টেলিভিশন এবং সিনেমায় তাঁর সাবলীল যাতায়াত। তবে জনপ্রিয়তার নিরিখে এই মুহূর্তে ছোটপর্দাতেই পাল্লা ভারী স্বস্তিকা দত্ত-র। স্টার জলসায় ‘বিদ্যা ব্যানার্জি’র আবেদনে মাত দর্শক। ইদানীং কোনও সিনেমার প্রিমিয়ার বা পার্টিতে দেখা যাচ্ছে না তাঁকে। কেন? ‘পার্টি আর প্রিমিয়ার কিন্তু আলাদা। কোন প্রিমিয়ারের কথা বলছেন?’ অভিনেত্রীর প্রশ্ন। ‘ফুলপিসি’র নির্মাতাদের সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন দুটি ছবিতে, তাও সে ছবির প্রিমিয়ারে দেখা গেল না কেন?
"আমি নিজেকে ঠিক করার চেষ্টা করছি। অনেক রকম মানসিক ওঠাপড়া পেরিয়ে এসেছি। তাই তাড়াহুড়ো করে কোনও সম্পর্কে জড়াতে চাই না। সব থেকে বড় কথা, প্রেমের জন্য নিজেকে জানা দরকার।"
স্বস্তিকা দত্ত
স্বস্তিকার জবাব, "ওঁরা যেহেতু জানেন আমি এখন সিরিয়ালে যুক্ত, তাই হয়তো বলেননি। আমি ‘ফেরা’র প্রিমিয়ারেও যেতে পারিনি আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও। যেহেতু দুটি সিরিয়ালের মহাপর্ব আসছে, ‘পরশুরাম’ আর ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’র। বেশ চাপ ছিল। আমরা ঈশ্বরের আশীর্বাদে দর্শকের মন জয় করতে পেরেছি। এমনকী, শনিবার ডিজাইনার অভিষেক রায়ের একটি গেট টুগেদারেও যেতে পারিনি। আমাদের ঠিক ৯.২৮-এ প্যাকআপ হয়। তবুও শহর থেকে অনেকটা দূরে আমরা শুট করি বলে, সময় ম্যানেজ করে যাওয়া হয়নি। শুটিংয়ের পরে আর কিচ্ছু চাই না। আমি তো ভীষণ অলস। বাড়ি গিয়ে মেকআপ তুলে নিজের মতো থাকতে চাই। যখন যে কাজ করি তাই নিয়েই থাকি। তাই আমাকে হয়তো আগে ছেড়ে দেবে, কিন্তু আমি মনে করি কাজের একটা দায়িত্ব আছে।" স্পষ্ট বললেন স্বস্তিকা।
অন্যদিকে বিদ্যা আর রাজরীতের প্রেমের গুঞ্জন কতটা সত্যি? নায়িকার জবাব, ‘বিদ্যা তো রাজরীতের প্রেমে হাবুডুবু।’ আর অফস্ক্রিন? ‘তাহলে তো স্বস্তিকা হয়ে যাবে। আমি আর অর্ণব খুব ভালো বন্ধু। সেটাই অন স্ক্রিনেও দেখতে পায় দর্শক। আমরা চোখে চোখে কথা বলি। পরিচালকের উপরেও একসঙ্গে রেগে যাই। মজা করে কাজটা করছি।’ বলছেন অভিনেত্রী। তাহলে প্রেমের সম্পর্ক? স্বস্তিকার কথায়, ‘আমি এই মুহূর্তে অন্যরকম মানসিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। মাথায় অনেক কিছুই চলছে। মিউজিক থেরাপি নিচ্ছি, বই পড়ছি। আমি নিজেকে ঠিক করার চেষ্টা করছি। অনেক রকম মানসিক ওঠাপড়া পেরিয়ে এসেছি। তাই তাড়াহুড়ো করে কোনও সম্পর্কে জড়াতে চাই না। সব থেকে বড় কথা, প্রেমের জন্য নিজেকে জানা দরকার। আমার মনে হয়, কোনও সম্পর্কে জড়াতে গেলে নিজেকে তৈরি করা দরকার। না হলে অপর দিকের মানুষটার ক্ষতি হয়। এই মুহূর্তে সম্পর্ক নিয়ে ছেলেখেলা করার বয়স বা সময় কোনওটাই আমাদের দুজনের নেই।"
"অনেক কথাই কানে আসে। যে ব্লুজ প্রোডাকশনে কাজ করতে গেলে তেল দিতে হয়। বা আমি সারাক্ষণ দাদা দাদা বলে বাটারিং করি।..."
স্বস্তিকা দত্ত
দর্শকের ভালোবাসায় আপ্লুত ‘বিদ্যা’। ফলে কাজেই মন এখন। রসিকতা করে স্বস্তিকা জুড়লেন, "আমরা আসলে মেশিন। ইঞ্জিন তো স্নেহাশিস চক্রবর্তীর লেখা। উনি যেমনভাবে আমাদের দেখাতে চান আমরা সেইভাবেই দর্শকদের মনোরঞ্জন করি।" ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’র মাধ্যমেই বেশ কয়েক বছর পর আবার ছোটপর্দায় ফিরেছেন স্বস্তিকা। কামব্যাকের কৃতিত্ব তিনি সবসময় দিয়েছেন স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে। তবে সেই নিয়েও কম কথা শুনতে হয়নি তাঁকে। স্বস্তিকার সংযোজন, "অনেক কথাই কানে আসে। যে ব্লুজ প্রোডাকশনে কাজ করতে গেলে তেল দিতে হয়। বা আমি সারাক্ষণ দাদা দাদা বলে বাটারিং করি। কিন্তু মাখন লাগানোর জন্যও হাতে ছুরির ব্যবহার করতে হয়। আমি সেইটুকু অসম্মানও করতে পারব না।" এর পরেই ডাক পড়ল, বিদ্যার শট রেডি!
