ফের কুড়ি হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে ওরাকেল। ফের কৃত্রিম মেধার উপর ভরসা রেখেই সিনিয়র পদাধিকারী কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার পথে এই বহুজাতিক তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা। চলতি মাসের শুরুতেও বড় সংখ্যার কর্মী ছাঁটাই করেছে ওরাকেল। সেই সময় এক কোপে ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করে এই বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। তার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার গণছাঁটাই ওরাকেলে। এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে।
ছাঁটাইয়ের কারণ হিসাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দায়ী করেছেন সংস্থার কর্মীরা। দাবি উঠেছে, কৃত্রিম মেধা সংক্রান্ত পরিকাঠামোয় ব্যয় বাড়ানোর জন্য সফটওয়্যার সংস্থাটি এই চরম পদক্ষেপ করছে। এবারও সেই কারণেই এবং সেই লক্ষ্যেই কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আমেরিকা, ভারত, কানাডা এবং দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে মোট এই সংখ্যক কর্মীকে নিজেদের পে রোল থেকে সরিয়ে দিয়েছে ওরাকেল। বহু পুরনো কর্মী, অভিজ্ঞ এবং দক্ষ কর্মীর নামও রয়েছে এই ছাঁটাইয়ের তালিকায়। তবে কাজ হারালেও ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাটি। বিশেষত, কাজ হারানো মার্কিন কর্মীরা চার সপ্তাহের মূল বেতন পাবেন। তবে ২৬ সপ্তাহের বেশি ক্ষতিপূরণ কাউকেই দেওয়া হবে না। এছাড়া কর্মীদের স্বাস্থ্য বিমা এবং অন্যান্য প্রাপ্য আর্থিক সুবিধাও দেবে এই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা।
উল্লেখ্য, কৃত্রিম মেধাই সংস্থার ভবিষ্যৎ। সেকথা মাথায় রেখে ডেটা সেন্টার নির্মাণে ওরাকেল সম্প্রতি ১৫৬ বিলিয়ান ডলার বিনিয়োগ করেছে। মূলত ওপেনএআই-এর জন্য বিনিয়োগ। এই বিপুল খরচের অন্যতম কারণ ডেটা সেন্টারের জন্য ৩ মিলিয়ান বিশেষ ধরনের চিপ কেনা। প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়াও এর জন্য বছরে ৬.৯ বিলিয়ান থেকে ৫০ বিলিয়ান অবধি খরচ হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের কারণেই সংস্থাটি কর্মী ছাঁটাই-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচের পথে হাঁটছে।
