোগ মেটা বা ইউটিউবের বিরুদ্ধে আগেই উঠেছে। এবার একই অভিযোগে বিদ্ধ নেটফ্লিক্স। আমেরিকার টেক্সাস প্রদেশে ইতিমধ্যেই এমন অভিযোগে একটি মামলা রুজু হয়েছে জনপ্রিয় এই ওটিটি মঞ্চের বিরুদ্ধে।
ঠিক কী অভিযোগ? বলা হচ্ছে নেটফ্লিক্স তার ইউজারদের উপরে নজরদারি চালায়। তাঁদের অনুমতি না নিয়েই হাতিয়ে নেয় ডেটা। আর তারপর ডার্ক প্যাটার্ন ব্যবহার করে ইউজারদের জন্য এমন পরিষেবার পরিকল্পনা করে, যাতে পছন্দের সিনেমা বা ওয়েব সিরিজে মেতে ওঠেন ইউজাররা। রীতিমতো নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আর এই ফন্দি থেকে বাদ যায় না শিশুরাও।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, 'নেটফ্লিক্সের খেলাটা খুব সহজ ও লোভনীয়। শিশু-সহ গোটা পরিবারকে স্ক্রিনের সামনে আটকে রাখো। তাদের তথ্যগুলো হাতিয়ে নাও।'
রয়টার্স সূত্রে জানা যাচ্ছে, নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছে টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের কার্যালয়ে। নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মূলত সেইসব তথ্যকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত, যা তারা ইউজারদের থেকে সংগ্রহ করে এবং পরবর্তীতে সেই তথ্য ব্যবহার করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, 'নেটফ্লিক্সের খেলাটা খুব সহজ ও লোভনীয়। শিশু-সহ গোটা পরিবারকে স্ক্রিনের সামনে আটকে রাখো। তাদের তথ্যগুলো হাতিয়ে নাও। তারপর সেই তথ্য থেকে বিপুল লাভ করো। অর্থাৎ আপনি যখন নেটফ্লিক্স দেখেন, নেটফ্লিক্সও আপনাকে দেখে।'
সত্যিই কি নেটফ্লিক্স এমন কিছু করে? অভিযোগে যে বলা হচ্ছে, নেটফ্লিক্স দেখার সময় নেটফ্লিক্সও সত্যিই নজরে রাখে ইউজারদের। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কথাটা আসলে আক্ষরিক অর্থে সত্যি নয়। বরং একে আলঙ্কারিক উক্তি হিসেবেই গণ্য করা যায়। মনে করা হচ্ছে, নেটফ্লিক্স সম্ভবত ইউজাররা যখন তাদের স্ট্রিমিং অ্যাপটি ব্যবহার করেন, তখন তাঁদের ব্যবহারের ধরন বা আচরণবিধিকেই পর্যবেক্ষণ করে থাকে। আর সেই অনুযায়ী তাঁদের হোম পেজ সাজানোর কাজটি করার চেষ্টা করে। যাতে পছন্দের কনটেন্টের সারি দেখে ইউজাররা সেখানেই আটকে থাকেন।
