ভেনেজুয়েলার মতোই এবার কি ইরানে হামলা চালাবে আমেরিকা? সোমবার গভীর রাতে মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের নির্দেশে তেহরানের মার্কিন দূতাবাস বার্তা দিয়েছে, বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে এখনই ইরান ছাড়ুন! কোন দুই দেশ হয়ে সহজে ইরান ছাড়া যাবে, তা-ও জানানো হয়েছে এই সতর্কবার্তায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, সম্ভবত ইরানে হামলা চালানোর আগে নিজের দেশে নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্যই চূড়ান্ত নির্দেশিকা।
ইরানে মূল্যবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য-শিক্ষা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, কট্টরপন্থী ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। অভিযোগ, বিক্ষোভ রুখতে হিংসাত্মক দমন-পীড়ন চালাচ্ছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সোমবার পর্যন্ত ইরানে ৬৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলবন্দি ১০,৬০০ জন বিদ্রোহী। এই অবস্থায় তেহরানের মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তায় লেখা হয়েছে, “ইরানের বিক্ষোভ হিংসাত্মক আকার নিতে পারে। এর ফলে ব্যাপক ধরপাকড় এবং জখম হওয়ার ঘটনাও ঘটবে। রাস্তা এবং গণপরিবহণ বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।” যেহেতু দেশটির অধিকাংশ বিমানসংস্থা উড়ান বন্ধ রেখেছে। ফলে স্থলপথে আর্মেনিয়া এবং তুরস্ক হয়ে ইরান ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে মার্কিন নাগরিকদের।
ইরানে মূল্যবৃদ্ধ, স্বাস্থ্য-শিক্ষা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, কট্টরপন্থী ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।
ইরানে গত ২৮ ডিসেম্বরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন বৃহত্তর আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। রাজধানী তেহরান ছাড়িয়ে দেশের অন্য শহরেও বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনে কঠোর ইরান প্রশাসন নির্বিচারে প্রতিবাদীদের উপর গুলি চালাচ্ছে। তাতেই এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৬৪৮। এই অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যেভাবে বিক্ষোভকারীদের উপর দমননীতি চালাচ্ছে ইরান, তার ভিত্তিতে সেখানে মার্কিন হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
প্রশ্ন উঠছে, এবার কি হস্তক্ষেপের (পড়ুন হামলা) চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে আমেরিকা? সেই কারণেই নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়তে বলা হচ্ছে? অন্যদিকে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরানও। তারা জানিয়েছে, ইরানে হামলা হলে ইজরায়েল এবং পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সামরিক কেন্দ্রগুলিতে ‘নিশানা’ করা হবে। সব মিলিয়ে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে ঘনাচ্ছে যুদ্ধের মেঘ!
