সিকিমের দুর্গম প্রাচীন সিল্ক রুটে কলকাতার ৮০ জন পর্যটক। পাহাড়ি পাথুরে পথের পাকদণ্ডী বেয়ে ওরা ছুয়ে দেখার চেষ্টা করছেন অতীত ইতিহাস! কালিম্পংয়ের রেশি, রেনক এবং জেলেপ-লা পাস হয়ে তিব্বতের লাসা চলে গিয়েছে ওই প্রাচীন বাণিজ্য পথ। একসময় বণিকরা খচ্চরদের পিঠে মালপত্র তুলে ওই বাণিজ্য পথে লাসা থেকে কালিম্পংয়ে পৌঁছাতেন। সেই ঐতিহাসিক বাণিজ্য পথ পুনরুজ্জীবিত করতে 'রেনক ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি'-র উদ্যোগে অভিযান শুরু হয়েছে সোমবার।
'রেনক ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি'-র সভাপতি বিনোদ সুব্বা বলেন, "পর্যটকরা সাড়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে রোমাঞ্চকর ট্রেকিং করেছেন। খাড়া পাথুরে রুট। কষ্টসাধ্য হলেও এখানে ট্রেকাররা অতীতকে ছুয়ে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। প্রকৃতি এবং ঐতিহ্য একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার এখানে।"
সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন দিনের ট্রেক শেষ হয়েছে বুধবার। খাড়া পথের জন্য সাড়ে ৬ কিলোমিটার ট্রেকিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট করা ছিল। পর্যটকদের রেশির রানিবন রিসোর্টে থাকার ব্যবস্থা ছিল। সেটাই তাদের বেসক্যাম্প হিসেবে কাজ করেছে। এখান থেকে তাদের যাত্রা শুরু হয়। প্রাচীনকালে কালিম্পং থেকে তিব্বতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে বণিকদল রেনকে রাত্রিযাপন করতেন।
বিনোদ সুব্বা জানান, কলকাতা ট্রেকার্স ইয়ুথের দলটি ইতিহাসের পাশাপাশি নদী, জঙ্গল ও প্রাকৃতিক নৈসর্গিক দৃশ্যপটকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। চলার পথে দলটি প্রাচীনকালের নিদর্শন, পাথুরে পথ, প্রাচীন বিশ্রামস্থল এবং পাথরের খাল যেখানে ঘোড়া এবং খচ্চরদের একসময় জল পান করানো হতো সেসব পেয়েছেন। রেনক বাজারে পৌঁছানোর পর, ট্রেকিং দলটিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। পিকেকে ড্যান্স একাডেমি ঐতিহ্যবাহী মারুনি নৃত্য পরিবেশন করে।
