shono
Advertisement
ChatGPT

নেটভুবনে হঠাৎই ট্রেন্ডিং ‘বয়কট চ্যাটজিপিটি’, নেপথ্যে কোন কারণ?

প্রযুক্তি দুনিয়ায় উলটোপুরাণ। যে চ্যাটজিপিটি এক সময় মানুষের মুখে মুখে ফিরত, আজ সেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর বিরুদ্ধেই গড়ে উঠেছে এক বিশাল জনমত। নাম দেওয়া হয়েছে ‘কুইট জিপিটি’। নেপথ্যে কোন কারণ?
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 09:02 PM Mar 06, 2026Updated: 09:02 PM Mar 06, 2026

প্রযুক্তি দুনিয়ায় উলটোপুরাণ। যে চ্যাটজিপিটি এক সময় মানুষের মুখে মুখে ফিরত, আজ সেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর বিরুদ্ধেই গড়ে উঠেছে এক বিশাল জনমত। নাম দেওয়া হয়েছে ‘কুইট জিপিটি’। নেপথ্যে কোন কারণ?

Advertisement

ইতিমধ্যেই আমেরিকায় প্রায় দশ লক্ষেরও বেশি গ্রাহক তাঁদের চ্যাটজিপিটি সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেছেন। মার্ক রাফালো বা কেটি পেরির মতো তারকারা এই আন্দোলনে শামিল হওয়ায় সাধারণ মানুষের উৎসাহ বেড়েছে কয়েক গুণ। কিন্তু কেন হঠাৎ এই বিদ্রোহ? নেপথ্যে রয়েছে ওপেনএআই-এর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নীতিহীন ব্যবসায়িক কৌশল।

অভিযোগ উঠেছে, ওপেনএআই-এর প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী তহবিলে প্রায় আড়াই কোটি ডলার দান করেছেন। প্রযুক্তি মহলের দাবি, মানবতার কল্যাণের দোহাই দিলেও আসলে এই অর্থ খরচ করা হচ্ছে এক বিশেষ রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায়। এখানেই শেষ নয়, অভিবাসন দপ্তর বা আইসিই-এর মতো সংস্থাগুলিও চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছে বলে খবর। অভিযোগ, এর মাধ্যমে দেশ থেকে বিতাড়ন বা ধরপাকড়ের মতো কাজে এআই-কে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে পেন্টাগনের সঙ্গে হওয়া একটি চুক্তি নিয়ে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর যখন এআই সংস্থাগুলির কাছে গণনজরদারি এবং স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রযুক্তি চেয়েছিল, তখন তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা ‘অ্যানথ্রোপিক’ সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করে। ট্রাম্প প্রশাসন পালটা তাদের ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি’ হিসেবে ঘোষণা করে কোণঠাসা করার চেষ্টা করে। কিন্তু ওপেনএআই কোনও নৈতিকতার ধার না ধেরে সেই সুযোগ লুফে নেয়। তারা পেন্টাগনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যুদ্ধের ময়দানে এআই নামাতে রাজি হয়।

আর্থিক দিক থেকেও কোণঠাসা ওপেনএআই। চলতি বছরে তাদের প্রায় ১৪০০ কোটি ডলার লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারের শেয়ার ৬৯ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৫ শতাংশে। ইতিহাস বলছে, যে কোনও বয়কট আন্দোলন সফল হয় তখনই, যখন তার লক্ষ্য থাকে স্পষ্ট এবং বিকল্প থাকে হাতের কাছে। চ্যাটজিপিটি ছেড়ে এখন মানুষ ক্লড বা অন্যান্য উন্নত এআই-এর দিকে ঝুঁকছে।

ঐতিহাসিক ব্রেগম্যান মনে করিয়ে দিয়েছেন ১৯৫৫ সালের মন্টগোমারি বাস বয়কটের কথা। সেদিন একটা ছোট পদক্ষেপ যেভাবে বর্ণবিদ্বেষের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল, আজকের ‘কুইট জিপিটি’ আন্দোলনও সেভাবেই প্রযুক্তির স্বৈরাচার রুখে দিতে পারে। আপনার দশ সেকেন্ডের একটা সিদ্ধান্তই হতে পারে সিলিকন ভ্যালির জন্য এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement