ঘরদোর পরিপাটি করে সাজাতে কে না ভালোবাসে? কিন্তু সেই সাজগোজের আড়ালে যদি বাসা বাঁধে অমঙ্গল! অজান্তেই নিজের লক্ষ্মীলাভের পথ আটকে দিচ্ছেন না তো আপনি? অনেক সময় জায়গার অভাবে আমরা দরজার পিছনে হুক লাগিয়ে জামাকাপড়, ব্যাগ বা দরকারি জিনিস ঝুলিয়ে রাখি। আপাতদৃষ্টিতে একে সাধারণ মনে হলেও, বাস্তুশাস্ত্র বলছে এই অভ্যাসই হতে পারে দুর্ভাগ্যের কারণ।
বাস্তুমতে, দরজা হল যে কোনও গৃহের শক্তি প্রবেশের প্রধান দ্বার। সেই প্রবেশপথেই যদি বাধার পাহাড় জমে থাকে, তবে ইতিবাচক শক্তি ঘরে ঢুকবে কী করে? মনে রাখবেন, দরজার পিছনটা কোনও স্টোররুম নয়। সেখানে রাশি রাশি জামাকাপড় বা ভারী ব্যাগ ঝোলানো মানেই হল ‘অবরোধ দোষ’। এই দোষ একবার লাগলে ঘরের সদস্যদের উন্নতির পথ রুদ্ধ হয়। সাফল্যের দুয়ার কিছুতেই খোলে না।
বাস্তুবিদদের মতে, দরজার উপরিভাগ স্বয়ং দেবী লক্ষ্মীর স্থান। সেখানে নোংরা বা ব্যবহার করা জামাকাপড় ঝুলিয়ে রাখা মানেই মা লক্ষ্মীকে অপমান করা। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আপনার মানিব্যাগে। আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পাল্লা ভারী হয়। ধীরে ধীরে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে পরিবার। শুধু তাই নয়, দরজার পিছনে লোহা বা ধারের কিছু ঝুলিয়ে রাখলে মানসিক অশান্তি চরমে ওঠে। খিটখিটে মেজাজ আর অকারণ ঝগড়ায় ঘরের শান্তি জানলা দিয়ে পালায়।
বাস্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দরজার পিছনে জামাকাপড় ঝোলালে নেতিবাচক শক্তি বা ‘নেগেটিভ এনার্জি’ প্রবল ভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে চাকরি বা ব্যবসায় মন্দা অনিবার্য। এমনকী প্রিয়জনের সঙ্গে সম্পর্কের বাঁধনও আলগা হতে থাকে। তাই দেরি হওয়ার আগে সতর্ক হোন। আজই দরজার পিছন পরিষ্কার করুন। ঘরকে রাখুন জঞ্জালমুক্ত। মনে রাখবেন, পরিচ্ছন্ন আর বাধাহীন প্রবেশপথই কিন্তু সৌভাগ্যের আসল চাবিকাঠি। নিজের ঘরকে শুধু সুন্দর নয়, বাস্তুসম্মত ভাবে সাজিয়ে তুলুন। তবেই ফিরবে শ্রী, আসবে কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধি।
